চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘বেশ্যা’ কি শুধুই নারী?

বাংলাদেশে মিডিয়াতে নারী কর্মীদের কাজের পরিবেশ যুগ যুগ ধরে চ্যালেঞ্জিং ছিল যা সম্প্রতি আরো খারাপের দিকে গেছে কারণ মাফিয়া চক্র I প্রতিনিয়তই  মাফিয়াদের চক্রান্তের শিকার হচ্ছেন আমাদের নারী মিডিয়া কর্মীরা I মিডিয়াতে কাজ করলেই (চলচ্চিত্র, নাটক, যাত্রা, মঞ্চ, মডেলিং, সংগীত, নৃত্য ইত্যাদি ) মেধাবী  নারীদের ভোগের বস্তু মনে করা হয় কেন এবং তাদেরকে ছলে বলে কৌশলে  ” অভিলাষী  বেশ্যাবৃত্তিতে” নামাবার চক্করে ফেলা হয় কেন ?

 

গোপনে যে “বেশ্যার” ভাত খায়, ঘৃণা নিয়ে নারীর শরীর  খুবলে  খায়, মদ -মাদক সেবন করে  সেই দুশ্চরিত্রদের,নারী খাদকদের, খদ্দেরদের  নাম কেন মিডিয়া এবং বাংলাদেশের সমাজ লুকিয়ে রাখে? দেশের অভিজাত এলাকায়, অভিজাত  “বেশ্যালয়গুলো” আধুনিক উপায়ে  কারা বানাচ্ছে, কারা সেখানে  টাকা বিনিয়োগ করছে ,কারা টিকিয়ে রাখছে ” অভিলাষী বেশ্যাবৃত্তি” ও মাফিয়া গোষ্ঠী গুলোকে ?

গ্রাম থেকে সংগ্রাম করে উঠে আসা, এতিম, মেধাবী  পরীমনির  শারীরিক সৌন্দর্যকে কারা শিল্পে পরিণত না করে,লম্পট, কামুক , যৌন নিপীড়ক,কালো টাকার কুমীর ক্ষমতাবান পুরুষদের  প্রমোদ বিহারের জন্য ব্যবহার করে ? স্পনসর, পরিচালক, নায়ক, ক্যামেরাম্যান, রূপসজ্জাকর প্রতিটি ধাপে নারী সাংস্কৃতিক  কর্মীদেরকে এদের সকলকে তুষ্ট রেখে কাজ পেতে হয়, কাজ চালিয়ে যাবার চ্যালেঞ্জ মাথা পেতে নিতে হয় আজীবন, কেন ??? আর শুধুমাত্র  নারীর শরীরের বিনিময়ে কোটি  টাকার বিনিময় যেসকল সমাজপতিরা, ব্যবসায়ীরা  করে সেই সকল নষ্ট  পুরুষদের নাম কি ? বেশ্যা গালি একলা কেন নারীদের দেয়া হয় ?

সম্মানহানির গ্লানি শুধুমাত্র নারীকে বয়ে বেড়াতে হয় কেন ? পত্রিকায় ছবি শুধুমাত্র পরীমনির কেন আসবে ? পুরুষ বেশ্যাদের চেহারা আমরা মিডিয়াতে কবে দেখবো ? অদৃশ্য সেই সকল মাফিয়া চক্রের মুখোশ উন্মোচন না করলে ওই দেশে শিল্পী জন্ম নেবে না, শিল্প চর্চা বন্ধ হয়ে যাবে, মৌলবাদীরা হাতে তালি দেবে I চলচ্চিত্রের মতো শক্তিশালী  একটি গণমাধ্যমকে এবং সেখানকার শিল্পীদের বাঁচাবার  জন্য স্বচ্ছ,পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যকর কাজের পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন অতিসত্তর I

বিজ্ঞাপন

আমরা “আলোর মিছিলের” মতো সুস্থ ফিল্ম দেখতে চাই, “ডানা কাটা পরী” নয় I আজকের পরীমনি এবং তার মতো আরো অনেক নাম না জানা শোবিজ নারী কর্মীরা  একটি অসুস্থ, পুরুষতান্ত্রিক,পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার ভিকটিম ছাড়া আর কিছু নয় I

সমাজের বা চলচ্চিত্রের বা মিডিয়ার সব পুরুষেরা খারাপ নয় I এই সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সৎ প্রতিবাদী পুরুষদের এক্ষেত্রে একটা শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে এবং সেই সাথে নারী সাংস্কৃতিক কর্মীদেরও , যাতে করে ভবিষ্যতে  এমনিভাবে আর কোনো পরীমনির জন্ম না হয় I পরীর বিরুদ্ধে হিংসাত্মক না হয়ে, সমালোচনায় মেতে না উঠে সকল শিল্পীদের এক থাকতে হবে I

মাফিয়ারা একটা নিষিদ্ধ, অদৃশ্য চক্র তৈরী করে মিডিয়ার নারী কর্মীদের নিয়ে দেহ ব্যবসা করে এবং শিল্প চর্চা থেকে তাদেরকে দূরে সরিয়ে আনে I এতে করে  ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের শিল্প, সমাজ, মূলত নারী সাংস্কৃতিক কর্মীরা এবং সর্বোপরি পুরো শিল্পী জগৎ I আসুন সমস্যাটিকে গভীরভাবে দেখবার চেষ্টা করি এবং মিডিয়াতে নারীদের সুস্থ কাজের পরিবেশ তৈরির জন্য সবাই মিলে একসাথে যুদ্ধ করি  I

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিজ্ঞাপন