চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মাদকের মতো দ্রব্যমূল্যের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা যায় না?

সংযমের মাস পবিত্র রমজান চলছে। মুসলিম জাহান পরম করুণাময়ের প্রার্থনায় নিজেকে নিবেদন করেছেন। পবিত্র রমজান মাসে চলছে র‌্যাব-পুলিশের মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান। এ অভিযানকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধী মহলসহ বেশ কয়েকটি মহলের সমালোচনা থাকলেও দেশের বর্তমান পরিস্থিতে এমন অভিযানকে জরুরী মনে করছেন অনেকেই। তবে হতাশার বিষয় প্রতিবছরের মতো এবারের রমজান আসার সাথে সাথেই দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

রোজাদারদের প্রায় জিম্মি করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছেন উৎপাদক, বিপননকারী, আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। আন্তর্জাতিক বাজারে চাল, গম, ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, গুঁড়াদুধ, ছোলা, লবণ ইত্যাদির দাম কমতির দিকে। কিন্তু আমাদের দেশে এর চিত্র উল্টো। বাড়ছে বৈ কমছে না। রমজান মাসে নানা কারসাজি ও ঝকমারি অজুহাতে দাম বাড়ানোতে পটু আমাদের ব্যবসায়ী সমাজ। তবে তারা ঠিক রমজান মাসে না, শবে বরাতের পর থেকেই ধীরে ধীরে দাম বাড়ানোর এক অদ্ভুত কৌশল নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রমজান, ইদ-উল ফিতর, ইদ-উল আযহা, দুর্গাপূজা এলে কোনো কারণ ছাড়াই বাড়তে থাকে ভোগ্যপণ্যের দাম। কারণ হিসেবে কখনও, ঝড়-বজ্র ও বৃষ্টিপাত, রাস্তা খারাপ, পরিবহণ ধর্মঘট এসব অজুহাত দাঁড় করা হয়।

রেহাই পাচ্ছে না শাকসবজির বাজারও। মাংসের দাম ঊর্ধ্বমুখী, যথারীতি এর প্রভাব পড়েছে মাছ, ডিম ও দুধের বাজারেও। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যে ছাড় দেয়। এছাড়াও থাকে নানা উপহারসহ আকর্ষণীয় ছাড়। আমাদের দেশে রমজান হয়ে ওঠে এক বিভীষিকাময় জুলুমের মাস।

বিজ্ঞাপন

কিছু মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ী সংগঠন ও আড়তদার বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফা লুটে নিচ্ছে। এমন অভিযোগ হর হামেশাই জনমুখে উচ্চারিত হয়। রমজান এলেই পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগও অনেক পুরোনো। আমাদের দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও বেশ শক্তিশালী। অনেকটা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আদলে তারা পরিচালিত হওয়ায় তাদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি অস্বীকার করা যায় না। যার ফলে ভোক্তা ও ক্রেতাদের স্বার্থ ও সুবিধার কথা কেবলমাত্র অভিধানেই থাকে।

সারাদিন রোজা রেখে ইফতারে একটু ফলমূল সবাই চায়। সে ফলে বা সবজিতে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর ফরমালিন বা বিষ। রাসায়নিক ব্যবহার করে পাকানো হচ্ছে ফল।

প্রতি রমজানে এক শ্রেণীর আড়তদার পণ্য মজুদ শুরু করেন। দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের নাকাল করে তারা বেশি দামে পণ্য ছাড়েন। অথচ এই ব্যবসায়ীরাই প্রতিবছর হজ্জ করেন, যাকাত দেন, ফেতরা দেন। ইফতার বিলি করেন, ইফতার নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষদের কেউ আবার প্রাণও হারায়। বড় বড় ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের দেয়া নিম্নমানের জাকাতের কাপড় সংগ্রহ করতে গিয়ে হতহতের ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। দান করার নেকি হাসিল করতে গিয়ে প্রাণ সংশয়ের চিত্র হয়তো আমাদের দেশেই দেখা সম্ভব।

আমাদের দেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। আমাদের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। অথচ সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসলাম ধর্মের দেশে পবিত্র রমজান মাসে নেমে আসে সীমাহীন দুর্ভোগ আর নিপীড়ন। সাধারণ মানুষ হিসেবে অনুনয়- রমজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে, সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার জন্য কি আরেকটি সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা যায় না?

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)