চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গোপন ব্যবসা বাড়াতে জলবায়ু নীতিতে পরিবর্তন চেয়েছিলেন চার্লস

ব্রিটেনের ডাচি অব কর্নওয়াল প্রিন্স চার্লস তার গোপন অফশোর ব্যবসার স্বার্থে বৈশ্বিক জলবায়ু নীতির কিছু অংশ পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন বলে সম্প্রতি ফাঁস হওয়া প্যারাডাইস পেপারসে বেরিয়ে এসেছে।

আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলবাইয়ের ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, প্রিন্স চার্লস ২০০৭ সালে লুকিয়ে সাসটেইনেবল ফরেস্ট্রি ম্যানেজমেন্ট লি. (এসএফএম) নামে বারমুডার একটি প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ সাড়ে ১৩ হাজার মার্কিন ডলার অর্থমূল্যের শেয়ার কেনেন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিউ ভ্যান কাটসেম ছিলেন চার্লসের সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের একজন।

এসএফএম মূলত কার্বন ক্রেডিটের ব্যবসা করে। কার্বন ক্রেডিট হলো একটি ভার্চুয়াল মূল্য বিনিময় ব্যবস্থা। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দু’টি জলবায়ু বিষয়ক চুক্তি – ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমিশন ট্রেডিং স্কিম (ইইউ ইটিএস) এবং কিয়োটো প্রটোকল অনুসারে, কোনো দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থা নির্দিষ্ট সংখ্যক গাছ লাগানো বা অন্য কোনো কাজের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিনিময়ে কার্বন ক্রেডিট পাবে, যা হচ্ছে সেই দেশ বা সংস্থার কার্বন নির্গমন কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখার পরিমাপক।

বিজ্ঞাপন

এসএফএমের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরা বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগিয়ে কার্বন ক্রেডিট অর্জন করে। তারপর সেই ক্রেডিট অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন দেশ বা সংস্থার কাছে বেচে দেয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ক্রান্তীয় এবং উপ-ক্রান্তীয় বনাঞ্চলেও গাছ লাগিয়ে কার্বন ক্রেডিট আয়ের চেষ্টা করছিল, যা ইইউ ইটিএস এবং কিয়োটো প্রটোকলের কারণে সম্ভব হচ্ছিল না। কারণ নীতিগুলোতে বলা আছে, কোনো রেইনফরেস্টে নতুন করে গাছ লাগানো হলে তা কার্বন ক্রেডিট পাওয়ার যোগ্য বলে গণ্য হবে না।প্যারাডাইস পেপারস-পানামা পেপারস-প্রিন্স চার্লস

প্রিন্স চার্লস এসএফএমের শেয়ার কেনার সময় কোম্পানিটি লাভ বাড়ানোর আশায় কার্বন ক্রেডিট বিষয়ে জলবায়ু চুক্তিগুলোতে থাকা নীতিমালায় পরিবর্তন আনার জন্য তদবির চালাচ্ছিল বলে প্যারাডাইস পেপারসে পাওয়া গেছে। আর নিজের বিনিয়োগ করা কোম্পানির ব্যবসা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ডাচি অব কর্নওয়াল ওই নীতিগুলোরই পরিবর্তন চেয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

তবে এই বিনিয়োগ ও ব্যবসা গোপন রেখে তিনি বেআইনি কিছু করেননি বলে দাবি করেছে অ্যাপলবাই। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চার্লস ২০০৭ সালে কেম্যান আইল্যান্ডে চারটি অফশোর ফান্ডে মোট ৩৯ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের বিনিয়োগ করেন। ডাচি অব কর্নওয়ালের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রিন্স চার্লস নিয়মিত ঠিকঠাক কর ও রাজস্ব পরিশোধ করে এসেছেন। এই বিনিয়োগ থেকে আয় করা অর্থ আগে প্রকাশ না করা হলেও পুরো ব্যবসাটি বৈধ বলেও জানানো হয়েছে।

চার্লস নিজেও দাবি করেছেন, এই বিনিয়োগে তার কোনোরকম সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।

বিজ্ঞাপন