চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রানা প্লাজা ধস: তহবিলের টাকা কেউ নিতে আসছে না

রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত শ্রমিকদের জন্য গঠিত তহবিলে অর্থ থাকলেও কোনো শ্রমিক তা নিতে আসছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

শনিবার বিজিএমইএ ভবনে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পাঁচ বছর পূর্তি সামনে রেখে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পৃথিবীতে বহু দুর্ঘটনা হচ্ছে।  অথচ রানা প্লাজা দুর্ঘটনার বর্ষপূর্তি হলেই এটা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। কিন্তু ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো শ্রমিক বলতে পারবে না যে তারা ক্ষতিপূরণ পায়নি।

‘ওই দুঘটনায় রানা প্লাজা ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছিল।  এ ফান্ড থেকে ২৪০ কোটি টাকা ওই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেয়া হয়েছে। এখনও টাকা রয়েছে কিন্তু কেউ নিতে আসে না।’

বিজিএমইএর সভাপতি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই দুর্ঘটনা হয়।  কিন্তু সেটা নিয়ে রানা প্লাজার মতো এত বেশি প্রোপাগান্ডা হয় না।  তবু এত অপপ্রচারের মধ্যেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।  বাংলাদেশ এখন সবুজ শিল্পায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। লিড সার্টিফাইড ১০টি কারখানার মধ্যে ৭টি বাংলাদেশের।

তিনি বলেন, আমরা রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর কারখানাগুলো অনেক সংস্কার করেছি। এখন বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় আমাদের কারখানাগুলো নিরাপদ। ফলে এ খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। গত বছর দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল, এ বছর তা হয়েছে ১১ শতাংশ।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর নিরাপদ কর্মপরিবেশ রক্ষায় বিদেশি ক্রেতাদের জোট অ্যাকোর্ড ও অ্যালায়েন্স কাজ করেছে।  তাদের ৫ বছর শেষ হবে আগামী মে মাসে।  সরকার, ক্রেতাজোট, বিজিএমইএ ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন হবে।  তারা পরবর্তী ৬ মাস কাজ করবে।

পোশাক শিল্প নিয়ে বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক কোটি লোক জড়িত এ খাতে।  সবার সহোযোগিতা পেলে আগামী পাঁচ বছরে এ শিল্পে দুই কোটি লোকের কর্মসংস্থান করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, সরকার আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সহনীয় পর্যায় নিয়ে এসেছে।  আশা করি দুই-এক মাসের মধ্যে গ্যাসও সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

লিখিত বক্তব্যে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ১ হাজার ১৩৮ জন মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করে।  দুই হাজার জনের বেশি আহত হয়। প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।  গুরুতর আহত প্রায় ৮৫০ জনকে বিজিএমইএ-এর উদ্যেগে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।  তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির, পরিচালক আশিকুর রহমান তুহিন, এনামুল হক খান বাবল প্রমুখ।