চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মাদকাসক্ত সাপ নিরাময়কেন্দ্রে!

অস্ট্রেলিয়া পুলিশ ক্রিস্টাল মিথামফেটামিন নামের মাদক তৈরির একটি ল্যাবে গত বছর অভিযান চালানোর সময় আশা করেছিল সেখানে পাওয়া যাবে কেজির কেজি মাদকদ্রব্য, মাদক তৈরির সরঞ্জাম আর লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ অর্থ।

কিন্তু এগুলো ছাড়াও তারা পেল এমন কিছু, যা ছিল সবার কল্পনারও বাইরে- ৬ ফুট লম্বা একটি মাদকাসক্ত বুনো অজগর!

বিজ্ঞাপন

পুলিশের ধারণা, সাপটি ওই ল্যাবে থাকা অবস্থায় নিয়মিত এর ত্বকের মাধ্যমে মাদকদ্রব্যের বাষ্প, ধোঁয়া এবং সূক্ষ্ম কণা শুষে নেয়ার কারণেই মাদকাসক্ত হয়ে পরে। সাপটির অস্বাভাবিক আগ্রাসী আচরণে ব্যাপারটি আরও নিশ্চিত হন উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা।

তবে মানুষ নয় বলে কিন্তু মাদকের শিকার এই হতভাগাকে ফেলে যায়নি কেউ। সাপটিকে উদ্ধার করে আসক্তি নিরাময় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় তখনই।

নিরাময়ের পর সাপটি

বিজ্ঞাপন

এর সাত মাস পর সেই ‘ভীষণ আগ্রাসী’ সাপটি মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সফল হয়। আর এর কৃতিত্ব যায় সিডনির কয়েকজন কয়েকদির কাছে, যারা একটি বন্যপ্রাণী পরিচর্যা প্রকল্পের অধীনে টানা সাত মাস সাপটির সেবা করে গেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী সিডনিতে একটি কারাগারে পরিচালিত হয় এই বন্যপ্রাণী পরিচর্যা প্রকল্পটি। সবচেয়ে কম নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওই জেলখানাটিতে সবচেয়ে কম বিপজ্জনক কয়েদিদের আবাস। তাদের মধ্য থেকে বাছাই করা ১৪ জন কয়েদিকে নিয়ে প্রকল্পটি পরিচালনা করা হয়। প্রকল্পটিতে ক্যাঙ্গারু, ওয়ালাবি, পসাম, ওয়ামব্যাট এবং স্থানীয় পাখিসহ প্রায় আড়াইশ’টি প্রাণীর পরিচর্যা করা হয়।

বন্যপ্রাণী পরিচর্যা প্রকল্পের সদস্য কারাবন্দীদের একজন

বিবিসি জানিয়েছে, জন মরোনি কারেকশনাল কমপ্লেক্স নামের ওই কারাগারে একই ল্যাব থেকে উদ্ধার করা আরও কিছু সরিসৃপও নিরাময়ের জন্য পাঠানো হয়। কারেকশনাল কমপ্লেক্সটির এক কর্মকর্তা জানান, অপরাধীরা অনেক সময় লুকানো সরঞ্জামের সুরক্ষার জন্য সেগুলোর সঙ্গে বিষাক্ত সাপ রেখে দেয়।

সাপটিকে আইনগত কারণে কোনো নাম দেয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে কারাগার কর্তৃপক্ষ। মাদক পাচারকারীদের মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ার পর সাপটিকে নতুন মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।