চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যে কারণে অভিনয় ছাড়লেন নায়ক ফেরদৌসের ভাই তৌফিক

১৭টি সিনেমা করেছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌসের ছোট ভাই তৌফিক, এরমধ্যে শাবনূরের সাথেই ৭টি:

দেখতে বেশ সুদর্শন। শারীরিক গঠন, অভিনয় সব মিলিয়ে পারফেক্টই ছিলেন তিনি। বড়পর্দাতেও গুছানো ক্যারিয়ার ছিলো তার। একে একে ১৭টি সিনেমার নায়ক তিনি। এরমধ্যে  ৭টি সিনেমার নায়িকা ছিলেন শাবনূর। কাজ করেছেন পূর্ণিমা, রেসি, জনাসহ অন্যান্য নায়িকাদের সঙ্গেও।

বলছি অভিনেতা তৌফিক আহমেদের কথা। যিনি চিত্রনায়ক ফেরদৌস এর ছোট ভাই। সিনেমা ছাড়াও বিজ্ঞাপনের মডেল হতেও দেখা গেছে তাকে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বড়পর্দায় তৌফিক যখন পুরো মনোযোগ দিয়ে ব্যস্ত হয়েছিলেন, ঠিক তখনই ছেড়ে দেন অভিনয়। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত?

চ্যানেল আই  অনলাইনের সাথে আলাপে তৌফিক জানান, ব্যক্তিগত জীবনে ছন্দপতন ছাড়াও বেশকিছু কারণে অভিনয় ছেড়ে ব্যবসায় মনোযোগ দেন তিনি। পাড়ি জমান কাতারে। সেখানে গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘ওখানে আমার গাড়ি ব্যবসা রয়েছে।করোনার আগে দেশে এসেছি। জানুয়ারিতে কাতার চলে যাবো। ঢাকা-কাতার যাওয়া আসার মধ্যে এতগুলো বছর পার হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

টিপটিপ বৃষ্টি, জিদ্দি বউ, নীল আঁচল, মায়ের স্বপ্ন ছবিগুলোতে নায়ক ছিলেন তৌফিক। কলকাতার একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন বলে জানালেন তিনি। বলেন, কয়েকটি কলকাতার ছবি করেছিলাম সেগুলো আধা সম্পন্ন। আর কাজ হয়নি। তখন চেয়েছিলাম ফিল্মে কাজের পাশাপাশি অন্যকিছু করবো। সেই চিন্তা থেকেই ব্যবসা শুরু করি। ব্যবসায় নেমে তখন আর ফিল্মে কাজ করতে ইচ্ছা হয়নি। ধীরে ধীরে সরে যাই। জনার সঙ্গে ফোক ঘরানার ফিল্ম ‘কাঁকন দাসী’ এখনও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এই ছবিটাও খুব ভালো পারফর্ম করেছিলাম। কিন্তু নানা কারণে আর মুক্তি পায়নি।

তৌফিক বলেন, এখন মনে হয় হয়তো ফিল্মে কাজটা চালিয়ে গেলেও পারতাম। আগামীতে যদি ভালো কাজের সুযোগ আসে তাহলে আবার ফিল্মে কাজ করবো। আমার বন্ধু পিয়াল হোসেন ‘স্বপ্নবাজী’ নামে একটি ফ্যাশন নির্ভর ছবি করছেন। সে চাচ্ছে আমি এ ছবি দিয়ে আবার কামব্যাক করি। এখন করোনার কারণে তার ওই ছবির কাজ বন্ধ। এছাড়া আরও দুটি সিনেমার কাজের কথা ছিল। প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে বাইরের প্রযোজকরা আর লগ্নি করতে উৎসাহ পাননি।

তৌফিকের প্রথম ছবি ছিল ‘নীল আঁচল’, তবে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি ‘টিপ টিপ বৃষ্টি’। যেখানে আরও ছিলেন শাকিব খান ও শাবনূর। মুক্তিপ্রাপ্ত ১৭ সিনেমার মধ্যে শাবনূরের সঙ্গেই সাতটি সিনেমা তৌফিকের। চিত্রনায়ক ফেরদৌসের ছোটভাই হলেও তৌফিক নায়ক হয়েছিলেন নিজের ইচ্ছেয়। তার কথা, ভাইয়ার কাজ দেখে প্রভাবিত হইনি। বরং নিজ যোগ্যতায় আমি কাজ করেছি। ভাইয়া অনেক বড় স্টার। উনি ওনার মতো কাজ করেছেন। ভাইয়ার জন্য আমি গর্বিত। তবে যতোটা পথ আমি চলেছি, নিজেই তৈরি করেছি।  এখন অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও আগের ব্যস্ততার দিনগুলো ভীষণ মিস করি।

তৌফিক জানালেন, তারা হলেন পাঁচ ভাই ও তিনবোন। বড় দুই ভাই আমেরিকা থাকেন। ভাইদের মধ্যে তিনি সবার ছোট।