চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যথেষ্ট ভালো শিল্পী আছেন, কিন্তু সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না: সুমিত

‘সিনেমার খারাপ অবস্থার জন্য এককভাবে শিল্পীরা দায়ী নয়। এর সঙ্গে অনেকেই জড়িত। পরিচালক এবং তার টিম, প্রযোজক, মার্কেটিং পলিসি, দর্শকদের দেখার আগ্রহ, সিনেমা প্রদর্শন সবকিছু দায়ী। তবে প্রযোজকে বেশি সচেতন হতে হবে। উনি তার সিনেমাটি কীভাবে মানুষকে দেখাতে চান, সঠিক পরিচালক নির্বাচন থেকে শিল্পীসহ মার্কেটিং টিম সবকিছু তাকে আগে ঠিক করতে হবে।’

বলছিলেন সুমিত সেনগুপ্ত। যিনি নিয়মিত সিনেমায় অভিনয় করছেন। বর্তমানে দামাল, মিশন এক্সট্রিম, ছায়াবৃক্ষ নামে তিনটি সিনেমা সুমিতের হাতে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আরও তিন বছর আগে ‘মহুয়া সুন্দরী’, ‘পাগলের মতো ভালোবাসি’ সিনেমা করি সেই সময়ের চেয়ে এখনো অনেক ভালো ভালো সিনেমা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আমরা খুব ভাল একটা জায়গায় যাবো। সেই ভরসা নিয়ে আগাচ্ছি।

ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত বিগ বাজেটের ছবি ‘দামাল’ এ সুমিত

সিনেমার পাশাপাশি টুকটাক নাটকেও কাজ করছেন সুমিত। ভালোবাসা দিবসের নাটকে কাজ করছেন। ঈদের জন্যও দু-একটি নাটকে তাকে দেখা যাবে। সুমিত বলেন, একজন সিঙ্গারের স্বপ্ন থাকে প্লেব্যাক করা। ক্রিকেটারের স্বপ্ন থাকে মাঠে খেলা, রাজনীতিবিদের ইচ্ছে থাকে পার্লামেন্টে যাওয়া। আমি অভিনেতা, আমারও স্বপ্ন সিনেমাতে নিয়মিত কাজ করা। অনেক সময় শুনি শিল্পী সংকট কিন্তু আমি এটার সঙ্গে একমত নই। আমাদের জন্য যথেষ্ট ভালো শিল্পী আছেন। কিন্তু সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। ব্যবসার ক্ষেত্রে সবাই সেফ সাইটে খেলতে চায়। তাই হয়ত রিস্ক নেন না।

বিজ্ঞাপন

সুমিত এ প্রজন্মের অভিনেতা। তার পূর্বের প্রজন্মের শিল্পীরা যখন ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন তুমুল ব্যস্ততা থাকতো তাদের। লাইট ক্যামেরায় থেকে দিনরাত কাটতো। কিন্তু বর্তমানে যারা কাজ করছেন তাদের সেদিক থেকে অনেকটাই মন্দ কপাল! এ প্রসঙ্গে সুমিত বলেন, আমরা অনেক আগে থেকে বিশ্বের সব খোঁজ খবর রাখি। ওইসব ফ্যাসিনেশন থেকে এ মাধ্যমে কাজ করা। বাইরে শিল্পীদের যখন অনেক কাজের খবর পাই তখন কিছুটা হতাশা লাগে।

শাহীন সুমনের ‘সেদিন বৃষ্টি ছিল’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথম বড়পর্দায় কাজ করে সুমিত। তার অভিনীত সিনেমা ‘মহুয়া সুন্দরী’, ‘যে গল্পে ভালোবাসা নেই’ মুক্তি পেয়েছে। কিছুদিন আগে মুক্তি পায় ‘পাগলের মতো ভালোবাসি’। দামাল, মিশন এক্সট্রিম ও ছায়াবৃক্ষ তিনটি সিনেমা রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। সবগুলো সিনেমাতে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলে জানালেন সুমিত সেনগুপ্ত।

তিনি বলেন, দামাল সিনেমায় গোলকিপারের চরিত্রে অভিনয় করেছি। অর্ধেকের বেশি শুটিং শেষ হয়েছে। এটি পিরিওডিক্যাল সিনেমা। এ সিনেমার প্রধান গল্প তিনজনকে নিয়ে। একজন গোলকিপার, মিড ফিল্ডার, একজন স্ট্রাইকার। তিনজনই বিশেষ বিশেষ দৃশ্যের জন্য শুটিংয়ের আগে একমাস ধরে অনুশীলন করেছি। নিজেও ড্রাইভ, বল ধরা, বল পাস করা বিভিন্ন কৌশল শিখেছি। বাফুফে’র একজন কোচ ছিলেন। তিনি জাতীয় দলের গোলকিপার ছিলেন। আমার পরিশ্রমটা মানুষ দেখলে ভালো লাগবে।

মুক্তির প্রতীক্ষায় আছেন সুমিত অভিনীত মিশন এক্সট্রিম

মিশন এক্সট্রিম প্রসঙ্গে সুমিত বলেন, পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেছি মিশন এক্সট্রিমে। আমি আরিফিন শুভ, সাদিয়া নাবিলা এবং তাসকিন রহমান এই চারটি চরিত্র প্রধান এখানে। এ সিনেমা করতে গিয়ে পুলিশকে খুব ভেতর থেকে জেনেছি। পুলিশের প্রতি আমার মায়া সম্মান অনেক বেড়েছে। আমার জায়গা থেকে যতটুকু করার ছিল আমি চেষ্টা করেছি। মানুষ সিনেমাটি দেখলে বুঝতে পারবেন।

দামাল ও মিশন এক্সট্রিম এই দুই সিনেমার পুরো বাইরের ঘরানার সিনেমা হচ্ছে ছায়াবৃক্ষ। চা শ্রমিকদের আন্দোলন ও তাদের দিনযাপন নিয়েই নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। মূলত তাদের অধিকার আদায় নিয়ে বিভিন্ন সংগ্রামের সৃষ্টি হয়। সুমিত বলেন, একজন চা শ্রমিকের চরিত্রে অভিনয় করেছি। অন্যরকম গল্পের একটি সিনেমা ছায়াবৃক্ষ। এটিও দর্শকদের ভালো লাগার মতো সিনেমা।