বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ব্যাংকিং খাতে আগের খাই খাই অবস্থা আর নেই, নেই আস্থার কোনও অভাব। তার মতে, আমানত সংগ্রহে অনৈতিক প্রতিযোগিতা না থাকা, কঠোর নজরদারি, আর অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্ক হওয়ায়, ব্যাংকিং খাত আগের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন সুশৃংখল।
রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকে বড় ধরনের আর্থিক কেলেংকারী, সেই সঙ্গে বেসরকারী খাতের ঋণ অনিয়ম আর পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতার অপব্যবহারের ফেরে পড়ে আস্থার সংকটে পড়েছিলো দেশের ব্যাংকিং খাত। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কতৃত্বের এখতিয়ারের দ্বন্দের সুযোগেও বড় বড় অনিয়ম ঘটেছে ২০১০ সাল থেকে শুরু করে, যার চূড়ান্ত নিদর্শন সাম্প্রতিক সময়ে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পুন:নিয়োগের ঘটনা।
গভর্নর মনে করেন, এখন আগের মতো অনিয়মের সম্ভাবনা খুবই কম। সুতরাং এখন আর অতটা উদ্বিগ্ন হবার কারণ নেই। তিনি মনে করেন, এখন একটি আস্থার পরিবেশ তৈরী হয়েছে। এখন ব্যাংকিং খাত অনেক সুশৃংখল এবং নিয়মের মধ্যে চলে এসেছে। তবে আগের বোঝা এখনও টানতে হচ্ছে।
কয়েকজন ব্যক্তিকে সুবিধা দিতে গিয়ে বছরের পর বছর খেলাপী ঋণের বোঝাও রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে চলেছে ব্যাংকিং খাতে। অবশ্য ব্যাংকগুলোর অভিভাবক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর শুনিয়েছেন আশার কথা।যে কোনো মূল্যে ব্যাংকিং খাত কে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বাইরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর।
তাঁর মতে, এখন দেখেশুনে লোক নিয়োগ করতে হবে। যে যখন আসবে তাকেই নিয়োগ দেয়া যাবে না। আর কোন ব্যাংকের বোর্ড যদি কোন অঘটন ঘটায় তাহলে বোর্ড বদলে ফেলার কথা জানিয়েছেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান।
আর্থিক অনিয়মের ব্যাপারে নজরদারীর সাথে সাথে রাষ্ট্রায়াত্ত এবং বেসরকারী খাতের ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি মেটানো এবং গ্রাহকের সুরক্ষার ব্যাপারে আরো সতর্ক দৃষ্টি থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।







