চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিপন্ন হাতি রক্ষায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন সংশোধন দাবি

বিপন্ন এশিয়ান হাতি রক্ষায় বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ সংশোধনের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। ‌

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে অব্যাহত বন্যহাতি হত্যা বন্ধে উদ্যোগ এবং হাতি হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও করা হয়।

‘প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষায় সম্মিলিত আন্দোলন’র ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানবন্ধনে অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, কবি, শিল্পী, পরিবেশবাদী ও সামাজিক এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে জানানো হয়, গেল এক বছরে দেশে প্রায় ২২টি বন্যহাতি মারা গেছে। এরমধ্যে চলতি মাসে মারা গেছে চারটি হাতি। মারা যাওয়া হাতিগুলোর বেশিরভাগকেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।

বক্তারা বলেন, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত হাতিগুলোকে গুলি করে, বিষ প্রয়োগ এবং বৈদ্যুতিক শক দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এভাবে বাংলাদেশে হাতি হত্যা ও মারা যেতে থাকলে শিগগিরই এ দেশ থেকে প্রাণীটি বিলুপ্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই হাতি সংরক্ষণকে অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হাতি সংরক্ষণের উদ্যোগগুলোর কার্যকারিতা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনে সংরক্ষণ কার্যক্রমকে ঢেলে সাজাতে হবে, তাহলেই ভবিষ্যতে হাতি সংরক্ষণ সম্ভব হবে।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ বন বিভাগ ও প্রকৃতি-প্রাণী সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সংস্থা-আইইউসিএনের সর্বশেষ ২০১৬ সালের হাতি জরিপের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, দেশে এশিয়ান বন্যহাতি রয়েছে ২৬৮টি। দেশের সীমান্তবর্তী পাঁচটি বনাঞ্চলে ৯৩ পরিযায়ী হাতি বিচরণ করে। এছাড়া সরকারি অনুমতিক্রমে দেশে পালিত হাতি রয়েছে ১০০টি। কিন্তু দিন দিন মারা যাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার এই সংখ্যা এখন কমছে।

এসময় হাতি সংরক্ষণে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো- চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে অব্যাহত বন্যহাতি হত্যা বন্ধের উদ্যোগ হিসেবে হাতি হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, বন্যহাতির প্রাকৃতিক চলার পথ, খাবার পানির উৎস গহীন বনের প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণসহ হাতির নিরাপত্তা, অভয়ারণ্যসহ বনে পর্যাপ্ত খাদ্য শৃঙ্খল নিশ্চিত করতে হবে, বন্যপ্রাণী ও হাতির নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ ও কর্তব্য অবহেলার ঘটনা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে ব্যর্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ সংশোধন করে হাতির বাণিজ্যিক ব্যবহার স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ও প্রাণী কল্যাণ আইন যথাযথ কার্যকর করতে হবে।