চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

র‌্যাবের প্রমোশনাল ভিডিও নয়, বাণিজ্যিক ছবি করুন: দীপঙ্করকে বেনজির

র‌্যাবের দুঃসাহসিক অভিযান নিয়ে দীপঙ্কর দীপন নির্মাণ করতে যাচ্ছেন ‘অপারেশন সুন্দরবন’, নভেম্বরে শুটিং…

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-কে নিয়ে প্রমোশনাল ভিডিও বা ডকুমেন্টারি নয়, একেবারে ফিচার ফিল্ম নির্মাণের কথা নির্মাতা দীপঙ্কর দীপনের কাছে সরাসরি প্রস্তাব করেছিলেন র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর একটি রেঁস্তুরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানান র‌্যাবের এই মহাপরিচালক।

বিজ্ঞাপন

সুন্দরবনকে জলদস্যুহীন করতে র‌্যাবের দুঃসাহসিক অভিযান নিয়ে র‌্যাব কল্যাণ ট্রাস্ট ও থ্রি হুইলার্স যৌথভাবে নির্মাণ করতে যাচ্ছে চলচ্চিত্র ‘অপারেশন সুন্দরবন’। ছবিটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন ‘ঢাকা অ্যাটাক’ খ্যাত নির্মাতা দীপঙ্কর দীপন। ছবিটির চুক্তিসই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেনজির আহমেদ ও দীপঙ্কর দীপন ছাড়াও এফডিসির বর্তমান এমডি আব্দুল করিম, পরিচালক সমিতির সভাপতি গুলজার আহমেদসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকে।

দীপনের নতুন ছবি ‘অপারেশন সুন্দরবন’-এর প্রেক্ষাপট হবে র‍্যাবের দুঃসাহসিক অভিযান ও সুন্দরবনের জলদস্যু, প্রাকৃতিক বৈচিত্র এসব নিয়ে। এ ছবি নির্মাণে এগিয়ে এসেছে র‍্যাব। ছবির প্রসঙ্গ টেনে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, দীপনকে বলেছি র‍্যাবের প্রমোশনাল ভিডিও নয়, পুরোপুরি বাণিজ্যিক সিনেমা উপহার দিতে। এজন্য তাকে দেড় বছর ধরে অপারেশন সুন্দরবন নিয়ে রিসার্স করিয়েছি। ভিএফএক্সসহ নতুন এ ছবির খরচ দাঁড়াবে ৪ কোটি টাকার মতো।

চার কোটি টাকা খরচ করে সিনেমা নির্মাণ করে লাভ করা সম্ভব কিনা, এমন প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন বেনজির নিজেই। তিনি মনে করেন, ৪ কোটি টাকা সিনেমা হল থেকে তুলতে গেলে ২০ কোটি টাকার টিকেট বিক্রি করতে হবে। বর্তমানে সেই ব্যবস্থাপনা চলছে। ১০ টাকার টিকেট বিক্রি করলে প্রযোজকের পকেটে আসছে তুলনামূলক ২ টাকা। ১ টাকা বিক্রি করলে ৮০ পয়সা অন্যরা নিয়ে যাচ্ছে। আমি বিনিয়োগ করে আয় করবো, মধু খেয়ে যাবে আরেকজন! অদ্ভুদ এক ব্যবস্থা!

র‌্যাবের দুঃসাহসিক অভিযান নিয়ে ‘অপারেশন সুন্দরবন’ নির্মাণ করছেন দীপঙ্কর দীপন

চলচ্চিত্রে বিনিয়োগ করে লাভ করা সম্ভব, এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি কিছু দিক নির্দেশনার কথাও বলেন। এ বিষয়ে বেনজির আহমেদ বলেন, দেশে প্রায় ১৮ কোটি মানুষ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাঙালি বসবাস করে। সবমিলিয়ে ৩৬ কোটির মতো বাঙালি সারা বিশ্বে রয়েছে। এতো মানুষের মাঝে সিনেমায় বিনিয়োগের জন্য কর্পোরেট বিনিয়োগ আসা খুব সহজ। প্রযোজক যদি তারা ন্যায্য টাকা ফেরত পান, তবে প্রচুর বিনিয়োগকারী এখানে আসবেন। সেন্ট্রাল সার্ভারের দরকার রয়েছে। সিনেমা হলগুলোকে ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করতে হবে। ফেয়ার কম্পিটিশনের ব্যবস্থা করতে হবে। র‍্যাবের কল্যাণ ট্রাষ্ট থেকে একবার খোঁজ নিয়েছিলাম, ২০ কোটি টাকার মতো খরচ করলে প্রধান কয়েকটি সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে। আরও যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো ঠিক করতে সবমিলিয়ে ৩৫ কোটি টাকার মতো লাগবে।

সরকার কর্তৃক পাইরেসি নিমূল কমিটির আহ্বায়ক বেনজীর আহমেদ। সেজন্য তিনি এ সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখেন বলে জানান।

র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ এবং এফডিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম পরস্পর বন্ধু। বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন তারা ছিলেন সহপাঠী। সেই সূত্রে দুজনার মধ্যে চমৎকার হৃদ্যতা। বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘অপারেশন সুন্দরবন’-এর চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তারা দুজনেই অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

নানা সমস্যায় জর্জরিত এই প্রতিষ্ঠানটিকে (এফডিসি) আধুনিক করতে র‍্যাব মহাপরিচালক বেনজির তার বন্ধু এফডিসির নতুন এমডি আবদুল করিমকে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে কিছু পরামর্শ দিলেন।

বেনজির আহমেদ বলেন, চলচ্চিত্র শুধু বিনোদন নয়, জীবনের এক বিশাল ক্যানভাস। বর্তমানে চলচ্চিত্র তৈরির জায়গা এফডিসি আধুনিকতার অনেক ছোঁয়া থেকে দূরে। আমার বন্ধু আবদুল করিম সাহিত্যের ছাত্র। তার অ্যানালিটিকাল মাইন্ড রয়েছে। সে আমাকে ফোন করে জানায়, বন্ধু আমার এফডিসিতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমি তাকে স্বাগত জানাই। এও বলি, আমার সব সাপোর্ট তোমার সঙ্গে থাকবে। আমি মনে করি তার হাত ধরে এফডিসি আরও এগিয়ে যাবে।

এফডিসির বর্তমান এমডি আব্দুল করিমের সাথে বেনজির আহমেদ

তিনি বলেন, বর্তমানে যিনি এই অঙ্গনের মন্ত্রী আছেন তিনি ‘ম্যান অব ড্রাইভ’। তাকে নিয়ে অন্তত একবার হলেও মার্কিন মুলুকের লস অ্যাঞ্জেলসের হলিউড ঘুরে আসো বন্ধু। মডার্ন স্টুডিও কেমন হতে পারে সবকিছুই জানতে পারবে।

এমডিকে উদ্দেশ্যে করে র‍্যাবের মহাপরিচালক বলেন, যদি তোমার অর্থের ঘাটতি থাকে ছুটি নিয়ে সরকারি হস্তক্ষেপে সেখানে যাও। জাতিকে যখন ইকোনমিক্যালি উন্নত হতে হয় বিশ্বকে তখন জানান দিতে হয়। মালয়েশিয়া, হংকং, দুবাই জাতি যখন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করছিল তারা বিশ্বকে জানান দিয়েছে। আমরাও এখন যা করবো সেটা হতে হবে সিগনেচার। কিছু একটা দরকার হলেই আমরা দৌড়াই মুম্বাই, কলকাতাতে। এফডিসি আধুনিক হলে আমাদের সেখানে যাওয়া লাগবে না।