চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভাড়া নিয়ে আবার যেন নৈরাজ্য না হয়

গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী

বিশ্বে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ঠেকাতে ১১ রকমের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। যা আগামী বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। সেই বিধিনিষেধের মধ্যে অন্যতম গণপরিবহনে সক্ষমতার অর্ধেক আসন খালি রেখে চলাচল করতে হবে। এই নির্দেশনা মানতে গেলে নিশ্চিতভাবে করে বলা যায় মালিকরা ভাড়া বাড়িয়ে দেবেন।

আমরা জানি, জ্বালানির মূল্য বাড়ার পর মাত্র কিছুদিন আগেই সরকার বাস-মিনিবাসের ভাড়া বাড়িয়েছে। যার রেশ এখনো শেষ হয়নি। নিম্ন আয়ের মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তার মধ্যে আবার দেশের বহু স্থানে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়া না মানার হাজারো অভিযোগ আছে বাস মালিক-শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে অতিরিক্ত ভাড়া অনেকের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। আবার এটাও ঠিক, অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চললে মালিকরাও ক্ষতির মুখে পড়তে বাধ্য।

এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় সরকারের কি সিদ্ধান্ত? তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি। হয়তো আগামীকাল বুধবারের মধ্যেই এ নিয়ে নতুন নির্দেশনা জানানো হবে। তবে ভাড়া বাড়বে; সেটা গতবারের মতো ৬০ শতাংশ হোক বা অন্য কোনো অংশ। এরই মধ্যে মালিকরা দাবি করেছেন, ভাড়া বাড়াতেই হবে। না হলে তাদের পক্ষে সড়কে গাড়ি নামানো সম্ভব না। কারণ অর্ধেক আসন খালি রাখা হলেও তেল-মবিলসহ অন্যান খরচ পুরোটাই লাগে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ রেলওয়ে আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেছে, ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলবে। তবে ভাড়া বাড়ানো হবে না। আগের ভাড়াতেই চলবে। কিন্তু এদেশে যে পরিমাণ যাত্রী প্রতিদিন চলাচল করে, তার বেশিরভাগেই বেসরকারি মালিকানায় পরিচালিত গণপরিবহনে। বিশেষ করে সড়ক ও নৌ পথে। বাস মালিকদের মতো লঞ্চ মালিকরাও ভাড়া বাড়াতে বলেছে।

বাড়তি ভাড়া নিয়ে এমন সমস্যা মধ্যে আরেকটি প্রশ্নও উঠেছে। সেটা হলো এমনিতেই রাজধানী ঢাকাসহ বড় বড় শহরে পরিবহন সঙ্কট। বিশেষ করে অফিসে যাওয়া এবং আসার ক্ষেত্রে বহু বছর ধরে এটা বিরাট সমস্যা। এর মধ্যে বেশিরভাগ অফিস খোলা রেখে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চললে ঠিক সময়ে মানুষ তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে? বাসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সম্ভব হবে?

আমরা মনে করি, সব ধরনের অফিস খোলা রাখার পর গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কঠিন বিষয়। পাশাপাশি জনগণ ও পরিবহন মালিকদের আয়-ব্যয়ের সমন্বয় আরও কঠিন। এমন পরিস্থিতি সব দিক বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবমুখি সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকারক

বিজ্ঞাপন