চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রেমিট্যান্সের ‘জাদু’ শেষ হতে চলেছে: ড. দেবপ্রিয়

রেমিট্যান্সে এতদিন যে ‘জাদু’ সেটা শেষ হতে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ’র আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য।

তিনি বলেছেন, অর্থনীতির সব থেকে শক্তিশালী জায়গা বৈদেশিক খাতে এখন এক ধরনের ভাঙন ধরেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

রোববার এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২১-২২ বাস্তবায়ন: পিছিয়ে পড়া মানুষেরা কীভাবে সুফল পাবে?’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল, সিপিডি’র সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ বিশিষ্টজনরা।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য

ড. দেবপ্রিয় বলেন, ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থায় নেমে গেছে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা অর্জন করা সম্ভব হবে না। কোভিড পরিস্থিতির কারণে ৮০ শতাংশ মানুষ খাদ্য-ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আমাদের অর্থনীতির সব থেকে শক্তিশালী জায়গা ছিল বৈদেশিক খাত। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের উৎস বলছে, এই বৈদেশিক খাতে এক ধরনের ভাঙন ধরেছে। জুলাই মাসে ১১ দশমিক ২০ শতাংশ রপ্তানি পতন ঘটেছে। আর রেমিট্যান্স আয়ে ২৮ শতাংশ পতন হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা একমত হবেন- রেমিট্যান্স খাতের যে জাদু সেটা সম্ভবত শেষ হতে চলেছে। কারণ মানুষ বিদেশে গেছে কম, এসেছে আগের চেয়ে বেশি। রপ্তানিতে আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারব কি-না, সেটা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।

বিজ্ঞাপন

পিছিয়ে পড়া মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে প্রত্যক্ষ সহায়তা বাড়াতে হবে উল্লেখ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে অতিমারির মধ্যে পিছিয়ে পড়া মানুষদের কীভাবে এগিয়ে নেয়া যায়। সেজন্য উন্নয়নশীল দেশে পিছিয়ে পড়া মানুষদের সহায়তায় সরাসরি অর্থের সাহায্য বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে হবে। অব্যাহত রাখতে হবে খাদ্য সহায়তা। কেননা অতিমারির শুরুর পর থেকে পিছিয়ে পড়া ৮০ শতাংশ মানুষ খাদ্য ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।

মুদ্রানীতিতে বিভিন্ন ধরনের সুদের হার কমানোর যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তা সঠিক হয়েছে মন্তব্য করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, তবে মুদ্রানীতিতে দুর্বলতাও রয়েছে। সব থেকে বড় দুর্বলতা মুদ্রানীতিতে ব্যক্তিখাতের ঋণের যে প্রবৃদ্ধি ধরা হচ্ছে, তার কাছে যেতে পারছে না। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীসহ অনেকে বলেছিলেন- সুদের হার কমিয়ে দিলে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়বে। এই তত্ত্ব সঠিক নয়। ঋণ-আমানতের হার (স্প্রেড) চার শতাংশের নিচে নেমে গেছে। এরপরও ব্যাংকে উদ্বৃত্ত তারল্য রয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিলের রেট বাড়িয়ে এই তারল্য তুলে নেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এটা সমাধান নয়। বরং তারল্যকে অর্থনীতিতে সঞ্চালন করতে হবে।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেন, ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ কমছে। গত বছরের চেয়ে আরও ২-৩ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ নেমে গেছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে বিনিয়োগের সর্বনিম্ন হার।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এবারে বাজেটে পিছিয়ে পড়া গরিব ও অসহায় মানুষদের বাইরে রাখা হয়েছে। বাজেটে বরাদ্দের কথা বলা হলেও কীভাবে তা ব্যয় হবে, সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কতটুকু থাকবে সে বিষয়টি দেখা যায়নি।

ভার্চুয়াল সভায় বিশেষজ্ঞগণ

এছাড়া দুর্নীতির প্রতিরোধে বাজেটে সুস্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। এ বছর বিব্রতকর, দুর্নীতি বান্ধব, বৈষম্যমূলক ও কালো টাকা সহায়ক বাজেট হয়েছে। কিন্তু পিছিয়ে পড়া মানুষকে কীভাবে সহায়তা করবে বাজেটে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই বলে মনে করেন তিনি।

সভায় আলোচকরা বলেন, সমন্বয়ের অভাবে গত দুই-এক বছরে সরকার খাদ্য মজুদে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেছে। কোভিড পরিস্থিতিতে নতুন করে যে বিষয়গুলোর স্বীকৃতি আসা উচিত ছিল সেটা আসেনি। করোনায় যেসব খাত বা জায়গায় অগ্রাধিকার দেয়া উচিত ছিল সেসব দিকে সরকার মনোযোগ দেয়নি।

এ সময় স্বাস্থ্যসেবা খাতের জবাবদিহিতা ও ঢেলে সাজাতে ন্যাশনাল হেলথ সিকিউরিটি গঠন করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।