চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভোলায় তরমুজ চাষ করে কৃষকরা লাখপতি

ভোলায় এবার তরমুজের ভালো ফলন ও দাম ভালো যাচ্ছে। এতে বেজায় খুশি তরমুজ চাষিরা। জেলার চরে চরে এখন চলছে তরমুজ বেচা কেনার ধুম। বেপারিরা মাঠ থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ভোলার তরমুজ চলে যাচ্ছে বরিশাল, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

তবে বিগত বছরগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবার লক্ষমাত্রার চেয়ে কম জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৫৫৬ হেক্টর জমিতে। লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ৭২২ হেক্টর জমি। আবাদ কম হলেও ফলন ও দাম পেয়েছে বেশি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

চাষীরা জানাচ্ছেন, এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মাঠ জুড়ে তরমুজের অসম্ভব দেখা যাচ্ছে। তরমুজে তেমন কোন পোকার আক্রমণ হয়নি। ফলন ভালো হয়েছে তাই তারা দামও পাচ্ছে ভালো। ড্রাগন ও পাকিজা জাতের তরমুজ চাষ করে তারা বেশ খুশি।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের কৃষি ইউনিটের আওতায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা নিরাপদ ফসল উৎপাদনে তরমুজ চাষিদের মাঝে ফেরোমেন ফাদ, কালার ফাদ, ভার্মি কম্পোস্ট ও জৈববালাই নাশক বিনামূল্যে বিভিন্ন চরে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন।

ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চর কালেঙ্গার তরমুজ চাষি ইসুফ মাঝি জানান: তিনি ইতোমধ্যেই ৬৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছে। আরও প্রায় ১ লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রির কথা চলছে।

বিজ্ঞাপন

করিম মাঝি জানান: এক কানি (১৬০ শতাংশ) জমিতে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছে ।

একইভাবে ওই চরের নান্নু মিয়া, কবির মিয়া, জানান: তারা বিগত সময়ে পোকার উপদ্রবে নানা ঔষধ দিয়েও ফল পাইনি। কিন্তু এবার গ্রামীন জন উন্নয়ন সংস্থা থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ সহায়তা পাওয়ায় রোগ বালাই থেকে তরমুজ ক্ষেত ছিলো মুক্ত। ফলন বেশ ভালো ও স্বাস্থ্য সম্মত ভাবে চাষ করা হয়েছে। এখন কেবল তরমুজ তোলা ও বিক্রির ধুম। মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বেপারিরা। খেত থেকে তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বরিশাল, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

স্থানীয়রা বলছেন: ভোলার তরমুজ মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় বিভিন্ন জেলায় এ তরমুজের চাহিদা রয়েছে প্রচুর। বেপারিরা মাঠ থেকে তরমুজ কিনে নৌকায় তুলে নিয়ে যাচ্ছে বরিশাল। কেউবা সড়ক পথে নিয়ে যাচ্ছে অন্যান্য জেলায়। চরের মধ্যে আকাবাকা ছোট ছোট খাল খুলেতে এখন তরমুজ ভরা সারি সারি নৌকা। কেউ নৌকায় তরমুজ তুলছে আবার কেউ নৌকা বেয়ে নিয়ে যাচ্ছে এক অপরুপ দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ভিড় করেছে বাঙ্গির নৌকাগুলোও।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন জানান: বিগত বছরগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তরমুজ চাষে কৃষকরা হারিয়ে ফেলেছিল সেজন্য এবার চাষ কম হয়েছে, তবে ফলন হয়েছে প্রচুর বাজার দামও পাচ্ছে ভালো।

আগামী বছরগুলোতে চাষীরা আরও বেশি জমিতে তরমুজ চাষ করবে বলে তিনি আশাবাদী।