চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাধা বিঘ্ন যেন অপসারণ হয়

আদালতে বহু প্রত্যাশিত আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা হয়েছে। সেখানে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় এসেছে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে এই রায় ঘোষণায় জনমনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে।

চ্যানেল আই অনলাইনের সংবাদে জানা যায়: ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী সময়ে জানা যায়, শিবির সন্দেহে তাকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে মেরেছে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওই ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার বিচারে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

এ মামলায় মোট ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে, ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ওয়াহেদুজ্জামান। অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি ১৯ জন। এছাড়া তদন্তে আরও ছয় জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনজন পলাতক রয়েছে। তাদের মধ্যে আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

আমরা মনে করি, এই রায়ের মধ্য দিয়ে ছাত্র-অছাত্র সংগঠনে নানা ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করার কড়া বার্তা দেয়া হয়েছে। একজন ছাত্রকে পিটিয়ে মারার অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে বিবেচিত হবে এই রায়। আমরা আরও আশা করি, এই রায় কার্যকর করে বিচার বিভাগ একটি উদাহরণ সৃষ্টি করবে। সকল অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে আইনী প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন