চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মাত্র ২৬ দিনে সরকারের ঋণ ৬ হাজার কোটি টাকা

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এতে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরের শুরুতেই বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার।

এমন পরিস্থিতিতে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে সরকারের ঋণ নির্ভরতা বেড়েছে। তবে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই জন্য রাজস্ব আয় বাড়ানোর বিকল্প নেই।

বিজ্ঞাপন

করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা ভাল নয় উল্লেখ করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের রাজস্ব আদায় কমে গেছে। সঞ্চয়পত্র বিক্রিও কমেছে। কিন্তু সরকারের ব্যয় কমেনি। তাই ব্যয় মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে।’

‘‘বর্তমানে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধিও অনেক কম। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে সচল করতে হলে বেসরকারি ঋণ বিতরণ বাড়াতে হবে। আবার সরকারের ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা কমাতে হবে।’’

পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশি উৎস থেকে কম সুদে ঋণ আনতে পরামর্শ দেন এই তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাসের (জুলাই) প্রথম ২৬ দিনে সরকার ব্যাংক থেকে নিট ৬ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

একই সময়ে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। এরমধ্যে আগের নেওয়া ঋণ পরিশোধ করেছে ২ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা।

সাধারণত বাজেটের ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছরই ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় সরকার। তবে কম রাজস্ব আদায় এবং সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমে যাওয়ায় গত অর্থবছরের শুরু থেকেই ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ওই অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ঋণ নিয়েছিল।

গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার মোট ঋণ নিয়েছিল ৭২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। যা তার আগের অর্থবছরের (২০১৮-১৯) চেয়ে ১০৯ শতাংশ বেশি।

অথচ ২০১৯-২০ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। আবার সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৮২ হাজার ৪২১ কোটি টাকা করা হয়।

আগের অর্থবছরগুলোর ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরে (২০২০-২১) বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করে রেখেছে।

যদিও নতুন মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ। যার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা যথাক্রমে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ ও ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুন শেষে বেসরকারি খাতে বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ। পরের অর্থবছরের (২০১৯-২০) জুনে সেই প্রবৃদ্ধি আরো কমে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়ায়। যেটা চলতি মুদ্রানীতিতে প্রক্ষেপিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ কম।