চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রতিবেশী ও বন্ধু দেশগুলোর ভূমিকা কী?

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর পদক্ষেপে হতাশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন: মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ তৈরিতে বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও সে অনুযায়ী ৩ বছরে দৃশ্যমান কোনও কাজ হয়নি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন: প্রায় সময়ই অনেক বক্তব্য শুনি। কিন্তু কাজের সময় এর উল্টো। যেমন- চীন, যাদের ওপর আমরা অনেক আশা করেছি, তারা সার্ভিসটা দেবে। তাদের সাথে মিয়ানমারের আলাপ হয়েছে, তারা বারবার বলছে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাবে ভেরিফিকেশন করে। সবাই বলে কিন্তু একটা লোকও তো এখনও যায় না। তিন বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু এখনও একজন রোহিঙ্গা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য অযৌক্তিক নয়। কারণ, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত-চীন এবং বন্ধু দেশগুলোর অবস্থান হতাশাজনক। তাদের যথাযথ ভূমিকা থাকলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আরও আগেই সম্ভব হতো বলে আমরা মনে করি।

বিজ্ঞাপন

তবে এটাও ঠিক যে, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হলে প্রতিবেশী দেশগুলো যে ভোগান্তির শিকার হবে না, তা নয়। তারাও ভুক্তভোগী হবে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইতোমধ্যে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খুন খারাবিও হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধান না হলে ভারত-চীনসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো সন্ত্রাসবাদের হুমকিতে পড়বে। এজন্য হলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তাদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ।

এ ইস্যুতে সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকিতে যে শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো পড়বে তাও নয়। রোহিঙ্গা মুসলমানদের অসহায়ত্বকে টার্গেট করে জঙ্গিগোষ্ঠীও তৎপর। এতে পুরো বিশ্বই হুমকির মুখে পড়বে। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একেবারে চুপ থাকা আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের শামিল।

আমরা বরাবরের মতো বলতে চাই, রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারের সৃষ্টি। এর সমাধানও মিয়ানমারকে করতে হবে। মানবিকতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। এর দায়ভার আজীবন বহন করা বাংলাদেশের জন্য সম্ভব নয়। তাই সার্বিক হুমকি বিবেচনায় নিয়ে রোহিঙ্গাদের সসম্মানে নিজ ভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করতে আমরা সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।