চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর প্রত্যাহার চায় বিটিএমএ

২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বস্ত্রকলের যন্ত্রপাতি, কিছু কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানির ওপর ৫ শতাংশ অগ্রিম কর কর্তনের প্রস্তাব প্রত্যাহরের আবেদন জানিয়েছে বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ।

সংগঠনটি বলছে, এই কর আদায় করা হলে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত ও বাধাগ্রস্ত হবে। তাই এই কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিটিএমএ।

বিজ্ঞাপন

বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেল আয়োজিত বাজেট–পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ’র সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন এই আবেদন করেন।

বিটিএমএর সভাপতি বলেন, ‘বস্ত্রকলের যন্ত্রপাতি আমদানিতে ১ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়; যা একধরনের প্রণোদনা। সরকার শিল্প খাতের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে চাইছে। কিন্তু বস্ত্রকল যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর অগ্রিম কর ৫ শতাংশ আরোপ করাকে আমরা মনে করি বিনিয়োগকে ব্যয়বহুল ও অলাভজনক করবে। ফলে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত ও বাধাগ্রস্ত হবে। এককথায় বিষয়টি খাজনার চেয়ে বাজনা বেশির মতো। তাই এই কর প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে প্রস্তাবিত বাজেটে টেক্সটাইল মিলের আয়কর হার ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করে তা ৩ বছরের জন্য বহালসহ টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়াতে সব খাতে ১ শতাংশ হারে রপ্তানি প্রণোদনা বাড়ানোর প্রস্তাব এবং একই সাথে স্থানীয় উইভিং ও ডাইং-প্রিন্টিং-ফিনিশিং ও ক্যান্ডারিং উপ-খাতকে ভ্যাটের আওতা বহির্ভূত রাখার প্রস্তাব করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানায় বিটিএমএ।

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য উৎপাদিত সুতার ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এটি প্রত্যাহার করে প্রতি কেজি সুতার ওপর ৪ টাকা ভ্যাট আরোপের আহ্বান জানান বিটিএমএ সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমরা প্রতি কেজি সুতায় তিন টাকা ভ্যাট দেই। ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হলে গড়ে প্রতি কেজি সুতার দাম ১৫ থেকে ১৬ টাকা করে বাড়বে। ৮০ কাউন্টের সুতায় সর্বোচ্চ বাড়বে সাড়ে ২৩ টাকা। সেটি হলে দেশের প্রান্তিক তাঁতিরা ক্ষতির মুখে পড়বে। এমনকি সুতার বাজার বিদেশিদের দখলে চলে যেতে পারে।’

এ ছাড়া বস্ত্র রপ্তানিতে উৎসে কর বর্তমানের মতো দশমিক ২৫ শতাংশ অব্যাহত রাখা এবং রপ্তানিতে ৩ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি করেছে বিটিএমএ।

মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, সরকার নির্ধারিত রপ্তানি মূল্যের উপর দীর্ঘদিন যাবত উৎসে কর কর্তন করে আসছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটেও রপ্তানি মূল্যের ওপর উৎসে আয়কর কর্তনের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বহাল আছে। রপ্তানি মূল্যের উপর বিদ্যমান উৎসে আয়কর হারটি অত্যন্ত উৎসাহজনক ও সহনীয়। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এটি বহাল আছে কিনা এ বিষয়ে উল্লেখ নেই। এতে করে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তাই প্রস্তাবিত বাজেটেও এটি আগের মত  বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সাবেক সহসভাপতি হোসেন মেহমুদ প্রমুখ।