চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মায়ের হাতের পছন্দের রান্নাগুলো শিখে নেয়ার চেষ্টা করছি: শবনম ফারিয়া

ঘরবন্দি তারা:

‘মহামারির মধ্যেও অনেক মানুষ জাজমেন্টাল! এজন্য দানের বিষয়ে আমি চুপ ছিলাম। তবে দান করে মানুষকে জানালেও এতে কিছু মানুষ তো খেতে পারবে।’

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে থমকে গেছে সারাবিশ্ব। মরণব্যাধী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ঘরবন্দি সবাই। নাটক, থিয়েটার ও চলচ্চিত্র অঙ্গনেও পড়েছে এর প্রভাব। করোনার কারণে কাজ নেই শোবিজ অঙ্গনের ব্যস্ত তারকাদেরও। ঘরে বসেই কাটছে তাদের দিন রাত। কী করছেন তারা? হোম কোয়ারেন্টাইনের এই সময় ও সংকট নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া।

এ তারকা জানালেন, গেল ১৯ মার্চ মাস থেকেই তার শান্তিনগরের বাসায় বসে দিন কাটাচ্ছেন। আলাপের বিশেষ অংশ তুলে ধরা হলো:

ঘরবন্দি থাকতে থাকতে আপনার জীবনে কোনো পরিবর্তন এসেছে?
১৮ মার্চ সর্বশেষ শুটিং করেছি। পরদিন থেকে আমি ঘরবন্দি। জীবনে পুরোপুরি পরিবর্তন এসেছে। আমি মাসে প্রায় ২২ দিনই ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা কাজ করে অভ্যস্ত। যেদিন শুটিং থাকে না সেদিন জিমে যেতাম। এখন এমন কোন দিন যায় না যে একদমই করার মতো কিছু নেই। এই অভিজ্ঞতা একদমই নতুন। প্রথম প্রথম বেশ বিরক্ত লাগছিল। এখন মনে হয় অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তবে ঘুমের সময়ের একদম ঠিক নেই। যখন তখন ঘুমিয়ে যাচ্ছি। এই সুযোগ তো আগে কখনো পাইনি।

বিজ্ঞাপন

নিজের সাবধানতা এবং পরিবারের খেয়াল রাখছেন কীভাবে?
আমার বাবার মৃত্যুর পর বলতে গেলে আমি আর আমার মা এ দুজন মানুষের সংসার। মা-মেয়ে আমাদের দুজনেরই ডায়াবেটিস আছে। আম্মুর বয়স ৬০ এর বেশি। তাছাড়া আম্মুর হার্টেরও একটু সমস্যা তাই তাকে নিয়েই আমাদের চিন্তা বেশি। আমার বাবা মারা গিয়েছিলেন চিকুনগুনিয়ায়। তাই মাকে নিয়েই বেশি ভয় পাই। মাও বেশ সাবধান। আমার বড় দুইবোনও ফোনে ফোনে মাকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন, সাবধানে থাকতে বলেন। আমরাও চেষ্টা করছি সচেতনা নির্দেশনাবলী সম্পূর্ণভাবে মেনে চলার। বাসা থেকে একদমই বের হই না। গত ১৮ তারিখ থেকেই ড্রাইভার, বুয়া পেইড লিভে। আম্মুর একজন কেয়ার টেকার আছে, উনিও সম্পূর্ণ নির্দেশনা মেনে চলছেন।

বিজ্ঞাপন

ঘরে আপনার দিন কাটছে কীভাবে?
ব্যস্ত যে খুব একটা রাখতে পারছি তেমন না, তবে চেষ্টা করছি। এখন মাকে অনেক জ্বালাই। সারাক্ষণ এটা সেইটা খেতে চাই। মা সেসব নিয়ে ব্যস্ত থাকে। নিয়মিত আমি আর মা একসাথে নামাজ পড়ি। প্রতিদিন একটু করে কোরআন শরীফ পড়ছি। ঈদের আগে মায়ের সাথে কোরআন খতম দেয়ার চেষ্টা করছি। শেষ মনে হয় ক্লাস টেনে কোরআন খতম দিয়েছিলাম। এরপর আর এভাবে কখনো সময়ই পাইনি। এই জন্যে মা ভীষণ খুশি। আমি একদমই রান্না পারতাম না। এই কদিনে অনেক রান্না শিখেছি। প্রায়ই বিভিন্ন রকমের কেক বানাচ্ছি। মায়ের হাতের যেসব রান্না পছন্দ তা শিখে নেয়ার চেষ্টা করছি! কস্টিউম গুছিয়ে রাখছি সব। যেগুলো পরবো না আলাদা করে ফেলছি। 

কাগজ পেন্সিল দিয়ে কস্টিউমের ডিজাইন আঁকছি। নিয়মিত বাসায় ইয়োগা করার চেষ্টা করছি আমার ডায়াবেটিস কন্ট্রোল করার জন্য।

করোনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনি শঙ্কিত?
হ্যাঁ, আমি সত্যিই শঙ্কিত। কারণ আমাদের জনবহুল দেশ। ইতালির জনসংখ্যা আমাদের প্রায় ৩ ভাগের একভাগ। আমেরিকা এতো উন্নত দেশ সেখানেও খুব খারাপ অবস্থা। আমাদের দেশে এমনিতেই মানুষ বেশি। এখন সচেতন হয়ে ঘরে না থাকলে করোনার প্রকোপ বাড়তেই থাকবে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কোন দুটি কাজ আগে করবেন?
প্রথমে ছয় রাকাত নামাজ আদায় করবো। তারপর আমার দাদি, ফুফু, চাচা-চাচি, কাজিনদের সাথে দেখা করবো। পরে জিমে যাবো। আর আমার স্টেক খুব পছন্দ। পছন্দের রেস্টুরেন্টে গিয়ে স্টেক খাবো।

সামর্থবানরা অসচ্ছল মানুষদের সহায়তা করছেন, আপনি কি এমন উদ্যোগ নিয়েছেন?
অভিনয় শিল্পী সংঘে আমার একদিনের পারিশ্রমিক দিয়েছি। নির্মাতা মুস্তাফা কামাল রাজ ভাই ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়েছে সেখানে আমি অংশ হয়েছি। আগামীতে যদি আরও লাগে আমি অবশ্যই চেষ্টা করবো। এছাড়া আমি ব্যক্তিগতভাবে ১২০ জনকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দিয়েছি। আসন্ন রোজার প্রথম সপ্তাহে আরও ১৫০ জনকে দেব ইনশাআল্লাহ। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যতটুকু সাহায্য করা যায়। আমার মনে হচ্ছে, এই অচলাবস্থা আরো কিছুদিন থাকা লাগবে।

এগুলো গোপন রেখেছেন কেন?
গোপন করি নাই। আমি চাইনি ইচ্ছাকৃতভাবে জানাতে। এর দুটি দিক আছে। কেউ বলে দান করে মানুষকে দেখাতে হয়না। আরেকদল বলবে, দান করলে জানান যাতে অন্য কেউ দান করতে উৎসাহিত হয়। মহামারির মধ্যেও অনেক মানুষ জাজমেন্টাল! এজন্য আমি চুপ ছিলাম। তবে দান করে মানুষকে জানালেও এতে কিছু মানুষ তো খেতে পারবে।