চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রিজার্ভ থেকে ঋণ নেয়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ঋণ নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংশ্লিষ্টদের বিষয়টির প্রভাব ও সম্ভাবনা যাচাই-বাছাই করে দেখতে বলেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এটা একটা যুগান্তকারি প্রস্তাব এসেছে প্রধামন্ত্রীর কাছ থেকে। আমি ওখানে ছিলাম আমরা এটাকে সমর্থন করি।

বতমানে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ বিলিয়ন ডলার, যা রিজার্ভের ইতিহাসে রেকর্ড।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এটা আমরা ভাবছি। সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে। এজন্য যে নিয়ম-কানুন ও নীতিমালা প্রয়োজন সেগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অর্থমন্ত্রণালয় দেখভাল করবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে অবশ্যই সহায়তা করা হবে।

এম এ মান্নান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণের পক্ষে অর্থ সংরক্ষণ করে। ওখান থেকে ঋণ নিতে পারি। বাংলাদশ ব্যাংক চিন্তা করবে কীভাবে এটা করা যায়। সাধারণতন তিন মাসের আমদানি ব্যয় হাতে রাখা নিরাপদ। তিন মাসের আমাদানি সমপরিমান টাকা থাকলে স্বস্তিদায়ক হবে। এখন যে পরিমাণ রিজার্ভ আছে সেটা তিন মাস নয়, একবছরের আমদানির সমপরিমান। সুতরাং আমদানি ব্যয়ের যুক্তিসংগত সংরক্ষণ রেখে বাকি টাকাতে অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন মেটানো যাবে। নিজেদের অর্থ নিজেরা ব্যবহার করবো।

রিজার্ভ দেশের একমাত্র ব্যাকআপ। তাই রিজার্ভ থেকে প্রকল্পের জন্য ঋণ নেয়াটাকে আপনি যৌক্তিক মনে করেন কিনা?

জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমি এটা মনে করি। আমি সমর্থন করি দুটো কারণে। একটা হলো আমাদের নিজস্ব টাকা ডান হাত থেকে বাম হাতে আনলাম। আবার ডান হাতে ফেরত দেব। এটা আগে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ফেরত যায়। এটা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দ্বিতীয়ত, বিদেশ থেকে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে অনেক শর্ত থাকে, এটা-সেটা থাকে, সেগুলো মানতে হয়। মানতে গিয়ে ব্যয় বেড়ে যায়। ঋণচুক্তি সই করার পরে প্রক্রিয়া করতে অনেক সময় দেখা যায়, এক থেকে দেড় বছর পার হয়ে যায়। তখন আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। ডলারের মান বেড়ে যায়, টাকার মান কমে যায়। আমাদের নিজেদের টাকা হলে নিজেরাই খরচ করবো।’

‘তবে ভয়ের কারণটা হলো যে ডলারটা দেব, তা ফেরত আসতে হবে। এখানে যদি ওই ধরনের কোনো ভীতি থাকে, যেটা ব্যাংকে আমাদের নন পারফর্মিং (ঋণখেলাপি) ঋণের ক্ষেত্রে দেখেন। তাহলে আমি হাত দেব না। ওইটা নিশ্চিত হয়ে আমি করতে রাজি আছি। আমি মনে করি, এটা সম্ভব।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এটা তার (প্রধানমন্ত্রীর অর্ডার নয়। তিনি একটা আইডিয়া তুলে ধরেছেন আলোচনার জন্য। এটার প্রভাব ও খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করতে বলেছেন। তারপর আমরা সিদ্ধান্তে আসবো।’