চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যুব বিশ্বকাপ: প্রথম রাউন্ডের যতো ঘটন-অঘটন

শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান ম্যাচের মধ্যদিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হলো। ঘটন-অঘটেনের এই পর্বে প্রত্যাশা-প্রাপ্তির পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে ভবিষ্যতের অনেক ইঙ্গিতও। দলীয় শক্তি, খেলার ধরণ-মান আর স্বাগতিক হিসেবে কক্ষপথেই রয়েছে বাংলাদেশ।

টানা তিন জয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে জুনিয়র টাইগাররা। সেই সাথে আছে দলের দুই খেলোয়াড়ের দুই বিশ্ব রেকর্ডের প্রাপ্তি।

যুব বিশ্বকাপের শুরু থেকে যেমন আশা আছে, আলো আছে; তেমনি আছে হতাশাও। গ্রুপপর্ব থেকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সাউথ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের মতো দলের বিদায় নেওয়া যেমন হতাশার। তেমনি নেপাল-নামিবিয়ার মতো দলের অপ্রত্যাশিত পারফর্মেন্স ক্রিকেটের ভবিষ্যতকে আশাবাদী করে তুলেছে।

শক্তিশালী দুটি বড় দল বিদায় নিলেও বাকিরা এখনো পর্যন্ত টিকে রয়েছেন বীরদর্পে। ভারত, পাকিস্তান,  শ্রীলঙ্কা সবাই দাপটের সাথে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। সব দলের বর্তমান পারফর্মেন্স বাকি ম্যাচগুলোতে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন সাউথ আফ্রিকাকে দুমড়ে-মুচড়ে দেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে এটা কোনো অঘটন ছিল না। বিশ্বকাপের আগেও এই প্রোটিয়া দলের বিরুদ্ধে তাদের মাটি থেকেই সিরিজ জিতে ফিরেছিল টাইগার যুবারা।

তবে শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে প্রথম অঘট ঘটায় নেপাল। এরপর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ক্রিকেট দুনিয়ার একরকম অপরিচিত নামিবিয়ার কাছে হেরে যায় সাউথ আফ্রিকা। যে হারের মধ্যদিয়ে টুর্নামেন্টে থেকেই তাদের বিদায় ঘণ্টা বেজে যায়।

প্রায় সবগুলো দল ভালো করলেও প্রাপ্তির খাতায় একনম্বরেই থাকবে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে দলের দুজন খেলোয়াড় দুটি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। প্রথমে ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে  সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড গড়েন। এর পর বোলিংয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেটের রেকর্ডের খাতায় নাম লেখান আরেক মেহেদী হাসান মিরাজ।

৫৪ ম্যাচে নাজমুলের রান এখন ১,৭৪৭। তার আগে এক বছর এই রেকর্ড ধরে রেখেছিলেন পাকিস্তানি ক্রিকেটার সামি আসলাম। ৪০ ম্যাচে তার সংগ্রহ ছিল ১,৬৯৫ রান।

Advertisement

ব্যাটিংয়ে যেমন এক পাকিস্তানিকে সরিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান। বোলিংয়েও তেমনি আরেক পাকিস্তানিকে হটিয়ে শীর্ষে ওঠেন মিরাজ। সবচেয়ে বেশি উইকেটের রেকর্ডটি ২০০৮ সাল থেকে ছিল পাকিস্তানের বর্তমান জাতীয় দলের অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিমের দখলে। ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মোট ৭৩টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। নামিবিয়ার বিপক্ষে সেই রেকর্ড ভেঙে দেন মিরাজ। ৫৩ ম্যাচ খেলে ৭৪টি উইকেট পেয়েছেন মিরাজ।

শুধু রেকর্ডই নয় সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের তালিকার প্রথম ১০ জনের মধ্যেেএখন চারজনই বাংলাদেশি। চতুর্থ স্থানে আছেন মাহমুদুল হাসান। ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ৫৭ ম্যাচ খেলে ৬৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। অষ্টম ও নবম স্থানে আছেন সোহরাওয়ার্দী শুভ (৫৫) ও সালেহ আহমেদ শাওন (৫৪)।

তবে অনেক প্রাপ্তির মাঝেও হতাশা আছে বাংলাদেশের। দলের অফ স্পিনার সঞ্জিত সাহার বোলিং অ্যাকশন অবৈধ বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। আইসিসি জানিয়েছে, খুব দ্রুতই তার বোলিং নিষিদ্ধ করা হবে।

দারুণ পারফর্ম করছে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার ভারত। গ্রুপপর্বের সবগুলো ম্যাচ অনায়াসে জিতেছে তারা। তাদের একজন ব্যাটম্যানস গড়েছে একটি বিশ্ব রেকর্ড। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন ভারতের ওপেনার রিশাব পান্ত। মাত্র ১৮ বলে অর্ধশত রান করেন তিনি। এর আগে ২০০৯-১০ সালে ১৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন ওয়েষ্ট ইন্ডিজের ট্রেভন গ্রিফিথ।

সঠিক পথে রয়েছে পাকিস্তান, ইংল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কাও। তবে ছোট দলগুলোর মধ্যে প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো করতে পারেনি সম্ভাবনাময়ী দল আফগানিস্তান।

শুরু থেকে সুন্দর পথেই হাঁটছিল যুব বিশ্বকাপের আসর। তবে হঠাতই তাতে ছন্দ পতন ঘটে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচের ঘটনাকে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা দেখছেন ক্রিকেটের স্পিরিট নষ্ট হিসেবে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওই বিতর্কিত জয় নিয়ে সমালোচনা চলছে বিশ্ব জুড়ে।

প্রথম পর্বের জমজমাট লড়াই আর প্রত্যাশা-পাপ্তির আড়ালে ঢাকা পরে গেছে টুর্নামেন্ট শুরুর আগের বড় একটি বিষয়। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশে আসেনি অন্যতম ফেবারিট দল অস্ট্রেলিয়া। শুধু এই টুর্নামেন্টই নয়, এর আগে একই অজুহাতে অস্ট্রেলিয়া মুরব্বি দলের বাংলাদেশ সফরও স্থগিত করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া(সিএ)।

অবশ্য ফুটবল বিশ্বকাপের একটি বাছাইপর্বের ম্যাচ প্রথমে স্থগিত করলেও পরে বেকায়দায় পড়ে বাংলাদেশের আসতে বাধ্য হয় সকারুজরা।  অস্ট্রেলিয়া না আসাতে তাদের জায়গায় সুযোগ পায় আয়ারল্যান্ড। প্রথম পর্ব অতিক্রম করতে না পারলেও ভালো ক্রিকেট খেলেছে তারা।

অস্ট্রেলিয়া আসেনি, তাতে ক্রিকেট থেমে থাকেনি। কখনো কারো জন্য থেমে থাকবেও না। ক্রিকেটের সৌন্দর্য, ক্রিকেটের আবেগ সবসময়ই যে অপূর্ণতা মুছে দিয়ে ভবিষ্যতকে পথ দেখায় তা যুব বিশ্বকাপের প্রথম পর্বই প্রমাণ করে দিলো।