চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে ‘সম্মত’ মিয়ানমার

যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করে এ বিষয়ে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক এবং মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থো।

দুই পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে এ বৈঠকে অংশ নেন দুই দেশের ৩০ জন প্রতিনিধি।

পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক বলেন: প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সবসময় একটি জটিল প্রক্রিয়া। তবে আমরা দু পক্ষই অনুধাবন করতে পারছি যে এটা হওয়া প্রয়োজন। যত দ্রুত সময়ে এটা সম্পন্ন করা যায় সে লক্ষ্যে আমরা দুপক্ষই কাজ করে যাচ্ছি।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থো বলেন: রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি ঠিক করতে আমরা বেশি বেশি বৈঠক করছি।

তিনি আরও বলেন: এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়াতে আমাদের কাজ করতে হবে। এবং আমি মনে করে দুই দেশকেই এ ব্যাপারে যৌথভাবে কাজ করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

Advertisement

বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে শহিদুল হক বলেন: মিয়ানমারের সঙ্গে যে দুটি অ্যারেঞ্জমেন্ট চুক্তি হয়েছে তা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আপনারা জানেন যে (মিয়ানমারের কাছে) আমরা একটি তালিকা পাঠিয়েছিলাম। সেই তালিকা যাচাই করতেও যে যে ইস্যুগুলো এসেছে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

‘‘আমাদের দেওয়া তালিকা মিয়ানমার তাদের নিজেদের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই-বাছাই করবে এবং এভাবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চলবে’’, বলেন শহিদুল হক।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে মিয়ানমারের দিক থেকে কী কী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, আরও কী কী নেওয়ার আছে বা আমাদের পক্ষ থেকে কী কী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে সে বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্র সচিব।

‘‘সবচেয়ে ভালো হয়েছে যে আমরা দুপক্ষই অত্যন্ত খোলামেলাভাবে আলোচনা করতে পেরেছি। রোহিঙ্গাদের যাতে দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়া যায় এ ব্যাপারে দুই দেশেরই সম্মতি রয়েছে।’’

এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন ও এর টার্মস অব রেফারেন্সের সম্মতিপত্রে সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে সম্মতিপত্রে সই করেন দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব।

গত ১৫ জানুয়ারি মিয়ানমারে ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।