চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাস্তায় নয়, অফিসেই চাঁদা নিতে চান এনায়েত উল্যাহ

সড়কে বিভিন্ন সংগঠনের নামে চাঁদাবাজী বন্ধে নতুন ফর্মুলার কথা বলেছেন বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। তার মতে, রাস্তার পরিবর্তে অফিসে বসে চাঁদা আদায় করা গেলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

সোমবার ১৪ দল আয়োজিত ‘নিরাপদ সড়ক ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা পবিবহন খাতে নৈরাজ্যের জন্য চাঁদাবাজিকে অন্যতম নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

এমনকি পরিবহন মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি ও বিরোধীদল জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙা পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজির ব্যাপকতা উল্লেখ করে রংপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত আসতে একটি বাসকে ৫০০০ টাকা চাঁদা দিতে হয় বলে তার প্রতিকার চান।

ঠিক সেই সময় বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতা খন্দকার এনায়েত উল্যাহ গোলটেবিল আলোচনায় চাঁদা ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং তার প্রতিকার হিসেবে সামনে নিয়ে আসেন নতুন ফর্মুলা। রাস্তায় রাস্তায় চাঁদা আদায়ের পরিবর্তে অফিসে বসেই চাঁদা আদায়ে সমাধান দেখেন তিনি।

চাঁদা প্রথার সমাধানে তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক এবং পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের গৃহীত সকল পদক্ষেপের সঙ্গে আমরা আছি। আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। তাহলে বাধাটা কোথায়? পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। রাস্তাঘাটে-টার্মিনালে কোথাও কোন চাঁদা থাকবে না। সামনে চাঁদা যাতে অফিসে নেওয়া হবে, আমরা সেদিকেও যাচ্ছি!

‘‘বিশ্বের উন্নত যে কোনো দেশের তুলনায় পরিবহন সেক্টরে বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের নেতৃত্বে ঢাকার পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা যে কাজটা শুরু করেছিলাম, সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর নির্দেশনায় সেটা আমরা আবার শুরু করেছি। আমরা হয়তো আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে দেখতে পাব ঢাকা শহরের পরিবহন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন।’’

এসময় সড়কে চাঁদাবাজির জন্য উপস্থিত সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যরিস্টার নাজমুল হুদাকে দায়ি করে বক্তব্য রাখেন দুই পরিবহন নেতা খন্দকার এনায়েত উল্যাহ ও মশিউর রহমান রাঙা।

তাদের অভিযোগ, পরিবহণ সেক্টরে নাজমুল হুদার করে যাওয়া পরিবহন সেক্টরের কোম্পানি ব্যবস্থার জন্যই চাঁদাবাজির সৃষ্টি হয়েছে।

নাজমুল হুদা তার সময়ে করা কোম্পানির মাধ্যমে রুট পারমিট ব্যবস্থা কার্যকর ছিলো বলে দাবি করে বলেন, ‘আমি যখন এ ব্যবস্থা চালু করেছিলাম সর্বমহলে এটা প্রশংসিত হয়েছিল। এতে সড়কের শৃঙ্খলাও ফিরেছিলো। সময় অনেক গড়িয়েছে, অবস্থার পরিবর্তনও হয়েছে। এখন যারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন তারা সরকারের সু-নজরে আসার জন্য বলছেন।’ 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, ১৪ দলের সমন্নয়ক মোহাম্ম্দ নাসিমের সঞ্চালনায় বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন, বিশিষ্ট সাংবাদিক-কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙা,সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, বাংলাদেশ জাতীয় জোটের (বিএনএ) চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ( জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, জাতীয় পার্টি (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী প্রমুখ।