চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘মেয়েদের মধ্যে আই অ্যাম দ্য নাম্বার ওয়ান’

ডিস্ক জকির সংক্ষিপ্ত রূপ ডিজে। ২০০৭ সালে নারী ডিজে হিসেবে বাংলাদেশে প্রথম কাজ শুরু করেন মারজিয়া কবির সোনিকা। বর্তমানে তিনি বেশ জনপ্রিয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করছেন তিনি। ডিজে পরিচয়ের বাইরে গান ও অভিনয়েও মাঝেমধ্যেই দেখা যায় তাকে।

সম্প্রতি ডিজে সোনিকা এসেছিলেন চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘৩০০ সেকেন্ড’ এ। শাহরিয়ার নাজিম জয়ের উপস্থাপনা ও বিপ্লব সেহাঙ্গলের পরিচালনায় এই অনুষ্ঠানে এসে নিজের ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করেন সোনিকা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অন্য পেশা থাকতে কেন ‘ডিজে’কে পেশা হিসেবে নিলেন তিনি? উপস্থাপক জয়ের এমন প্রশ্নে সোনিকা বলেন, আমি যখন শুনলাম বাংলাদেশে আর কোনো মেয়ে ডিজে নাই, তখন আমি চিন্তা করলাম যে এটা তো আমি বাংলাদেশে প্রথম স্টার্ট করতে পারি! যেহেতু গার্লস স্কুলে পড়েছি, গার্লস কলেজে পড়েছি- সে কারণে অলয়েজ আমার ভেতরে গার্লস পাওয়ারটা ছিলো। তো আমি আমার দেশে এমন একটা জিনিষ স্টাবলিশ করতে চেয়েছি, যেটা আগে কখনও এই দেশে হয়নি।

শোবিজে নারীর কাজ কিংবা অবদানকে একটা শ্রেণির খাটো করে মানসিকতা আছে। এদের কেউ কেউ মনে করে, নারীর অগ্রগতি শুধুই শরীর প্রদর্শনের কারণে! এমন কথাগুলোর মূল্যায়ণ কী, সোনিকার কাছে জানতে চাইলে দেশের প্রথম নারী ডিজে জানান, নারীদেরকে এমনিতেই তাদের শারীরিক কাঠামোর কারণে অন্যভাবে দেখা হয়। আর বাংলাদেশে একজন মেয়ে ডিজে করছে, এটা অনেকেই মেনে নিতে পারে না। তো এসব কারণে একটা শ্রেণি প্রথমেই পয়েন্ট আউট করে, ‘ও তো মেয়ে মানুষ, শরীর দেখায়ে কাজ করতেছে’।

বিজ্ঞাপন

সোনিকা বলেন, বহুদিন ধরেই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি। মিউজিকের উপর যদি আমার কোনো জ্ঞান না থাকে তাহলে এতো এতো শোতে আমাকে কেউ ডাকতো না।

ডিজে হিসেবে এই মুহূর্তে দুই জনের নাম বললে কাকে এগিয়ে রাখবেন? এমন প্রশ্নে  সোনিকা বলেন, ডিজে প্রিন্স ও ডিজে রাহাত। কেন নিজের নাম নিলেন না, তাও বললেন। কারণ, ডিজে হিসেবে তারা সিনিয়র! সোনিকা বলেন, তবে মেয়েদের মধ্যে আই অ্যাম দ্য নাম্বার ওয়ান।

কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাইলে সোনিকা জানান, সপ্তাহে অন্তত তিনটার মতো শো করেন তিনি। বর্তমানে প্রতিটি শোয়ের জন্য লাখ টাকাও পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন। সেই সঙ্গে এটাও জানান, ডিজে করে স্বাচ্ছন্দ্যে যেমন নিজের জীবন চালিয়ে নিতে পারছেন, তেমনি পরিবারের দেখাশোনাও করছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে একাই থাকছেন সোনিকা। আবারও সংসার করার ইচ্ছে আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন,  ‘শিল্পীদের সংসারে মন বসে না। আর সব ছেলেরাই এক প্যাটার্নের। সম্পর্ক হলেই তিনমাস খুব লাবিটাবি, তিনমাস পর থেকেই কন্ট্রোল ফ্রিক, তারপরেই বউ। আর বউ মানেই, ঘরে বসে থাকো!’