চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য ‘দি ডিরেক্টর’ নির্মাণ করিনি: কামু

ঈদুল ফিতরের রাতে ইউটিউবে মুক্তি পায় কামরুজ্জামান কামুর আলোচিত ছবি ‘দি ডিরেক্টর’:

‘নতুন কিছু দেখার জন্য সব মানুষ প্রস্তুত থাকে না। অনেক মানুষ ট্র্যাডিশনাল বিষয় বস্তুতে অভ্যস্ত। তারা মনে করে, আগে যেভাবে সব দেখে এসেছি এভাবেই চলবো। এরকম একটা মানসিক গঠনের মধ্যে যারা থাকেন তাদের কাছে ‘দি ডিরেক্টর’ ভালো নাও লাগতে পারে।’

-সদ্য মুক্তি পাওয়া বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘দি ডিরেক্টর’-এর সমালোচকদের উদ্দেশ্যে চ্যানেল আই অনলাইনকে কথাগুলো বলছিলেন এর নির্মাতা কামরুজ্জামান কামু।

বিজ্ঞাপন

এরআগে টিভি ফিকশন নির্মাণ করে খ্যাতি কুড়ানো এই কামু প্রথমবারের মতো নির্মাণ করলেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দি ডিরেক্টর’। ছবিটি নির্মাণের পর নানা ঘাত-প্রতিঘাতে প্রায় এক যুগ আটকে থাকে ছবি মুক্তি। ছবিটিকে কেন্দ্র করে সেন্সর বোর্ড বিরোধী আন্দোলনও বেগবান হতে দেখা গেছে। শেষ পর্যন্ত সেন্সর বোর্ডের অনুমতি পাওয়ার পর উপযুক্ত পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান না পেয়ে বাধ্য হয়ে গেল ঈদ উপলক্ষ্যে ইউটিউবেই মুক্তি দেন ছবিটি।

মুক্তির পরও আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে কামুর ‘দি ডিরেক্টর’। ইউটিউবে ছবিটি দেখে সোশাল মিডিয়ায় নিজেদের অনুভূতির কথা জানান দিয়েছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মানুষেরা। কেউ ইতিবাচক বলছেন, কেউ বা নেতিবাচক। সোশাল মিডিয়াতেও ছবিটির খুঁত ধরছেন কিংবা প্রশংসা করছেন অনেকে।

এরমধ্যে শিল্পী অরূপ রাহী ছবিটি নিয়ে লেখেন, জনরুচি আর ‘জনরুচির বাইরের’ মধ্যে থেকে ইন্টারেস্টিং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন কামরুজ্জামান কামু , ছবি দেখার চলতি দৃষ্টি- অভ্যাস নিয়ে দেখতে বসলে হতাশ হবেন, চোখ বান্ধা না থাকলে ২ ঘন্টা লস হবে না, মজা পাইবেন।

জিপসি রুদ্র নামে এক দর্শক ছবিটির মন্তব্য ঘরে লিখেছেন, কামরুজ্জামান কামু ‘দি ডিরেক্টর’ লইয়া যা করলো তাতে মনে হইছিলো সিনেমাটি বাঙলা সিনেমার ইতিহাসে একটা মাইলফলক হয়ে থাকবে। কিন্তু সিনেমাটা দেখার পর মনে হলো, আসলেই যতো গর্জে ততো কিন্তু বর্ষে না!

