চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রেকর্ড গড়া জয়ে বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশ

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনিকে ৮৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বড় ব্যবধানে জেতায় সুপার টুয়েলভে খেলার টিকেটও পেয়ে গেল টাইগাররা।

‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে রাত আটটায় স্বাগতিক ওমানের বিপক্ষে লড়বে স্কটল্যান্ড। ওই ম্যাচের ফলের পর জানা যাবে কারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপ। তার উপর নির্ভর করছে সুপার টুয়েলভে কোন গ্রুপে পড়বে বাংলাদেশ।

রাতের ম্যাচে স্কটল্যান্ড জিতলে গ্রুপে বাংলাদেশ হবে রানার্সআপ। আর যদি ওমান জিতে যায়, তখন তিন দলের পয়েন্ট হবে সমান ৪ করে। সেক্ষেত্রে রানরেটের হিসাব চলে আসবে সামনে। বড় সংগ্রহ আর বড় জয়ের পর তাতে টাইগারদের থাকছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগও!

বাংলাদেশ: ১৮১/৭ (২০ ওভার), পাপুয়া নিউগিনি: ৯৭/১০ (১৯.৩ ওভার)

পাপুয়া নিউগিনিকে সামান্য রানের ব্যবধানে হারালেই চলত বাংলাদেশের। মাসকাটের আল আমেরাত স্টেডিয়ামে এমন সমীকরণের ম্যাচে ১৮১ রানের বড় পুঁজি পায় বাংলাদেশ। জবাবে ২৯ রানে ৭ উইকেট হারায় পাপুয়া নিউগিনি।

পঞ্চাশ ছুঁতে পারে কিনা সেটি নিয়ে জাগে সংশয়। প্রথম আট ব্যাটারের কেউই ছুঁতে পারেনি ‍দুই অঙ্ক। নয় নম্বরে নামা উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে টি-টুয়েন্টিতে সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার লজ্জা থেকে বাঁচান দলকে। ১৯.৩ ওভারে একশ আগেই গুটিয়ে যায় পাপুয়া নিউগিনি।

টি-টুয়েন্টিতে টাইগারদের এটিই সবচেয়ে বেশি রানের জয়। এর আগে সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়টি ছিল ৭১ রানে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখান সাকিব আল হাসান। অলরাউন্ডার ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও সাইফউদ্দিন দুটি করে উইকেট নেন। মেহেদী হাসান নেন একটি উইকেট।

বিজ্ঞাপন

টপঅর্ডারে সাকিব আল হাসানের লড়াই, মাঝে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ঝড়ো ফিফটি, শেষে আফিফ-সাইফের ক্যামিও ইনিংসে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে ১৮১ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে যেটি টাইগারদের সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহ।

বড় সংগ্রহের পথে আফিফ হোসেনের ১৪ বলে ২১ ও সাইফউদ্দিনের ৬ বলে অপরাজিত ১৯ রানের ইনিংস দুটি রেখেছে দারুণ ভূমিকা। আবারও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। ৮ বলে ৫ রান করে ফেরেন সাজঘরে। নুরুল হাসান সোহান শূন্য রানে আউট হন গোল্ডেন ডাকে।

শেষ তিন বলে দুটি ছয় ও একটি চার মেরে সংগ্রহ বড় করেন সাইফউদ্দিন। থাকেন অপরাজিত। শেখ মেহেদী ২ রানে অপরাজিত থাকেন। ২০ ওভারে বাংলাদেশ ৭ উইকেট হারিয়ে তোলে পৌনে দুইশ পেরোনো রান।

ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে নাঈম শেখ মিডউইকেট ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দেন। আরেক ওপেনার লিটনের সঙ্গী হন সাকিব। দুজনে মানিয়ে নিতে সময় নেন। প্রথম ৩ ওভারে আসে মাত্র ৯ রান।

পরের তিন ওভারে ৩৬ রান নিয়ে পাওয়ার প্লে’র ঘাটতি পুষিয়ে দেন সাকিব-লিটন। ৬ ওভারে বাংলাদেশ তোলে ৪৫ রান।

দলীয় ৫০ রানে লিটন (২৯) ফেরেন সাজঘরে। ওভার প্রতি রান তোলার হার তখন মাত্র ৭। মুশফিক এসে টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ১১তম ওভারে দলীয় ৭২-এ ফেরেন মি. ডিপেন্ডেবল।

দলীয় শতক পূর্ণ করে আউট হন সাকিব। ৪ রানের জন্য ফিফটি বঞ্চিত হন। টাইগার অলরাউন্ডার ৩৭ বলের ইনিংসে ছয়ের মার ছিল তিনটি।

মাহমুদউল্লাহ ২৭ বলে তিনটি করে চার ও ছয়ে ফিফটি ছুঁয়ে পরের বলে আউট হন। শেষে তরুণ ব্যাটাররা ঝড় তুলে বাংলাদেশকে বাঁচা-মরার ম্যাচে এনে দিয়েছেন বড় পুঁজি।

বিজ্ঞাপন