চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রামুতে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে রামু উপজেলার রশিদ নগর ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোয়াজ্জেম মোরশেদের বিরুদ্ধে শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তিনি চট্টগ্রাম মহানগরে একসময় ‘দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়।

তবে রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলছেন, ইউনিয়ন থেকে তার একক নাম আসায় তারা সেই অনুযায়ী কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। শিবির সংশ্লিষ্টতার কথা তারা জানতেন না। এ অভিযোগ যদি প্রমাণ হয় তবে তার প্রার্থিতা বাতিলের জন্য কেন্দ্রে লিখিতভাবে আবেদন পাঠানো হবে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মোয়াজ্জেম মোরশেদের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হওয়ার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা। সেখান থেকেই মূলত: এ নিয়ে সমালোচনার শুরু হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি বলেন, মোয়াজ্জেম মোরশেদ চট্টগ্রামের ভয়ংকর এক আতংকের নাম। তিনি চট্টগ্রাম কলেজ ও মহানগরে শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। ওই ক্যাডারের হাতে একসময় নিয়মিত মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির লোকজন মার খেত। তার অত্যাচারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কলেজেও যেত পারত না। তার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপিত মাহামুদুল করিমকে অপহরণ করে টর্চার সেলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায় শিবির ক্যাডাররা। সেদিন ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মোয়াজ্জেম মোরশেদ সহ তিনজন শিবির ক্যাডারকে আটক করে। পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পেয়েই চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে কক্সবাজার যায় ওই ক্যাডার।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহামুদুল করিম বলেন, আমি সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ২০১০ সালে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হই। সেসময় মোয়াজ্জেম মোরশেদ চট্টগ্রাম কলেজ শিবির অন্যতম নীতি নির্ধারক ও ক্যাডার ছিলেন। আমি কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার কারণে মোরশেদ আমাকে কয়েকদফা সরাসরি হুমকি দেয়। কিন্তু তার হুমকি না মানায় প্রথমে ২০১১ সালের জুলাইতে আমার উপর হামলা করে তুলে নিয়ে আমার পা ভেঙে দেয়। সেখানে আমাকে প্রচণ্ড মারধর করে আমার বাবা মায়ের ঠিকানা নেয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, পরে আমার বাবামাকেও হুমকি দেয় মোয়াজ্জেম মোরশেদ। তাদের কারণে আমি কলেজে নিয়মিত যেতে পারতামনা। কিন্তু ২০১৩ সালে ২৯ অক্টোবর আমি পরীক্ষা দিতে গেলে বিকাল ৫ টার দিকে আমাকে হল থেকে তুলে নিয়ে যায় মোয়াজ্জেম মোরশেদ ও তার দলবল। প্রথমে আমাকে তারা তৎসময়ে নির্মাণাধীন স্টাফ ভবনে নিয়ে মারধর করে। এরপর সেখানে লোক জমায়েত হতে শুরু করলে আমারে সোহরাওয়ার্দী হলের তখনকার পরিত্যক্ত হিন্দু হোস্টলে নিয়ে আমার আঙ্গুলের নখ তুলে আমাকে গুরুত্বর জখম করে মূমুর্ষ অবস্থায় ফেলে রাখে। পরে কয়েকটি থানার পুলিশ পুরো হল ঘেরা করে আমাকে উদ্ধার করে । এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে মোয়াজ্জেম মোরশেদ সহ তিনজনকে আটক করে।

তবে এসব অভিযোগ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রশিদ নগরের নৌকার কাণ্ডারী মোয়াজ্জেম মোরশেদ। তিনি বলেন, আমি ২০১০ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে বের হয়েছি। তাই এর পরে কী হয়েছে সেখানে আমার জানা নেই। আমি মাহামুদুল করিম নামের কাউকে চিনি না।

মোয়াজ্জেম মোরশেদ বলেন, কক্সবাজার কলেজে অনার্স পড়ার সময় আমি ছাত্রলীগ করেছি। কক্সবাজার ইন্টারন্যাশন্যাল ইউনিভার্সিটির ছাত্রলীগের প্রথম কমিটি আমার । এছাড়া ২০১৮ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু আইন ও ছাত্র পরিষদের এডভোকেট নোমান ও নাজিম কমিটির কক্সবাজার জেলা সভাপতি আমি। কাজেই একটি মহল আমার জয় ঠেকাতেই পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে।

রামু উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়ুয়া বলেন, আমি দীর্ঘদিন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। মোরশেদ নৌকা প্রতীক পাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি তার নামই শুনিনি।

রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মণ্ডল জানান, ইউনিয়ন থেকে মোয়াজ্জেম মোরশেদের নামটি এককভাবে এসেছে। এজন্য আমরা উপজেলা থেকে জেলায় পাঠিয়েছি। আমাদের জানা ছিল না সে শিবির ক্যাডার। এটা যদি প্রমাণিত হয় তাহলে আমরা তার কাছ থেকে নৌকা প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রে লিখিতভাবে জানাব।