চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

লেখনীর মাধ্যমে রাবেয়া খাতুন আমাদের গৌরবান্বিত করেছেন

‘আমি রাবেয়া খাতুনের সন্তানতুল্য। ফরিদুর রেজা সাগর আমাদের অনুজপ্রতিম বন্ধু এবং ভাই। আজকে তার দুই পুত্র সাগর ও প্রবাল দেশে নেই। কিন্তু সাগর যেভাবে তার মাকে দেখেছেন, এটা একটা অবিশ্বাস্য ঘটনা। আমি মনে করি, প্রত্যেক সন্তানেরই উচিত মাকে এভাবে দেখা।’

-সদ্য প্রয়াত প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনকে স্মরণ করে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সংগঠক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু।

বিজ্ঞাপন

সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনকে মূল্যায়ন করে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বলেন-

সুফিয়া কামালদের যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন রাবেয়া খাতুন। পঞ্চাশের দশকের যে সময়ে রাবেয়া খাতুন কলম হাতে দাঁড়ালেন, সেই সময়টা এত পশ্চাৎপদ ছিল যে নারীরা লিখছেন এটাই ভাবা যেত না। আর যে ভাষা ব্যবহার করে লিখেছেন এটাও বাঙালি মুসলিম লেখকদের মধ্যে বিরল। আধুনিক বাংলা ভাষার বুৎপত্তি অনুধাবন করে তাদের লেখনি। এবং যেই চরিত্রগুলো নির্মাণ করছেন রাবেয়া খাতুন, এগুলোও আলোচনার দাবী রাখে। বাঙালি মুসলমান সমাজে সেই চরিত্রগুলো একজন নারী যেভাবে দেখছেন- রাবেয়া খাতুনের মধ্য দিয়ে আমরা সেই চরিত্রগুলো দেখতে পাই, বুঝতে পারি। আমাদের মধ্যবিত্তের পঠন রীতির মধ্যে দিয়ে, অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে রাবেয়া খাতুনের চরিত্রগুলো সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এবং সেই সমাজে ব্যাপক ভালোবাসা আছে, প্রেম আছে এবং সেখানে ট্রাজেডি আছে, আছে সংঘাত। আর এসবের মধ্য দিয়ে সেই সময়ে রাবেয়া খাতুন যে সময়কে তুলে এনেছেন, এটা কিন্তু প্রায় অবিশ্বাস্য।

পঞ্চাশের দশক থেকে ষাট, সত্তুর এবং আশির দশকে তার যে লেখা, এগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। এরমধ্যে সত্তরের দশকে অর্থাৎ আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনের সময়, মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে আমরা তাকে দেখতে পাই ভিন্ন চরিত্র হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার লেখাগুলো অত্যন্ত আবেগ মথিত, এবং সেগুলি আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সত্যিকার অর্থে প্রতিনিধিত্ব করে। এটা আমি ঐতিহাসিক জায়গা থেকে বলছি। সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধের কথা, মুক্তিযোদ্ধাদের কথা যেভাবে তিনি তুলে এনেছেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি মনে করি আমাদেরকে তিনি গৌরবান্বিত করেছেন। শুধু তাই নয়, মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদেরকে যেভাবে তার লেখনীতে তুলে ধরেছেন, সেটিও আমাদের ভাববার বিষয়, আলোচনার বিষয়। সব মিলিয়ে আমরা মনে করি, তিনি যে অবদান রেখেছেন একজন নারী হিসেবে একজন মানুষ হিসেবে একজন বাঙালি হিসেবে- স্বাধিকার আন্দোলনে, নারী মুক্তির আন্দোলনে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে, স্বাধীনতায়- সেটি আমাদের ভাবীকালে উদযাপিত হবে।