চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘ভাগ্যের লিখন’ খণ্ডাতে পারবেন জুবায়ের?

২০১৪ সালের অক্টোবরে অভিষেক। পরে ৬ টেস্টে জুবায়ের হোসেন লিখন নেন ১৬ উইকেট। ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট প্রাপ্তি তৃতীয় ম্যাচে। তখনকার কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে দারুণ আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন তরুণ লেগ স্পিনারকে নিয়ে। মনে হচ্ছিল, সাদা পোশাকে বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য আনার অস্ত্র বুঝি পেয়ে গেছে বাংলাদেশ।

টেস্টে ভালো করতে থাকা জুবায়েরকে ২০১৫ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি টি-টুয়েন্টি খেলিয়েই ছুঁড়ে ফেলা হয় জাতীয় দল থেকে। আর পারেননি ফেরার রাস্তা তৈরি করতে।

বিজ্ঞাপন

ঘরোয়া ক্রিকেটে চরম ব্রাত্য জুবায়ের। দুর্ভাগা এ লেগ স্পিনারের বছরে একটি, দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ আসে। যা একজন লেগির জন্য পর্যাপ্ত নয়, সেটি একবাক্যেই মানেন সবাই।

তিন দলের ওয়ানডে টুর্নামেন্ট বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে খেলছেন তিন লেগ স্পিনার। তাদের মধ্যে নেই জুবায়ের। বিসিবি যখন লেগ স্পিনারদের উৎসাহ যোগাতে ম্যাচ খেলার পথ তৈরি করে দিয়েছে, তখন আড়ালে দেশের প্রতিভাবান এই লেগি!

জুবায়েরের ফেরার সুযোগ অবশ্য পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। নভেম্বরে পাঁচ দলের ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে নির্বাচকদের ভাবনায় আছেন ২৫ বছর বয়সী স্পিনার। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানিয়েছেন, সব দলেই একজন করে লেগ স্পিনার রাখার কথা ভাবা হচ্ছে।

ওয়ানডে টুর্নামেন্টে খেলা তিন লেগি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, রিশাদ হোসেন, মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদির বাইরে আর কাদের তালিকায় রাখা হতে পারে সে প্রশ্নে প্রধান নির্বাচক বললেন, ‘খেলোয়াড় তালিকা এখনো চূড়ান্ত করিনি। চেষ্টা করছি লেগ স্পিনার আরও রাখা যায় কিনা। তিনজনের বাইরে কারা ঢুকবেন সেটি তালিকা প্রকাশ হলেই দেখতে পাবেন। এ মুহূর্তে বলতে চাচ্ছি না।’

বিজ্ঞাপন

আরেক নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানালেন, ‘পাঁচ দলে পাঁচজন লেগ স্পিনার দেয়া হয়ত কঠিন হয়ে যাবে। কেননা এই তিন লেগ স্পিনারের বাইরে লিখন ছাড়া তেমন কোনো অপশন হাতে নেই।’

‘আমরা লেগ স্পিনারদের উৎসাহিত করার জন্য যতটা সম্ভব চেষ্টা করছি। লেগ স্পিনারদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ম্যাচ খেলা। তারা ম্যাচ খেলার তেমন সুযোগ পায় না। চেষ্টা করছি তাদের সুযোগ দিতে। যে তিনজন প্রেসিডেন্টস কাপে খেলছে, তারা সবাই তরুণ। এখন পর্যন্ত তারা কেমন করেছে সেটি মূল্যায়ন করার সময় আসেনি। এভাবে ম্যাচ খেলার সুযোগ তারা পেলে জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে। বাংলাদেশ দলে আমরা যেটা খুঁজছি সেটি হয়ত পাবো।’

বিসিবির ব্যবস্থাপনায় হওয়া সব আসরেই লেগ স্পিনার খেলানোর একরকম বাধ্যবাধকতা থাকায় আশা হারাচ্ছেন না জুবায়ের। লকডাউন উঠে যাওয়ার পর জামালপুরে ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছেন। ৬ কেজি ওজন কমিয়ে কিছুদিন আগে এসেছেন ঢাকায়। কোচ মো. শাহীনের অধীনে করছেন অনুশীলন। সিটি ক্লাব মাঠে কয়েকদিন আগে নিজেদের মধ্যে ম্যাচও খেলেছেন।

চ্যানেল আই অনলাইনকে বললেন, ‘বিসিবির ডাকে ম্যাচ খেলার সুযোগ আসলে যেন প্রস্তুত থাকতে পারি সেজন্য কাজ করছি। ফিটনেস নিয়ে অনেক পরিশ্রম করে যাচ্ছি। ৬৬ থেকে ৬০ কেজিতে এসেছে ওজন। স্কিল অনুশীলনও চালিয়ে যাচ্ছি।’

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে অধিকাংশ ম্যাচ খেলার কথা ছিল জুবায়েরের। কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে পেয়েছিলেন সেরকম আশ্বাস। এখানেই দুর্ভাগা তিনি। মার্চে এক রাউন্ড হওয়ার পর করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত হয়ে যায় লিগ।

সামনে ‘ভাগ্যের লিখন’ খণ্ডানোর একটা সুযোগ পেতে পারেন জুবায়ের। নির্বাচকদের ভাবনার সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকলে পেতে পারেন টি-টুয়েন্টি আসরে খেলার সুযোগ।