চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিজিএমইএ নির্বাচনে সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল নেতা ফারুক হাসান

সমৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখার অঙ্গিকার নিয়ে বিজিএমইএ নির্বাচনে সম্মিলিত পরিষদের পক্ষে সভাপতি পদ প্রার্থী হচ্ছেন জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান। তিনি বাংলাদেশে গ্রিসের সম্মানিত কনসাল জেনারেল এবং ডাচ-বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিবিসিসিআই) সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি পদে সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল নেতা হিসেবে প্রার্থী হবেন। ফারুক হাসান এর আগে বিজিএমইএর পরপর দুবার নির্বাচিত পরিচালক, পরপর দুবার সহসভাপতি এবং সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সম্মিলিত পরিষদের গত পর্ষদ ২০১৯ সালে যখন দায়িত্ব হস্তান্তর করে তখন তৈরি পোশাকের রফতানি ছিল ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছর সেটি কমে ২ হাজার ৭৯৪ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে ভোটাররা ভোট দিয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিলে হারানো রফতানি আয় ফেরানোই হবে সম্মিলিত পরিষদের প্রথম কাজ। তা ছাড়া পোশাক খাতের ভাবমূর্তি ইতিবাচক করতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সুতা ও কাপড়ের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে কারখানা মালিকরা ক্রয়াদেশ নিয়েও কাজ করতে পারছেন না। এই জায়গাতেও বিজিএমইএর কাজ করা উচিৎ। এছাড়া কৃত্রিম তন্তুর তৈরি পোশাকের রফতানি আয় বাড়াতে নীতি সহায়তা আদায়েও বিশেষ জোর দেয়া, কৃত্রিম তন্তুর পোশাক রফতানিতে ১০ শতাংশ সহায়তা দেয়া এবং পোশাক খাতের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখাটাই সম্মিলিত পরিষদের মূলমন্ত্র বলেও দাবি করেন সফল এ ব্যবসায়ী।

জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি ফারুক হাসান মনে করেন, তৈরি পোশাক রপ্তানি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। অন্য যেকোনো প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে আছে।

সরকার করোনাকালে যেসব সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে, তা যদি আরও কিছুদিন অব্যাহত রাখে, তাহলে আমাদের বাজার হারানোর আশঙ্কা নেই জানিয়ে চৌকষ এ ব্যবসায়ী মনে করেন, করোনায় মানুষ বাইরে কম বের হচ্ছে। বেশির ভাগ সময় ঘরে থাকার কারণে টি-শার্ট, ট্রাউজারের মতো ক্যাজুয়াল পোশাকের চাহিদা বেড়েছে। এসব পোশাক তৈরির ব্যাপারে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ শক্ত। তবে পিপিই গাউনের কাঁচামাল, অভিজ্ঞতা না থাকা ও আন্তর্জাতিক সনদ পেতে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে বাংলাদেশ করোনাকালে মাস্ক, পিপিই গাউনের মতো সুরক্ষাসামগ্রীতে একটু ধীর গতি হলেও বর্তমানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন অনেক উদ্যোক্তাই এসব পণ্য উৎপাদনের জন্য বিনিয়োগ করছে। তিনি আশা করেন সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশ ভালো করবে। ইতিমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানই অ্যান্টিভাইরালের মতো উন্নতমানের মাস্ক তৈরি করছে। রপ্তানিও হচ্ছে।

ব্যবসায়িক এ নেতা মনে করেন, বাংলাদেশ ২০২৪ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে গেলে তৈরি পোশাক রপ্তানি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। কারণ তখন বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাবে। এজন্য তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সরকারের উচিত হবে, করোনার কারণে এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও বাণিজ্য সুবিধা বজায় রাখার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। তবে এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশের আরও কিছুটা সময় নেয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।

বিজ্ঞাপন

নানামুখী চ্যালেঞ্জের পরও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশ্বের শীর্ষ দশ পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনায় স্থান পাওয়া ২৭টির মধ্যে বাংলাদেশের ১৪টি কারখানা জায়গা করে নিয়েছে। এটি বাংলাদেশের জন্য বিরাট সাফল্য বলে মনে করেন জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি মনে করেন, এতে কারখানাগুলো পোশাকের বাড়তি মূল্য না পেলেও দীর্ঘ মেয়াদের পরিবেশসম্মত ও জ্বালানি সাশ্রয়ী হয়েছে, যা কিনা দেশের জন্য খুবই কল্যাণকর। দেশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব কারখানাগুলোর ব্র্যান্ডিং করা গেলে পোশাকশিল্প নেতিবাচক ভাবমূর্তি থেকে বের হতে পারবে। তা হলে পোশাকের বাড়তি দামও পাওয়া যাবে বলেও মনে করেন তিনি।

সেই সাথে দীর্ঘদিন কাজের অভিজ্ঞতার উপর ভর করে ফারুক হাসান খুব দৃঢ়তা নিয়ে বলেন, বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে আলাদা সেল গঠন করে বাজার সম্প্রসারণের কাজটি খুব সুচারুভাবে করা জরুরি। এজন্য যারা ব্যবসার পাশাপাশি ২০-২৫ বছর ধরে বিজিএমইএর সঙ্গে কাজে অভিজ্ঞ, যারা নীতিসহায়তাসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় দক্ষদের বিজয়ী করতে পারলে বিজিএমইএর ভালো হবে বলে মনে করেন তিনি।

নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ প্রত্যয়ী ফারুক হাসান বলেন, আমাদের সম্মিলিত পরিষদ অতীতেও পোশাক খাতের নেতৃত্ব দিয়েছে খুব প্রশংসনীয়ভাবে। টিমওয়ার্কে বিশ্বাসী সম্মিলিত পরিষদে অভিজ্ঞ ও তরুণদের মিশেল আছে। এই প্যানেলে সবাই যোগ্যতার নিরিখেই এসেছেন। সুতরাং পুরো প্যানেলের জয় নিয়েই আত্মবিশ্বাসী এই ব্যবসায়ী নেতা।

ফারুক হাসানের মতে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ‘মেড ইন বাংলাদেশ উইথ প্রাইড‘ এই স্লোগান নিয়ে পৃথিবীর প্রায় ১৬০টির অধিক দেশে বাংলাদেশের লাল সবুজ-পতাকাকে সমুজ্জ্বল করেছে আমাদের পোশাক শিল্প। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করে পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হবে, এটাই আমাদের চ্যালেঞ্জ।

আগামী ৪ এপ্রিল দীর্ঘ ৮ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হবে বলে আশা করছেন তিনি। এ সংগঠনের ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৩৫টি পরিচালক পদে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের হয়ে লড়ছেন ৭০ জন প্রার্থী। নির্বাচন ঘিরে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়াণগঞ্জ ও গাজীপুরের অভিজাত হোটেল এবং ক্লাবগুলো প্রচারণায় সরগরম। পাশাপাশি প্রভাবশালী ভোটারদের বাসা ও অফিসগুলোও এখন প্রার্থীদের পদচারণায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। অতীতের মতো এবারও সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম নামের চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেলের প্রার্থীরা ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি- বিজিএমইএ নির্বাচন বোর্ড ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী- ঢাকায় হোটেল র্যা ডিসন ব্লুতে এবং চট্টগ্রামে বিজিএমইএ আঞ্চলিক কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ঢাকা অঞ্চলে ১ হাজার ৮৫৩ জন এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৪৬১ জন ভোটার রয়েছেন।