চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাজধানীতে জঙ্গিদের ‘লোন উলফ’ অ্যাটাকের পরিকল্পনা ভণ্ডুল

রাজধানীতে আনসার আল ইসলামের আটক জঙ্গিদের ‘লোন উলফ অ্যাটাকের’ পরিকল্পনা ছিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেব তারা ‘কাট আউট’ পদ্ধতিতে নিজেদের মধ্যে প্রোটেকটিভ অ্যাপ ব্যবহার করে সাংগঠনিক কাজ করত।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দু’টি অভিযান চালিয়ে রাজধানীর উত্তরা, গাজীপুর ও সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর  এলাকা থেকে আনসার আল ইসলামের সক্রিয় ছয় জঙ্গি সদস্যদের আটক করে র‌্যাব-৪।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আটকরা হলেন: মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে সাগর ওরফে সালমান মুক্তাদির (২১), মাে. ইলিয়াস হাওলাদার ওরফে খাত্তাব (৩২), মো. ইকরামুল ইসলাম ওরফে আমির হামজা (২১), আমির হোসেন (২৬), মো. শিপন মীর ওরফে আব্দুর রব (৩৩), মো. ওয়ালিউল্লাহ ওরফে আব্দুর রহমান (২৫)। সেসময় তাদের কাছ থেকে আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন ধরনের উগ্রবাদী সম্পর্কিত বই, লিফলেটসহ উগ্রবাদী ডিজিটাল কনটেন্ট, মোবাইল ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন র‌্যাব-৪ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন: আটক জঙ্গিরা দুই থেকে পাঁচ বছর ধরে আনসার আল ইসলামের সঙ্গে জড়িত। তারা অনলাইনে বিভিন্ন প্রোটেকটিভ অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করত। যা কিনা ইন্টারসেপ করা যায় না। তারা কথিত ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। কথিত ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠায় যারা প্রতিহত বা বিরােধ সৃষ্টি করে তাদের চূড়ান্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা। তারা আকস্মিক আক্রমণ করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে থাকে। তাদের আকস্মিক আক্রমণের পরিকল্পনাকে তারা তাদের সংগঠনের ভাষায় লোন উলফ অ্যাটাক বলে থাকে। এক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় আগ্নেয়াস্ত্রের পরিবর্তে চাপাতি ব্যবহার করে।

মোজাম্মেল হক বলেন: জঙ্গি তৎপরতা, প্রশিক্ষণ ও করণীয় সম্পর্কে তারা নিজেদের মধ্যে অনলাইনে যোগাযোগ করে। তবে কোন নাশকতার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, গােপনীয় তথ্য সরাবারহ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কদাচিৎ অফলাইনে দেখা সাক্ষাৎ করে থাকে।

প্রাথমিক জিজ্ঞসাবাদে জানা যায়: আটক শফিকুল ইসলাম বর্তমানে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পঞ্চম বর্ষের ছাত্র। সে শীর্ষ নেতার সাথে অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে পরিচিত হয় এবং নিয়মিত যােগাযােগ রক্ষা করে আসছিল।

বিজ্ঞাপন

আটক মাে. ইলিয়াস হাওলাদার অনলাইনে খাত্তাব ছদ্মনাম ব্যবহার করে জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করে। ছাত্র জীবনে সে হরকাতুল জিহাদের সাথে যুক্ত ছিল। সে সবসময় সে সশস্ত্র উগ্রবাদ এ অংশগ্রহণে আগ্রহী ছিল। সংগঠনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করার জন্য বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপ হাতে কলমে শিক্ষা দেয়। সে শীর্ষ জঙ্গিদের মধ্যে একজন।

আটক মাে. ইকরামুল ইসলাম অনলাইনে বিভিন্ন জঙ্গি সংক্রান্ত পােস্ট ডাউনলােড করত এবং বিভিন্ন জঙ্গির সাথে পরিচিত হতো। সে জঙ্গি সংগঠনে বিভিন্ন ভাবে আর্থিক সহায়তা করতো। জঙ্গির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে এবং তাদের সাথে নিয়মিত মিটিংয়ের আয়ােজন করতো।

আটক আমীর হােসাইন বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করতো। সে আনসার আল-ইসলামের বিভিন্ন ভিডিও, বইপত্র, মােবাইল অ্যাপ সংগ্রহ করতাে এবং সংগঠন পরিচালনা ও ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রতি মাসে চাঁদা দিতো। সে ছয়টি উগ্রবাদী ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন। আমীর হােসেন সাতক্ষীরা জেলার আনসারুল ইসলামের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত।

আটক মাে. শিপন মীর আনসার আল ইসলাম শীর্ষ নেতার সাথে অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে পরিচিত হয় এবং নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিল।

আটক মো. ওয়ালি উল্লাহ আনসার আল-ইসলামের বিভিন্ন ভিডিও,বইপত্র, মােবাইল অ্যাপ সংগ্রহ করতাে এবং সংগঠন পরিচালনা ও ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রতি মাসে চাঁদা দিয়ে আসছে। সে আনসার আল ইসলামের ঢাকা দক্ষিণ বিভাগের অন্যতম শীর্ষ নেতা।

র‌্যাব-৪ এর সিও বলেন: জঙ্গি সদস্যদের আটকের সময় তাদের দলের আরাে বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়। পলাতক জঙ্গিদের আটকের প্রক্রিয়া চলমান আছে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিজ্ঞাপন