চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোজায় যেন না বাড়ে জিনিসপত্রের মূল্য

রমজান আসার আগে ব্যবসায়ীরা সুযোগ খোঁজে, কিভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য বাড়ানো যায়। আর একবার কোনো উছিলায় যদি মূল্য বাড়ানোর সুযোগ পেয়ে যায়, তা হলে আর কথাই নেই। হু হু করে দুদিনের মধ্যে জিনিসপত্রের মূল্য বাড়িয়ে রাতারাতি যা কামানোর কামিয়ে নেয়।

রমজানের তিন সপ্তাহ আগে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, এবারের রমজানে জিনিসপত্রের মূল্য বাড়বে না। দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মজুত রয়েছে। সুতরাং ব্যবসায়ীরা যাতে মূল্য না বাড়ায় সেদিকে নজর রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আমরাও আশাবাদী হই এ কথায়। তবে গত কয়েকদিনের বৃষ্টির সুযোগ নিয়ে চাল রসুন আর আলুর মূল্য কিছুটা বাড়িয়ে এক দফা কামিয়ে নিল ব্যবসায়ীরা। যদিও এখনো সেই বাড়ানো মূল্যেই বিক্রি হচ্ছে ওইসব পণ্য। কেউ দেখার নেই। ব্যবসায়ীদের দাবি, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাড়াতে হয়েছে। চমৎকার যুক্তি! যেখানে মন্ত্রী বলেছেন, দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজের মজুত রয়েছে সেখানে সরবরাহ কমে কিভাবে?

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে ১৮ লাখ ৬৬ হাজার টন, যা আগের বছরের চেয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার টন বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে গত অর্থবছরে ১০ লাখ ৪১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩ লাখ ৪০ হাজার টন বেশি। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে পেঁয়াজের জোগান এসেছে ২৯ লাখ টন।

বিজ্ঞাপন

আমাদের দেশে প্রতি বছরই রমজানের আগে এ রকম ঘোষণা আসে সরকারিভাবে দেশে পণ্যসামগ্রীর অভাব নেই। রমজানে কেউ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য বাড়াবে না। সাধারণ মানুষ আশ্বস্ত হয় এরকম গাল ভরা মিষ্টি কথায়। কিন্তু এটাই যেন কাল হয়ে দাঁড়ায় কদিন যেতেই।

বিষয়টা অনেকটা ওই প্রবাদ বাক্যের মত যেন, পাগলাকে নৌকা নাড়ানোর কথা মনে করিয়ে দেয়া আর কি। সুযোগ সন্ধানী মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা তক্কে তক্কে থেকে মূল্য বাড়ানোর ধান্দা খোঁজে তখন। এর পেছনে অবশ্য রাজনৈতিক মতলববাজিও আছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য সংঘবদ্ধ হয়ে ব্যবসায়ীরা মূল্য বাড়িয়ে দেয় কিছু দিনের জন্য।

সরকার যখন বিষয়টি টের পায় এবং বাজার মনিটরিং শুরু করে তখন আবার ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু ওই সাময়িকভাবে বাড়িয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নেয় তারা। এবারও ওই চক্র যাতে সুযোগ নিতে না পারে সে জন্য সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার।

রমজানের প্রধান যে খাবার- বিশেষ করে ছোলা পেঁয়াজ ডাল খেজুর বেগুনসহ অন্যান্য ইফতারের খাবারের মূল্য যেন কোনো অবস্থায় না বাড়ানো হয় সেদিকে ধর্মপ্রাণ ব্যবসায়ীদেরই খেয়াল রাখা দরকার।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিজ্ঞাপন