চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মেসির সঙ্গে পিএসজিতে চলে যাবেন রামোস

গত দুই দশকে লিওনেল মেসির সঙ্গে অসংখ্যবার মাঠের সংঘর্ষে জড়িয়েছেন সার্জিও রামোস। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো চলে যাওয়ার পর বার্সেলোনা মহাতারকার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক। এখন রিয়ালের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় সেই মেসিকে পক্ষে টেনে ক্লাব ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন লস ব্লাঙ্কোসদের রক্ষণ ভরসা।

মেসির মতোই চলতি মৌসুম পর্যন্ত রিয়ালের সঙ্গে চুক্তি আছে রামোসের। একাধিক স্প্যানিশ গণমাধ্যমে খবর, ৩৫ বছর বয়সী সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের জন্য আর বাড়তি অর্থকড়ি ঢালতে রাজি নন রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। বায়ার্ন মিউনিখ থেকে অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবাকে আনার জন্য অনেকদূর আলাপ আলোচনায় এগিয়ে গেছে ক্লাবটি।

বিজ্ঞাপন

রিয়াল একেবারেই যে চুক্তি করতে আগ্রহী নয় বিষয়টি এমনও নয়। ক্লাবের পক্ষ থেকে একবছর চুক্তি বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে রামোসকে। কিন্তু বেতন কমে যাবে আগের থেকে ১০ শতাংশ। বর্তমান চুক্তিতে বছরে ১২ মিলিয়ন ইউরো বেতন পান রামোস।

বেতন কমিয়ে থেকে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে লুকাস ভাসকুয়েজ ও লুকা মদ্রিচকেও। মদ্রিচ রাজি হলেও ভাসকুয়েজ এখন পর্যন্ত সাড়া দেননি প্রস্তাবে। তিনজনেরই চুক্তির মেয়াদ ফুরাবে চলতি মৌসুম শেষে।

বিজ্ঞাপন

ভাসকুয়েজের মতো রাজি হননি রামোসও। বরং দুই কথা শুনিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্টকে। ৩০ ডিসেম্বর এলচে ম্যাচের আগের হোটেলে এসেছিলেন পেরেজ। সেখানে চুক্তির প্রস্তাবটিকে নাকি ‘অপমানজনক’ বলে প্রেসিডেন্টকে কথা শুনিয়েছেন, এমন দাবি এল চিরিংগুইতার উপস্থাপক জোসেপ পেদ্রেরোলের।

হাসিমুখেই নাকি রামোস পেরেজকে বলেছেন, ‘আপনারা আমাকে যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে আমি রাজি হচ্ছি না। এখন থেকে আমি অন্যদলগুলোর প্রস্তাব শোনা শুরু করবো। পিএসজির একজন আমাকে জানিয়েছেন লিওনেল মেসি আর আমাকে নিয়ে তারা শক্তিশালী একটা দল বানাতে চায়।’

জবাবে পেরেজের বক্তব্য ছিল, ‘যদি তুমি ভালো প্রস্তাব পাও, তাহলে বিষয়টি আমরা মাথায় রাখবো।’

পেরেজের সঙ্গে মূলত ২০১৮ সালের পর থেকে সম্পর্কের অবনতি রামোসের। রোনালদো জুভেন্টাসে চলে যাওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে রিয়াল অধিনায়ক দায়টা দেন প্রেসিডেন্টকেই। জুভেন্টাসের কাছে রোনালদোকে ১০০ মিলিয়ন ইউরোয় বিক্রি করেছিল রিয়াল। সেই অর্থ দিয়ে কেনা হয়েছে ভিনিসিয়াস জুনিয়র, থিবো কোর্ত্তয়া, আলভারো আদ্রিওজোলা, ব্রাহিম ডিয়াজ ও মারিয়ানোকে। রামোস ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, এই খেলোয়াড়রা একসঙ্গে রোনালদোর শূন্যস্থান পূরণে মোটেও সক্ষম নন।

এরপর ২০১৯ সালে আয়াক্সের কাছে নিজ মাঠে ৪-১ গোলে হারের পর ড্রেসিংরুমে গিয়ে ক্ষোভ দেখিয়েছিলেন পেরেজ। রামোস পাল্টা জবাব দেয়ায় তাকে অধিনায়কের পদ থেকে বরখাস্তেরও হুমকিও দিয়েছিলেন পেরেজ। এরপর থেকে দুজনের সম্পর্ক বাইরে উষ্ণ মনে হলেও ভেতরের শীতলতা বেশ প্রকাশ পাচ্ছে।