চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রিটার্ন দাখিল বাবদ রাজস্ব আয় ২২ হাজার কোটি টাকা

গেল বছরের তুলনায় চলতি বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল ও আদায় সংক্রান্ত তথ্যাদির সংখ্যা ২ লাখ ১৩ হাজার জন বেড়ে ২০ লাখ ৬ হাজার ৭১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব বাবদ আয় হয়েছে ২২ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা।

সোমবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য তুলে ধরেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) জিয়াউদ্দিন মাহমুদ। এসময় এনবিআরের প্রথম সচিব খন্দকার খুরশীদ কামালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি জানান, এর আগের বছর ২০১৭ সালে আয় হয়েছিলো ১৯ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১২ শতাংশ।

জিয়াউদ্দিন মাহমুদ বলেন, নিয়ম অনুসারে ৩০ নভেম্বর রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ছিলো। কিন্তু এদিন শুক্রবার হওয়ায় ২ ডিসেম্বর (রোববার) পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। এ সময়ে আয়কর মেলার যে রকম সাড়া পড়েছিলো, রিটার্ন দাখিলেও এনবিআরের অফিসগুলোতেও ব্যাপক সাড়া পড়ে।

Advertisement

তিনি জানান, ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে আয়কর থেকে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ৪ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের একই মাসে রাজস্ব এসেছে ৫ হাজার ২৪৮ কোটি টাকার। এই হিসেবে বছর ব্যবধানে মাসটিতে আয়কর আদায়ের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ২৭ শতাংশ। আর ২০১৭ সালের আয়কর দিবস পর্যন্ত কর আদায়ের পরিমাণ ১৯ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের কর দিবস পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ২২ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে আয়কর আদায়ে প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

২০১৭ সালের কর দিবস পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩৪। ওই বছর সময়ের আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫৬ জন করদাতা। সবমিলিয়ে রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৩৫ হাজার ১৯০ টি। আর ২০১৮ সালের করদিবস পর্যন্ত রির্টান দাখিল করেছেন ১৬ লাখ ৯১ হাজার ৬১০ জন। রিটার্ন দিতে সময়ের আবেদন করেছেন আরও ৩ লাখ ১৫ হাজার ১০৫ জন। ফলে বছরটিতে রির্টান দাখিলের সংখ্যা ২০ লাখ ৬ হাজার ৭১৫ টি হতে পারে।

জিয়া উদ্দিন মাহমুদ জানান, ২০১৮ সালের এখন পর্যন্ত প্রকৃত রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা বেড়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ১৭৬ টি। অর্থাৎ রিটার্ন দাখিলে প্রবৃদ্ধি ১৪ শতাংশ। চলতি বছরে রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ২৩ লাখে পৌঁছাতে পারে বলেও তার প্রত্যাশা।

কর দেয়ার প্রবণতা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণরা কর দিচ্ছেন। মেলার মতো কর অফিসেও একই ধরণের সেবা দেয়া হয়েছে। করদাতাদের পদচারণায় মুখর ছিল কর অফিসগুলোও। বর্তমানে ই-টিআইএন ধারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ লাখ ১৫ হাজার ৫০৪ জনে। ফলে ২০২১ সালে আমরা ৫০ লাখ করদাতার প্রত্যাশা করছি।