চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘মাসুদ রানা’ ও ‘কুয়াশা’ নিয়ে কপিরাইট অফিসের আদেশ স্থগিত

সেবা প্রকাশনীর পাঠকপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ ‘মাসুদ রানা’র ২৬০টি ও ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে শেখ আবদুল হাকিমের পক্ষে কপিরাইট অফিসের দেয়া আদেশ এক মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

কপিরাইট অফিসের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে লেখক কাজী আনোয়ার হোসেনের করা রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো.আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রুলসহ এই আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

আদালত তার রুলে, কপিরাইট অফিসের রায় কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন। সংস্কৃতি সচিব, কপিরাইট অফিস, রেজিস্ট্রার অফ কপিরাইটস এবং কপিরাইট বোর্ডকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আজ আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও এ বি এম হামিদুল মিসবাহ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশীষ ভভট্টাচার্য ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নাসিম ইসলাম।

হাইকোর্টের আদেশের পর আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কপিরাইট লঙ্ঘনের কোনো আবেদন শোনার এখিতিয়ার কপিরাইট অফিসের নাই। কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগের আবেদন শুনবেন জেলা জজ অথবা দায়রা জজ। অথচ কপিরাইট অফিস ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি বই এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে শেখ আবদুল হাকিমকে স্বত্ব দিয়ে গত ১৪ জুন সিদ্ধান্ত দেন। তাই কপিরাইট অফিসের দেয়া আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনটি করা হয়। সেই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট কপিরাইট অফিসের রায়টি এক মাসের জন্য স্থগিত করে রুল জারি করেছেন।’

সর্বশেষ গত বছরের ২৯ জুলাই আবদুল হাকিম ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে স্বত্ব বা মালিকানা দাবি করে সেবা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কাজী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কপিরাইট অফিসে অভিযোগ দাখিল করেন। সেই অভিযোগ আমলে নিয়ে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে এবিষয়ে তিন দফায় শুনানি হয়। সেই সাথে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সন্তোষজনক ও সুষ্ঠু সমাধানের উদ্দেশ্যে দেশের প্রথিতযশা কয়েকজন লেখক ও প্রকাশক এবং সেবা প্রকাশনীর সাবেক ব্যবস্থাপকের লিখিত মতামত চাওয়া হয়। সেই অনুযায়ী এ বিষয়ে মতামত দেন লেখক বুলবুল চৌধুরী ও শওকত হোসেন, শিল্পী হাসেম খান এবং সেবা প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক ইসরাইল হোসেন খান।

এরপর গত ১৪ জুন আবদুল হাকিমের পক্ষে আদেশ দেয় কপিরাইট অফিস। ওই আদেশের ফলে ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে স্বত্ব পেতে যাচ্ছিলেন আবদুল হাকিম।