চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মতিন খসরুর প্রতি শ্রদ্ধায় বসবে না সুপ্রিম কোর্ট

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রয়াত সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ আজ (বৃহস্পতিবার) না বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা না করার এ বিষয়টি ভার্চুয়াল আদালত থেকে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সকালে সবাইকে অবহিত করেন।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকালে মারা যান সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু।

দলীয় এ সাংসদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধান বিচারপতি-সহ রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন মানুষ তার মৃত্যুতে শোক জানান।

গত ১৬ মার্চ আব্দুল মতিন খসরুর করোনা পজিটিভ আসে। এরপর তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে গত ১ এপ্রিল আব্দুল মতিন খসরুর করোনা পরীক্ষার রেজাল্ট নেগেটিভ আসে।

এরপর ৩ এপ্রিল আইসিইউ থেকে তাকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবার তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং পরে ১২ এপ্রিল তাকে লাইফ সাপোর্ট নেয়া হয়।

আব্দুল মতিন খসরু ১৯৫০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মিরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মো. আবদুল মালেক এবং মাতা জাহানারা বেগম। আব্দুল মতিন খসরু এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

১৯৭৮ সালে কুমিল্লা জজকোর্টে আইন পেশা শুরু করেন আব্দুল মতিন খসরু। এরপর ১৯৮২ সাল থেকে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত হন। এরমাঝে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন এবং কুমিল্লা জেলার অবিভক্ত বুডিচং থানার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।

একপর্যায়ে আইন পেশার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির সাথে জড়িত হন আব্দুল মতিন খসরু। তিনি বর্তমান জাতীয় সংসদ-সহ মোট ৫ বার  সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন।

১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ছিলেন দেশের আইনমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মতিন খসরু সর্বশেষ ২০২১-২২ মেয়াদের সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন।