চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কৃষকের সংগ্রাম: ফকির মজনু শাহ থেকে মওলানা ভাসানী

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আবির্ভূত হয়েছিলেন একটি সংগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ধারায়। সেই ঐতিহ্যের ধারক-বাহক কারা ছিলেন? যাঁরা ছিলেন তাঁরা কোন্ কোন্ ঐতিহ্য লালন-পালন করেছিলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর আশাকরি এ লেখায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হবে।

ধারাটি শুরু হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা-সূর্য ডুবে যাবার পরপরই। সেটা ছিল ফকির মজনু শাহের নেতৃত্বে পরিচালিত, ইতিহাসে লেখা হয়- ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ। ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ থেকে এ বিদ্রোহের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং সগৌরবে অব্যাহত ছিল ৪০ বছর, ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। অনেক গড়মিল থাকলেও আশ্চর্যজনকভাবে ১০০ বছর পর সূত্রপাত হলেও মওলানা ভাসানীর সংগ্রামের সাথে বেশ কিছু ক্ষেত্রে মিলও পাওয়া যায়। ৩০ বছর পর নারিকেলবাড়িয়ার ‘বাঁশের কেল্লা’ নির্মাণের মাধ্যমে সৈয়দ নিসার আলী তিতুমীরের বিদ্রোহও মওলানা ভাসানীর পূর্বসূরির ঐতিহ্য। ৫/৬ বছর পর এই বাংলায় ১৮৩৬ থেকে শুরু ফরায়জি আন্দোলনও মওলানা ভাসানীর অত্যন্ত সুস্পষ্ট সংগ্রামী ঐতিহ্য। মওলানা ভাসানীর জন্মের ৮ বছর আগে ১৮৭২-৭৩-এ সিরাজগঞ্জে যে সকল কৃষক বিদ্রোহ হয় তাও মওলানা ভাসানীর পূর্বসূরিদের রেখে যাওয়া একটি বার্তা।

বিজ্ঞাপন

এক নজরে পূর্বসূরিদের সংগ্রামী (বিদ্রোহের বা আন্দোলনের প্রধান নেতা অব্যাহত থাকার সময়কাল) ঐতিহ্যের চিত্রটি নিম্নরূপ:
১. ফকির মজনু শাহ ও ভবানী পাঠকের নেতৃত্বে ১৭৬০ -১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
২. সৈয়দ নিসার আলী তিতুমীরের নেতৃত্বে সশস্ত্র বিদ্রোহ ১৮২৭ -১৮৩১ খ্রিস্টাব্দ
৩. হাজি শরিয়তউল্লাহ এবং তাঁর পুত্র মোহসেনউদ্দিন ওরফে দুদু মিয়ার নেতৃত্বে সংঘটিত বিদ্রোহ/আন্দোলন ১৮৩৬ – ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দ
৪. ঈশান চন্দ্র রায়-এর সমন্বয়ে ১১ জন বিদ্রোহী নেতার পরিচালনায় সিরাজগঞ্জের কৃষক বিদ্রোহ ১৮৭২ – ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দ

গবেষণায় দেখা যায়, উপরে বর্ণিত বিদ্রোহের ও আন্দোলনের ঐতিহ্যগতভাবে ২টি বিষয় মওলানা ভাসানীর আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।

দু’টি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
১. কৃষক ছিল আন্দোলনের নিয়ামক শক্তি।
২. নেতৃত্বের পুরোধায় যিনি ছিলেন তিনি হতেন আধ্যাত্মিক পুরুষ। শুধুমাত্র সিরাজগঞ্জের কৃষক বিদ্রোহে এ বৈশিষ্ট্য সংশ্লিষ্ট ছিল না।

ফকির মজনু শাহ-এর দলবল ১৭৭০ দশকে ৫০ হাজারে উন্নীত হয়। ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন কার্যকর হলে দেখা গেল কৃষক আর ভূমির মালিক নয়। জমিদরগণই জমির মালিক। সেজন্যে সর্বহারা কৃষক নির্যাতিত নিপীড়িত কৃষক ফকির মজনু শাহ দলে ভিড়ে যায়।

ফকির মজনু শাহ আধ্যাত্মিক জীবন জড়িয়ে ছিল সুফি সম্প্রদায়ের মাদারিয়া শ্রেণিভুক্ত। এ তরিকার প্রতিষ্ঠাতা বদিউদ্দিন শাহ-ই-মাদার সিরিয়া থেকে উত্তর ভারতে এসে আস্তানা গেড়েছিলেন পঞ্চদশ শতাব্দির প্রথম দিকে। ১৪৩৬ খ্রিস্টাব্দে অযোধ্যার কানপুর জেলার মাখনগঞ্জে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অনুসারী সুফি নেতা শাহ সুলতান হাসান সুরিয়া বুরহানা মোগল সুবাদার শাহ-সুজার আনুকূল্য পেয়ে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী একটি ধারা সৃষ্টি করেন। সেই ধারারই আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক উত্তরসুরি হয়েছিলেন ফকির মজনু শাহ্। তিনি দলবলসহ ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দের ব্রিটিশ বিরোধী নবাব মীর কাসেমের পক্ষাবলম্বন করে বক্সারের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। পরাজিত হয়ে নবাব মীর কাসেম সব ছেড়ে দিলেও ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহে ফকির মজনু শাহ্ মাঠেই থেকে যান। তিনি গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করে ব্রিটিশ পক্ষকে আক্রমণ ও হেনস্থা করতে থাকেন। তাঁর প্রধান আস্তানা ছিল বগুড়ার মহাস্থান গড়ে এবং টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ে। জনগণ তাঁর পক্ষে ছিলেন। বিদ্রোহীদের খাবার জুটাতে বাড়ি বাড়ি মুষ্টির চাউল রাখা হতো। এভাবে জনগণই তাঁদের খাবার জুটাতেন। ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে ভবানি পাঠক নিহত হন, ফকির মজনু শাহ্ গুরুতর আহত হন। তিনি আহত অবস্থায় উত্তর ভারতের আস্তানায় চলে যান। ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ এর পরও ১৩ বছর অব্যাহত ছিল। তখন নেতৃত্বে ছিলেন মূসা শাহ, চেরাগ আলি শাহ, পরাগল শাহ, সোবহান শাহ, করিম শাহ ও মাদার বক্স।

বিজ্ঞাপন

তিতুমীর ও তিতুমীরের বিদ্রোহ অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। এ বিদ্রোহের নিয়ামক শক্তি ছিলেন কৃষক সম্প্রদায়। তাঁতী সম্প্রদায়ও সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। বিদ্রোহের কাহিনী নানা পরিসরে বহুল আলোচিত। তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা সম্পর্কে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ছাত্র-শিক্ষক ভালোভাবেই অবগত হয়ে থাকেন। দেশপ্রেমের উজ্জ্বল নিদর্শন ছিল বাঁশের কেল্লা। শত্র“র হাতে কামান আছে জেনেও তিতুমীর সংগ্রাম থেকে পিছপা হননি। তাঁর প্রধান সেনাপতি গোলাম মাসুমকে ব্রিটিশ বাহিনী প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝুলায়। তিতুমীরের কনিষ্ঠ পুত্র কামানের গোলায় একটি পা হারান। এর পরও তিতুমীর আত্মসমর্পণ করেননি। এসব বিবরণ বহুল আলোচিত। কিন্তু তিতুমীর যে একটি আধ্যাত্মিক জীবনধারায় জড়িত ও সমৃদ্ধ ছিলেন, এ দিকটি বহুল আলোচিত নয়। তিতুমীর ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে হজ্বব্রত পালন করতে মক্কায় যান। সেখানে তাঁর সাথে সাক্ষাত হয় উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ বেরেলভির। বেরেলভি ছিলেন যেমনই সৈনিক, তেমনই আধ্যাত্মিক। তাঁর হাতেই হাত রাখেন অর্থাৎ বায়েত হন তিতুমীর। এতে তিতুমীরের জীবনে আসে বিশাল পরিবর্তন। সৈয়দ আহমদ বেরেলভি ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে উত্তর ভারতের বালাকোটে সদলবলে শহিদ হন। তিতুমীর সঙ্গীসাথিসহ শহিত দন ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে। এ দুই নেতার মৃতদেহ খোঁজ করেও বৃটিশ বাহিনী পায়নি।

ফরায়জি আন্দোলনেও কৃষক-শক্তি ছিল প্রধান চালিকাশক্তি। হাজি শরিয়তউল্লাহ মক্কা-মদিনায় ২০ বৎসর এবং কায়রোর আল আজহারে ২ বৎসর অধ্যয়ন করেন। মক্কা-মদিনা থেকে হাজি শরিয়তউল্লাহ আধ্যাত্মিক প্রজ্ঞা ও শক্তি লাভ করে আসেন। তিনি তাঁর পুত্র মোহসেনউদ্দিন ওরফে দুদু মিয়াকে আধ্যাত্মিক জীবনের দিশা দান করেন। দুদু মিয়াই ফরায়জি আন্দোলনকে যুগপৎ সামরিক ও আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেন। তিতুমীর যেমন জমিদার শ্রেণিকে নাস্তানাবুদ করেছিলেন, দুদু মিয়াও তাই উভয়ই কৃষকসমাজকে স্বাধীনভাবে চলার পথ দেখিয়ে ছিলেন। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের প্রথম সর্বভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালে ব্রিটিশ সরকার দুদু মিয়াকে কোলকাতায় বন্দি করে রাখেন। ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মুক্তি লাভ করলেও বেশিদিন জীবন ধারণ করতে পারেননি। তাঁর ইন্তেকাল হয় এবং ফরায়জি আন্দোলন আর যুদ্ধংদেহী থাকেনি। বরং একটি সংস্কারধর্মী আন্দোলনে পরিণত হয়।

মওলানা ভাসানী সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করলেও কৃষক বিদ্রোহের কোন আলামত দেখেননি। শুধুমাত্র এইটুকু পাওয়া যায় যে, ঐ বিদ্রোহের একজন দূরবর্তী সমর্থক-কর্মী আবদুল বারী শিশু ভাসানীর গৃহশিক্ষক ছিলেন। তিনি হয়তো ভাসানী পরিবারে বিদ্রোহের উত্তাপ সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা করে থাকতে পারেন। তবে এটা নিশ্চিত, বিদ্রোহের সুফল হিসেবে ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন কার্যকর হওয়া সম্পর্কে এবং সে কারণেই জমিদারদের হম্বিতম্বি কিছুটা হ্রাস পাওয়া এতটুকু তরুণ ভাসানী উপভোগ করে থাকতে পারেন।

স্বাধীনতার সূর্য ডুবে যাবার পর ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হিসাব করলে দেখা যাবে ছোটবড় মিলিয়ে কমপক্ষে ৪০টি বিদ্রোহ এই বঙ্গীয় অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল। তন্মধ্যে সিরাজগঞ্জের কৃষক বিদ্রোহ সবচে’ সফল বিদ্রোহ। জমিদারদের ভেতরে প্রাণভয় দেখা দেয়া এবং কৃষক-শক্তিকে আমলে নেয়া ছিল এই বিদ্রোহের মস্তবড় প্রাপ্তি। ব্রিটিশ সরকারও কৃষকের দুঃখ-কষ্ট কিছুটা হলেও অনুধাবন করে। সেজন্যে দেখা যায় ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনে জমিদারদের অতিশয় লম্বা হাতকে কিছুটা কাটছাট করেন। আইনে বলা হয়, একাদিক্রমে যে কৃষক কমপক্ষে ১২ বছর জমি চাষ করেছে তারা স্থিতিবান রায়ত। জমি থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করা যাবে না। স্থিতিবান রায়তের খাজনা জমিদার বৃদ্ধি করতে পারবে না।

খুবই লক্ষণীয় যে, কোন ব্যক্তি-বিশেষ এ বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণ করেনি। যদিও ঈশান চন্দ্র রায় নেতৃস্থানীয় বিদ্রোহীদরকে বৃদ্ধি-পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু গবেষণায় দেখা যায়, হিন্দু-মুসলমান মিলে ১০ জনের সমষ্টিগত নেতৃত্ব বিদ্রোহকে সফলতার মুখ দেখিয়েছে। ওই ১০ জন হলেন ১. ক্ষদি মোল্লা, ২. রমজান সরকার, ৩. জাকের জোয়ার্দার, ৪. শম্ভুনাথ পাল, ৫. রহিম প্রামাণিক, ৬. হাজারি প্রামাণিক, ৭. আরবিন মৃধা, ৮. মন্দীর সরকার, ৯. জগৎ ভৌমিক ও ১০. গঙ্গাচরণ পাল। এ বিদ্রোহই কৃষক সংগঠনের চিন্তাভাবনার জন্মদান করে। মওলানা ভাসানী ১৯৫৮ সালের ৩ জানুয়ারি ‘কৃষক সমিতি’র জন্মদান করেন। দুঃখের বিষয়, মওলানা ভাসানীর সাথে থাকা মস্কোপন্থী কমিউনিস্ট নেতৃত্ব কৃষক সমিতিকে মেনে নেননি। তাদের অভিমত ছিল, শ্রেণি-সংগঠন করার সময় এখনো আসেনি। মওলানা ভাসানী এদিক দিয়ে ১৮৭২-৭৩-এর কৃষক বিদ্রোহের নিকট ঋণী।

মওলানা ভাসানীর জন্ম পূর্ববাংলায় অর্থাৎ সিরাজগঞ্জে হলেও রাজনীতিতে ও আন্দোলনে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলেন আসামে। ব্রিটিশ সরকার ১৯২০ সালে ‘লাইন প্রথা আইনটি’ পাস করে। এর প্রয়োগ শুরু করে ১৯৩৫ সাল থেকে। এই আইন আসামে অবস্থানরত বাঙালিদের জন্য ছিল একটি গজব। ৫০/৬০/৭০ বছর যাবৎ পূর্ববাংলার যারা অভিবাসী তাদেরকে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র এর মধ্যে নিহিত ছিল। মওলানা ভাসানী লক্ষ লক্ষ মজলুমের পক্ষে রুখে দাঁড়ালেন। বাঙালি উচ্ছেদের কাজটি ব্রিটিশের সাথে স্থানীয় জমিদারগণ করে যাচ্ছিলেন। তখনই মওলানা ভাসানী বাঙালিদের মধ্যে থেকে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী গড়ে তুলেন। জমিদারদের লাঠিয়াল বাহিনীকে পরাজিত ও পর্যুদস্ত করেছে মওলানা ভাসানীর বাহিনী। ব্রিটিশ সরকার যখন দেখল লাইন প্রথা আইন কার্যকর করা যাচ্ছে না, তখন আসামের জমিদারদের বাঙালি সমাজের বিরুদ্ধে উস্কে দিল এবং শুরু হল ‘বাঙ্গাল খেদা আন্দোলন’। এর মোকাবেলায়ও মওলানা ভাসানী সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলেন। এ সময়ে মওলানা ভাসানী একটি কাজ করেন যা ফকির মজনু শাহ্ই প্রথমে করেছিলেন। তা ছিল তৎকালীন চোর-ডাকাতের গ্যাংকে কাজে লাগালেন। তাদের হুমকি-ধমকিতে জমিদারগণ ব্যতিব্যস্ত থাকতেন। জান-মান বাঁচাতে জমিদারগণ কোলকাতায় আশ্রয় নেন। গ্রামের প্রাসাদ শূন্য পড়ে থাকে।

সেজন্যেই বলেছি, ফকির মজনু শাহ্, তিতুমীর যে ঐতিহ্য রেখে গিয়েছিলেন মওলানা ভাসানী সে ঐতিহ্যের অনুশীলন করেছিলেন। তাঁর অনুশীলনের পুরোধায় ছিলেন কসিমউদ্দিন দেওয়ান এবং দেওয়ানের জামাতা আরফান। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মওলানা ভাসানী পূর্ববাংলায় চলে আসেন এবং কাগমারীতে বসবাস শুরু করেন। শুরু থেকেই মওলানা ভাসানী কৃষকের স্বার্থে রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্ম দান করেন। তাঁর কাগমারী সম্মেলন বলতে গেলে আর কিছু ছিল না, ছিল কৃষকের তথা শ্রমজীবী মানুষের রাজনীতি পুরোধায় নিয়ে আসা। ১৯৬০ দশকে মওলানা ভাসানী অসংখ্য কৃষক সম্মেলন করেছেন। শহরের আর রাজধানীর রাজনীতিকে তিনি গ্রামে-গঞ্জে তথা কৃষকের দুয়ারে পৌঁছানোর আন্দোলন করেছেন। এতে যেন তাঁর ক্লান্তি ছিল না। মমতা ও দরদ মজ্জাগত ছিল বলেই মওলানা ভাসানী কখনো থেমে থাকেননি। এভাবেই তিনি কৃষকের মধ্যে যুদ্ধংদেহী মনোভাব প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। শেষ পর্যন্ত যখন মুক্তিযুদ্ধ দুয়ারে এসেই গেল, মওলানা ভাসানীর কৃষক পলায়নরত হননি। নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সাথে সামিল করতে কৃষকসমাজ ইতস্তত করেনি।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)