চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘মেধা থাকলে ছোট দৃশ্যে অভিনয় করেও সবার দৃষ্টি পাওয়া যায়’

মুঠোফোনে মনিরা মিঠু:

অভিনেত্রী মনিরা মিঠু। গেল ঈদে প্রচার হয়েছে তার অভিনীত বেশকিছু নাটক। নাটকে মনিরা মিঠুর উপস্থিতি মানেই ভিন্নমাত্রা! পর্দায় তিনি যেমন সাবলীল, ব্যক্তিজীবনে এ অভিনেত্রীর আন্তরিক ব্যবহারের কারণে সবার কাছে প্রিয়। দুই দশক ধরে সমানভাবে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পাওয়া অভিনেত্রী মনিরা মিঠু মুঠোফোনে কথা বললেন চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে…

ঈদে প্রচারিত আপনার অভিনীত নাটকগুলো থেকে কেমন সাড়া পেলেন?
শুধু এবার নয়, আগের ঈদগুলোও জন্যও নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। নায়ক-নায়িকার চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন চরিত্র করতে পেরেছি। ওইসব চরিত্রে আমার অভিনয় দর্শকদের কাছে ভালো লেগেছে, পরিচালক সহশিল্পীদের কাছে ভালো লেগেছে। এবার প্রচার হওয়া ‘যদি আমি না থাকি’ একেবারেই অন্যরকম একটি ক্লাসিক গল্পে কাজ করেছি। এটি থেকে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছি। ‘অ্যাওয়ার্ড’ নাটকে আমার অভিনয় ও চরিত্র এতোটাই  ব্যতিক্রম ছিল যে অনেকেই আমাকে মেনশন করে প্রশংসা করেছেন। তেজপাতা, হঠাৎ বৃষ্টি এলো, আমার মা সব জানে এসব কাজে দর্শকদের থেকে খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। এছাড়াও যে কাজগুলো করেছি সবগুলোর আমার ভিন্ন চরিত্র ও গেটআপের কারণে দর্শক চমৎকারভাবে গ্রহণ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

প্রায়ই শোনা যায়, নায়ক-নায়িকা ছাড়া নাটকে সহশিল্পীদের চরিত্র প্রাধান্য পায় না। আপনার দ্বিমত আছে?
পুরোপুরি দ্বিমত নই, আবার একমতও নই। আমি মনে করি, মেধা থাকলে হিরো হিরোইনের বাইরে ছোট দৃশ্যে অভিনয় করেও সবার দৃষ্টি পাওয়া যায়। তবে হ্যাঁ, অবশ্যই তার উপযুক্ত মেধা থাকতে হবে।

আপনি যেসব নাটকে কাজ করছেন, দিনশেষে সেগুলোতে কাজ করে তৃপ্তি পাচ্ছেন?
আমি আমার কাজগুলো থেকে ১৬ আনা তৃপ্তি পাচ্ছি। শুনেছি শিল্পীদের নাকি কখনও তৃপ্তি হয়না। কিন্তু আমার তৃপ্তি আসে। অভিনয় করার সময় বুঝতে পারি যে এই চরিত্র আমার সঙ্গে মানিয়ে গেছে বা আমি চরিত্রটি ধারণ করতে পেরেছি। তখন থেকে আমার অভিনয়ে তৃপ্তি চলে আসে।

বিজ্ঞাপন

‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ এর পর নতুন কোনো ধারাবাহিকে কাজ করছেন?
হ্যাঁ। মাহমুদুর রহমান হিমির ‘হাউজ নাইটি সিক্স’, অন্য আরেকটি হচ্ছে ‘হিট’ এবং আরেকটি ধারাবাহিকের নাম ‘অনলাইন অফলাইন’।

‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ ধারাবাহিকে আপনার শেফালী খালার চরিত্রটি দর্শক কেন এতো পছন্দ করলো বলে মনে করেন?
চরিত্রটি এককথায় অসাধারণ। প্রথমে দর্শকদের কাছে প্রবেশ করে নেগেটিভ ধারণা নিয়ে। এর মধ্যে এতো ডাইমেনশন, মায়া ও ইতিবাচক দিক ছিল এটা বুঝতে পেরে দর্শক মারাত্মকভাবে গ্রহণ করেন। ফ্যামিলি ক্রাইসিসের সমস্ত ভালোবাসা ওই শেফালী চরিত্রকে ঘিরে থাকে। শুধু বাংলাদেশের দর্শক নয়, গতবছর মার্চে ইন্ডিয়া গিয়ে টের পেয়েছি। কেরালা, মাদ্রাজের মানুষদের সঙ্গে দেখা হলে তারা ইংরেজিতে বলেছে, ‘আই স ইওর ড্রামা অন ইউটিউব। ক্যারেক্টার নেম শেফালী খালা।’ তারা কিন্তু বাঙালি না। এছাড়া কলকাতার ডাক্তাররা আমাকে ডেকে নিয়ে বলেছে আপনি শেফালী খালার চরিত্রে একটি নাটকে অভিনয় করেছেন। আমি এই বিষয়টি দেখে খুবই অবাক হয়েছি। এছাড়া ম্যাসেঞ্জারে আমেরিকা, লন্ডন, মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দর্শক এই চরিত্রটির প্রশংসা করে টেক্সট পাঠায়।

হুমায়ূন আহমেদের বহু নাটকে কাজ করেছেন। তার নির্দেশনা বা তার নির্মাণ প্যাটার্ন খুঁজে পান এখানকার কোনো নির্মাতার মধ্যে?
মাঝেমধ্যে ছোট ছোট দৃশ্যে মিল খুঁজে পাই। যারা স্যারকে খুব ভালোসতেন, যাদের কাছে স্যার স্বপ্নের লেখক বা আদর্শ ছিলেন তাদের কাজে কোনো না কোনো দৃশ্যে একটুখানি প্রভাব পড়ে যায়। আমি সেটা অনুভব করতে পারি। যেমন মোস্তফা কামাল রাজ আছেন। তার স্বপ্ন ছিলেন হুমায়ূন স্যারের সঙ্গে কাজ করবেন। সে যখন সেটে থেকে ইমপ্রোভাইস করেন, অনেক সময় বলে ফেলেন হুমায়ূন স্যার হলে এই দৃশ্যে এমন করতেন; তখনই আমি বুঝতে পারি হুমায়ূন স্যারের প্রতি তার কতটা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কাজ করে। তখনই আমি চট করে বুঝতে পারি স্যার হলে এভাবেই এই দৃশ্যে এটা করতে বলতেন।

অনেকগুলো সিনেমায় কাজ করেছেন। সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা কেমন, কোনো সমস্যা ফেইস করেছেন?
আমি ২৫ টির সিনেমা করেছি। সিনেমা করে যে অভিজ্ঞতা অনুভব করি তা হচ্ছে, নাটক করে যে এত এত সাড়া-ভালোবাসা পেলাম, সিনেমা করতে তার ৩০ পারসেন্টও আমি পাইনি। সিনেমা ওই যুগটাও এখন নাই যে দেশের ৫০ পারসেন্ট মানুষ সিনেমা হলে সিনেমা দেখে অ্যাপ্রিসিয়েট করবে। তবে যে কাজগুলো করেছি সেখান থেকেও অ্যাপ্রিসিয়েশন পেয়েছি, সেটা সংখ্যায় খুবই নগণ্য। আমার ৮০ পার্সেন্ট কলিগ ‘বিশ্বসুন্দরী’ দেখে নাই। ২০ পার্সেন্ট মানুষ দেখে অ্যাপ্রিসিয়েট করেছেন। তবে অধিকাংশই বলেছেন, মিঠু আপা এর চেয়ে নাটকেই ভালো পারফর্ম করেন। হুমায়ূন আহমেদ স্যারের ‘চন্দ্রকথা’র পরে সিনেমাতে মনের মতো চরিত্র এখনো পাইনি। সিনেমার পরিবেশটা আমার কাছে অনেক বড় সীমাবদ্ধতা। নাটকে নায়ক নায়িকার জন্য আলাদা খাবার আসে না। সবাই একই খাবার খান। কিন্তু সিনেমায় এটা দেখি মারাত্মভাবে। সিনেমায় দেখি নায়ক-নায়িকাই স্টার, বাকি সব সাধারণ। এটা তীব্রভাবে দেখেছি। যদিও আমি ফেইস করিনি তবে দেখেছি।