চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভর্তি জালিয়াতদের আজীবন বহিষ্কারের দাবিতে ঢাবিতে মানববন্ধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের স্থায়ী বহিষ্কারসহ তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধন থেকে জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা না হলে কঠোর আন্দোলন দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে তারা এ দাবি জানান। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ঐতিহ্য রয়েছে, তা এখন আর নেই। যারা জালিয়াতি করে ভর্তি হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলে সাধারণ মানুষের টাকায়। আমরা চাই না কোনো চোর, লম্পট এই টাকার সুবিধা ভোগ করুক।

তারা বলেন, আমরা জানি জালিয়াতি করে যারা ভর্তি হয়েছে তারা কারা। যারা ভর্তি জালিয়াতি করে ভর্তি হয়েছে, তারা প্রশাসনকে কোন তোয়াক্কা করছে না। তারা একটি সংগঠনের সমর্থন নিয়ে চলছে। এসময় তারা প্রশাসনের কাছে জালিয়াতদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করার দাবি জানান।

মানববন্ধনে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর, সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনসহ কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’র আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান, ফারুক হাসানসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ভিপি নুর বলেন, ২০১৩-১৪ সেশন থেকে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে আসলেও প্রশাসন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য সবসময় দায়সারা বক্তব্য দিয়েছে কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। জালিয়াতির ঘটনা ও প্রশ্ন ফাঁসকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি নয়, সাংবাদিকরা তাদের খুঁজে বের করেছে। এটা প্রশাসনের দুর্বলতা।

বিজ্ঞাপন

জালিয়াতদের আজীবন বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে ডাকসু ভিপি বলেন, প্রয়োজন কোন আইন মানে না। শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে কোন কালক্ষেপণ না করে জালিয়াতির সঙ্গে যুক্তদের এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করতে হবে। যারা ইতোমধ্যে বের হয়েছেন তাদের সার্টিফিকেট বাতিল করতে হবে। অতিদ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এসময় তিনি প্রত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জালিয়াতের নাম প্রকাশ করারও আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, গত বছর ঘ-ইউনিটের পরীক্ষা নিয়ে যখন বিভিন্ন পত্র-প্রত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছিল, তখন আইন বিভাগের একজন ছাত্র আখতার হোসেন প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম অনশন করেছিলেন। প্রশাসন প্রথম দায়সারা বক্তব্য দিয়েছিল যে, প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে পড়ে ঘ-ইউনিটের পরীক্ষা নিয়েছিল। তিনি বলেন, ছাত্রদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে, সেটা যেখানেই হোক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি দেশকে স্বাধীন করেছে। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু শিক্ষার্থী প্রশ্ন ফাসেঁর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কিত করছে।

মানববন্ধনে আখতার হোসেন বলেন, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে যাতে বাইরের কেউ দেখার কোন সুযোগই না পায়। প্রশ্নের ব্যাপারে প্রশাসনকে সচেতন হওয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছিলাম। এই জালিয়াতরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার অধিকার রাখে না। তাদের আজ থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। তাদের কে হল থেকে আপনারা বের করে দিন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এতে ছাত্র সমাজ কিন্তু বসে থাকবে না। প্রত্যেক বিভাগে এবং অনুষদে জালিয়াতদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হবে, তাদেরকে বের করে দিতে হবে। ২০১৮ সালে একজন আখতার অনশন করেছিল কিন্তু আজ শত শত আখতার একত্রিত হয়েছে। তাদের দাবি একটাই, যারা ভর্তি জালিয়াতি করে ভর্তি হয়েছে তাদের বহিষ্কার করতে হবে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘মেধাবীদের পাঠশালায় জালিয়াতের ঠাই নাই’, ‘আমার ক্যাম্পাস রাখিব জালিয়াত মুক্ত’, ‘মেধাবীদের ঢাবিতে জালিয়াতদের ঠাই নাই’, ‘জালিয়াতের ঠিকানা ঢাবিতে হবে না’, ‘জালিয়াত চক্রের কালো হাত ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘চিটিং বাটপার জালিয়াত এই মুহূর্তে ঢাবি ছাড়’ ইত্যাদি লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। সেটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে জালিয়াতদের বহিষ্কার ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াসহ চার দফা দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানকে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা।

তাদের চার দফা দাবিগু হলো- ১. ভর্তি জালিয়াতকৃত সকল শিক্ষার্থীদের আজীবন বহিষ্কার করা, ২. প্রশ্ন জালিয়াত ও এর সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, ৩. প্রশ্নের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবীদেরকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দানে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং ৪. ভবিষ্যতে যাতে জালিয়াত চক্র সক্রিয় হতে না পারে তার শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া।

স্মারকলিপি প্রদানকালে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর, সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খান, ফারুক হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Bellow Post-Green View