সার্বিকভাবে ‘দি ডিরেক্টর’ নিয়ে শিল্প, সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের মানুষের পাশাপাশি সাধারণ দর্শকের কাছ থেকেও এমন মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় লক্ষ্য করা গেছে। তবে এসব নিয়ে ভাবিত নন নির্মাতা কামু।

সব দর্শকের ‘দি ডিরেক্টর’ ভালো লাগবে না এবং এই বিষয় নিয়ে বেশ সচেতন আছেন নির্মাতা। এমনটা মন্তব্য করে কামু বলেন, যে দর্শকের যে কোনো নতুন জিনিষের প্রতি কৌতুহল আছে, তাদের জন্যই এই ছবি। এটা হয়তো সব দর্শকের ভালো লাগবেও না, আর এই বিষয়ে আমি সচেতন আছি।

গীতিকার ও কবি হিসেবে সবাই জানেন কামুকে। তাহলে কি ‘দি ডিরেক্টর’ দেখতে বসে দর্শক কবি বা গীতিকার কামুর সাথে চলচ্চিত্র নির্মাতা কামুর মিল খুঁজতে বসেছেন দর্শক? এমন প্রশ্নে কামু বলেন, সেগুলো (গান ও কবিতা) জীবনে বহু করেছি, ফলে লোকে আমার নানা রূপ ইতোমধ্যে দেখে ফেলেছে। কিন্তু সেগুলোর ভেতরেও এমন জিনিষ আছে, যেগুলো ভালো অথচ লোকজন সেগুলোরও সমালোচনা করেছে। ‘দি ডিরেক্টর’ আমার একটাই সিনেমা, যদি রোমান্টিক এক রৈখিক প্রেমের গল্প নিয়ে আরো একটি সিনেমা থাকতো তাহলে লোকজন ওইটার প্রশংসা করতো।

‘দি ডিরেক্টর’-এর মধ্য দিয়ে প্রচলিত ভাবমূর্তিকে ভেঙে দিয়েছেন দাবি করে নির্মাতা কামু বলেন, ‘দি ডিরেক্টর’ ছবিটি ভাবমূর্তি গড়া বা রক্ষা করার জন্য করা হয়নি, বরং এটা করা হয়েছে ভাবমূর্তিকে ভেঙে দেয়ার প্রবণতা থেকে। ভাবমূর্তির মায়াজালে আটকে না থেকে এটা ভেঙে ভেঙে সামনে আগায়, এটাও কিন্তু এই ছবিটার একটা অর্থ।

ঈদুল ফিতরের রাতে সানবিডি টিউব-এর ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পায় ‘দি ডিরেক্টর’। এখন পর্যন্ত অনলাইনে ছবিটি দেখা হয়েছে প্রায় পৌনে এক লাখ বার। ছবিটির অনলাইন পরিবেশনা সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘উই আওয়ার্স ক্রিয়েটিভ ফান্ডিং’ ইনিশিয়েটিভ প্লাটফর্ম (www.whc.fund)। চলচ্চিত্রটি উপভোগের পর দর্শক যদি মনে করেন এটি তাকে বিনোদিত করেছে-তাহলে এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে যে কোনো পরিমাণ অর্থ, যে কোনো দেশ থেকে, যে কোনো কারেন্সিতে ডোনেট করতে পারবেন। চলচ্চিত্রটির শুরুতেও কামু এই আহ্বান জানান।

‘দি ডিরেক্টর’ সিনেমায় বিভিন্ন চরিত্রে পপি ও মারজুক ছাড়াও অভিনয় করেছেন নাফা, কচি খন্দকার, তারেক মাহমুদ, মোশাররফ করিম, সুইটি, নাফিজা, বাপ্পি আশরাফ, কামরুজ্জামান কামু প্রমুখ।

নির্মাতা পরিচয়ের বাইরে কামরুজ্জামান কামু নব্বই দশকের অন্যতম প্রভাশালী কবি। এছাড়া তার লেখা বেশকিছু গান লোকের মুখে মুখে। বিশেষ করে সঞ্জীব চৌধুরীর গাওয়া দলছুটের ‘তোমার ভাঁজ খোলো আনন্দ দেখাও- করি প্রেমের তর্জমা…’ বা ‘বায়োস্কোপের নেশা আমায় ছাড়েনা…’ কিংবা ‘রিক্সা কেনো আস্তে চলে না’র মতো গানগুলো উল্লেখযোগ্য।

ইউটিউবে দেখতে পারেন কামুর ‘দি ডিরেক্টর’:

Bellow Post-Green View