চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রমজান মাস: আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের বিভিন্ন মাধ্যম

সৃষ্টিজগতের সবকিছুর মালিক, একমাত্র রাজাধিরাজ, আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ নেয়ামতের মাস রমজান। পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ থেকে শুরু করে রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস ‘রমজান’ বছরে একবার আসে। এসময় সারা বিশ্বের মুসলমানগণ মাসব্যাপী আল্লাহ খুশি হন এমন আমলে বেশি নিমগ্ন থাকেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এ মাসে জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দিয়ে জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়।

পবিত্র কুরআনের সূরা আল বাকারায় আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: রমজান মাসের রোজা রাখা ফরজ। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাসটি পাবে সে যেন রোজা রাখে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বাংলায় একটি কথা আছে, ‘ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালিকণা বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে ‍উঠে মহাদেশ সাগর অতল’।মহামারি  করোনাভাইরাসে সারা বিশ্ব যখন জর্জরিত, কম্পমান অবস্থা বিরাজ করছে, তখন হতে পারে এবারের রমজান মাসের ক্ষুদ্র একটি আমলও নাজাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

রহমতের এই মাসে সাহরি খাওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। মুসনাদে আহমদ হাদীসের কিতাবে বলা হয়েছে, সাহরি বরকতময় খাবার। সুতরাং কখনো সাহরি খাওয়া বাদ দিয়ো না। এক ঢোক পানি পান করে হলেও সাহরি খেয়ে নাও। কেননা সাহরি গ্রহণকারীদের আল্লাহ তায়ালা ও ফেরেশতাগণ স্মরণ করেন।

রমজানে রাতের সালাতের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তারাবিহ ও তাহাজ্জুদের নামাজ। হাদীসের সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ সহীহ আল বুখারি’তে ২০০৯ নং হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ইমানের সাথে নেকী অর্জনের আশা করে কিয়ামু রমজান অর্থাৎ তারাবিহ’র নামাজ আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

এসময়ে রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার গুরুত্ব অশেষ। পাহাড়সম সওয়াব অর্জনের অন্যতম সহজ মাধ্যম তাহাজ্জুদের নামাজ। আহলে সুফফার অন্যতম সদস্য ও সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী হযরত আবু হোরায়রা রা. হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ রাতের নামাজ (তাহাজ্জুদের নামাজ)। [সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৮১২]।

রমজানে কুরআন খতম ও তিলাওয়াতের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। কেননা পবিত্র কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য বিশেষ সুপারিশ করবে। এজন্য আমাদের প্রত্যেকের শুদ্ধভাবে কুরআন শেখা ও অন্যকে শেখানো জরুরী।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) ছিলেন মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি দানশীল। রমজানে তাঁর দানশীলতা আরো বেড়ে যেত। [সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৩২০৮]

বিজ্ঞাপন

আল্লাহর কাছে বেশি বেশি প্রার্থনা করা, লোকদের খাওয়ানো বিশেষ করে গরিব, অসহায় রোজাদারের সাহরি ও ইফতারির ব্যবস্থা করা বিরাট সওয়াবের কাজ। তাই পবিত্র কুরআনের সূরা আদ দাহর’ এ আল্লাহ বলেছেন, তারা যেন খাদ্যের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসকিন, এতিম ও বন্দিকে খাদ্য দান করে।

ইফতারের সময়টি আল্লাহর কাছে খুবই পছন্দের। এসময় যখন কোনো ব্যক্তি ইফতার সামগ্রী নিজের সামনে রেখে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, তখন আল্লাহ ওই ব্যক্তির তাকওয়া (আল্লাহর প্রতি ভয়) ও আনুগত্য দেখে ব্যাপক খুশি হন। যে কারণে ইফতারের সময় আল্লাহর কাছে আমাদের দোয়া সহজেই কবুল হয়।

এ ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ইফতারের সময় আল্লাহ বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন আর এটি রমজান মাসের প্রত্যেকটি রাতে এবং রোজা পালনকারী প্রত্যেক ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়। [বায়হাকি: ৩৬০৫]

অপর হাদিসে বলা হয়েছে, তোমরা যখন ইফতার কর, তখন খেজুর দ্বারা ইফতার কর। কেননা এর মধ্যে বরকত রয়েছে। আর যদি খেজুর না পাও তবে পানি দ্বারা ইফতার কর। কেননা পানি পবিত্র’। [সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে তিরমিযি: ২৩৫৫ ও ৬৫৮,৬৯৪,৬৯৫]

তওবা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম সর্বোত্তম মাধ্যম। এর মানে দ্বিতীয়বার আর গুনাহের কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া। এ বিষয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হে মানবসকল, তোমরা আল্লাহর নিকট তওবা কর এবং ক্ষমা প্রার্থনা কর, কেননা আমি (নবিজী (সা.) নিজে) আল্লাহর কাছে একশত বারের বেশি তওবা করে থাকি’। [সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৭০৩৪]

রমজান মাসের আদব রক্ষা করে রোজা রাখা মুসলিমের জন্য আবশ্যক। যেমন:  সুদি কারবার, ধোঁকবাজি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, ঘুষসহ সকল প্রকার দুর্নীতি থেকে বিরত থেকে যাকাত আদায় করে, মানুষের অধিকার ঠিক রেখে রোজা রাখলে আল্লাহর সন্তুষ্টি সহজেই লাভ করা যায়।

আর যারা এর বিপরীত করে থাকে তাদের জন্য আল্লাহর হুশিয়ারী সংকেত। এ ব্যাপারে হাদিসে বলা হয়েছে, অনেক সিয়াম তথা রোজা পালনকারী আছে যারা উপোস থাকা ছাড়া আর কিছু পায় না। আবার অনেক রাতজাগা নামাজ আদায়কারী এমন আছে যারা রাত জাগা আর কিছু লাভ করে না।

সবশেষে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, রমজানে সকল প্রকার অন্যায়  থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করে আমরা যেন আল্লাহর সর্বোত্তম সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি। আমীন।