চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতন: ওসিসহ ৫ জনকে বরখাস্ত করে ব্যবস্থার নির্দেশ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় তৎকালীন ওসি, এসআই, এএসআই, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এক চৌকিদারকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ওই ঘটনার পর জারি করা স্বতঃপ্রণোদিত রুল যথাযথ ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো.কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের সেপ্টেম্বরে বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা নির্যাতনের সে ভিডিও চিত্র ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ওই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এনিয়ে গণমাধ্যমে আসা ঘটনার প্রতিবেদন পরে আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।

এবিষয়ে শুনানি নিয়ে গত বছরের ৫ অক্টোবর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ অন্তবর্তীকালীন আদেশ দেন। আদালত তার রুলে নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে রক্ষায় ও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অবহেলায় বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও থানার অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চান। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা ঘটনার ভিডিও সরিয়ে ফেলতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ওই নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানকার স্থানীয় ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণে পুলিশ প্রশাসনের কোনো অবহেলা আছে কি না, তা অনুসন্ধান করতে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন আদালত। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির এসংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। সে প্রতিবেদনের দেখে শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে গণমাধ্যমের খবর নজরে এনে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অনীক আর হক। এছাড়া শুনানি করেন বেগমগঞ্জের মেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশিদা চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন