চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সিনেমা বানাবো: কাজী হায়াৎ

‘সিনেমা ছাড়া আমার তো কোনো অস্তিত্ব নেই। আমার বেঁচে থাকার নিঃশ্বাসই হলো সিনেমা’

বার্ধক্য দমাতে পারেনি কাজী হায়াৎকে। হার্টে একাধিক অপারেশন, করোনাক্রান্ত সবকিছু উতরে আবারও সিনেমা নির্মাণে ফিরেছেন বর্ষীয়ান এই চলচ্চিত্র নির্মাতা।

২৫ সেপ্টেম্বর কাজী হায়াৎ তার ৫১তম সিনেমা ‘জয় বাংলা’র শুটিং শুরু করছেন এফডিসিতে। রবিবার রাতে শুটিং সেটে ‘আম্মাজান’ খ্যাত এ পরিচালকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সিনেমা বানাবো।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গেল বছর দেশের শীর্ষ তারকা শাকিব খানের প্রযোজনায় এসকে ফিল্মস থেকে ৫০তম সিনেমা ‘বীর’ পরিচালনা করেছিলেন কাজী হায়াৎ। শারীরিক অবস্থার কারণে কাজী হায়াৎ তখন ভেবেছিলেন, ‘বীর’ই তার শেষ সিনেমা হতে যাচ্ছে। সিনেমাটি মুক্তির একদিন আগে ঢাকা ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ভরা মজলিজে কেঁদে কেঁদে কাজী হায়াৎ বলেছিলেন, ”কতোদিন বাঁচবো জানি না। হয়তো ‘বীর’ আমার শেষ ছবি। শাকিব তার নিজের টাকার সিনেমায় আমাকে কাজের সুযোগ দিয়েছে এজন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো।”

১৯৭৮ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত প্রথম সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। এরপর তিনি যন্ত্রণা, চাঁদাবাজ, ধর, কষ্ট, দেশদ্রোহী, দাঙ্গা, ইতিহাস, অমানুষ, সমাজকে বদলে দাও, অন্ধকারের মতো সিনেমা নির্মাণ করেছেন। এবার সরকারি অনুদান নিয়ে বানাচ্ছেন ‘জয় বাংলা’। মুনতাসির মামুনের উপন্যাস অবলম্বনে এ সিনেমায় অভিনয় করছেন বাপ্পী ও জাহারা মিতু।

বিজ্ঞাপন

চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কাজী হায়াৎ বলেন, মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সিনেমা তৈরি করতে চাই। আমার বয়সের কথা ভেবে অনেকেই হয়তো মনগড়া কথা বলছে যে আমি আর সিনেমা করতে পারবো না। কিন্তু সিনেমা ছাড়া আমার তো কোনো অস্তিত্ব নেই। আমার বেঁচে থাকার নিঃশ্বাসই হলো সিনেমা। তাহলে কেনো আর সিনেমা নির্মাণ করবো না? অবশ্যই করবো।

অসুস্থতা প্রসঙ্গে কাজী হায়াৎ বলেন, বছর দুয়েক আগে নিউ ইয়র্কে যখন চিকিৎসাধীন ছিলাম। আমার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। তখন আমি পৌনে এক ঘণ্টা মৃতপ্রায় ছিলাম। সেখান থেকে সবার দোয়ায় ফিরে আসি। এ বছরের মার্চে করোনা আক্রান্ত হই। প্রায় মরেই গিয়েছিলাম। নিজেও ভাবতে পারিনি যে ফিরে আসতে পারবো। ফিরে এসে কাজ তো করছি। হয়তো আরও করবো।

করোনার ধকল কাটিয়ে আবার ব্যস্ততা বেড়েছে সিনেমার ময়দানে। সিনেমায় ফিরে নতুন পরিবেশন অনুভব করছেন কিনা জানতে চাইলে কিংবদন্তী এই পরিচালক বলেন, করোনার কারণে অনেককিছু বদলে গেছে। ‘জয় বাংলা’ সিনেমাতেও অনেক শিল্পীদের নাম অনুদান প্রস্তাবনায় ছিল। পরে বদলাতে হয়েছে। একজন মরে গেছেন। শুটিংয়ে কষ্ট হলেও মানিয়ে নিতে হচ্ছে। এ সিনেমার জন্য এক কিস্তির টাকা পেয়েছি। চেষ্টা করছি সময়মতো সিনেমাটি শেষ করার জন্য। দায়বদ্ধতা নিয়েই কাজ করছি।

কাজী হায়াৎ জানান, ‘জয় বাংলা’ সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে ১৯৬৮ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মুক্তিযুদ্ধের একটা অধ্যায় দারুণভাবে বলা হয়েছে। এতে আরও অভিনয় করছেন নাদের চৌধুরী, রেবেকা, শ্রাবণ। রাজু চৌধুরী, রাকিবুল ইসলাম রাকিব কাজী হায়াতের সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। টুঙ্গিপাড়া চলচ্চিত্রের ব্যানারে নির্মিত ‘জয় বাংলা’ সিনেমার গল্পে মোট ৩টি রবীন্দ্রসংগীত ব্যবহার করা হয়েছে।

ছবি: নাহিয়ান ইমন