চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভাল কিছু দেখলেই নিষিদ্ধ করার জন্য মুখিয়ে থাকেন অনেকে: চ্যাপলিন

১৩১ তম জন্মদিনে বিশ্ববাসী নানাভাবে স্মরণ করছেন কালজয়ী নির্মাতা, অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনকে…

১৯৩৬ সালের মার্চে মাত্র ২৪ ঘণ্টার সফরে চীনে আসেন তৎকালীন সময়ে সিনেমায় সাড়া ফেলে দেয়া অভিনেতা, নির্মাতা চার্লি চ্যাপলিন। চীনে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক চিত্র প্রদর্শনীতে সংক্ষিপ্ত সফরে সাংহাই এসেছিলেন তিনি। সেখানে নানান দেশ থেকে অন্তত সেরা শ’খানেকেরও বেশী চিত্র প্রদর্শনী হয়েছিল। এরমধ্যে লিও হইসো এবং পন ইউলিয়াংয়েরও বেশকিছু চিত্র ছিল। চ্যাপলিন চিত্রকলাগুলো বেশ পছন্দ করেছিলেন।

এরমধ্যে বেশকিছু তিনি সঙ্গেও নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এমনিতেই তাড়াহুড়ো ছিল তার। এরমধ্যে একটি বিশাল হলরুমে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে বেশীর ভাগ সাংবাদিক চ্যাপলিনের বিয়ে বিষয়ে প্রশ্ন করলে সেগুলো তিনি ধূর্ততার সাথে এড়িয়ে যান। এমন কথার মধ্যে মিস্টার ক্রেস নামের একজন মাত্র চারটা প্রশ্ন করেন, যেগুলোর সরাসরি উত্তর দেন চ্যাপলিন। ১৯৩৬ সালে দেয়া চীনের সাংহাইয়ে চ্যাপলিনের ছোট্ট সেই সাক্ষাৎকার তার জন্মদিন উপলক্ষ্যে এরআগেও চ্যানেল আই অনলাইনে দেখেছেন পাঠকরা। কালজয়ী এই মহান শিল্পীর ১৩১ তম জন্মদিনে সেটি আবারও ছাপা হলো:

বিজ্ঞাপন

ইউরোপ-আমেরিকাতে আপনি ভীষণ জনপ্রিয় একজন মানুষ, এটা কীভাবে দেখেন?
আমি এখনো সবাক সিনেমার বিপক্ষের একজন মানুষ। নির্বাক ছবি নিয়েই আছি এখনো। সবাক ছবি নিয়ে অনেকের সাথে আমার মতের অমিল আছে। সেগুলো বিস্তারিত বলার জন্য অনেক সময়ের প্রয়োজন। এত অল্প সময়ে এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই না।

বিজ্ঞাপন

জার্মানে আপনার ‘মডার্ন টাইমস’-এর মত ছবি কেন নিষিদ্ধ করা হলো? এটা কি তাদের চলতি সমাজ কাঠামোর সাথে সাংঘর্ষিক বলে, নাকি আপনি ইহুদি এইজন্য?(চ্যাপলিন ইহুদি ছিলেন না, কিন্তু সেসময় হিটলার তাকে ‘ইহুদি’ বলেই জানতেন)
এটা সত্যিই আমি জানি না। কি কারণে সেখানে ‘মডার্ন টাইমস’ নিষিদ্ধ করা হলো। তবে আমি মনে করি, ভাল কিছু দেখলেই কেউ কেউ মুখিয়েই থাকে নিষিদ্ধ করার জন্য। তারা সর্বদা সবকিছুতে নিষিদ্ধ করে দেয়ার মতো কারণ খোঁজে বেড়ায়। এক কথায় বলা যায়, নিষিদ্ধ করার প্রবনতা অনেকের অভ্যেস!

ছবিতে আপনার ট্রেডমার্ক হাঁটার যে বিষয়টা, এটা কোথা থেকে পেলেন?
আমার হাঁটার ভঙ্গি ইউনিভার্সাল। একেবারেই প্রাকৃতিক। আমি তৈরি করিনি তা। একটু লক্ষ্য করলে চীনেই এমন বহু মানুষকে দেখতে পাবেন। এটা খুবই সাধারণ।

আপনার ভবঘুরে সাজসজ্জার বিষয়টি নাকি আমেরিকায় লক্ষ টাকায় বিমাকৃত, এটা কি সত্যি?
এটা গুজব! দেখুন, আমার এই নোংরা কাপড় আর ছেড়া জুতো কে নিতে চাইবে? আপনি যদি এগুলো রাস্তায় ফেলেও রাখেন, তবুও কেউ ছুঁবে না।