চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাস শূন্য রাজধানীতে ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ

‘৪৫ মিনিট ধরে অপেক্ষায় আছি, ব্যবসার কাজে যাত্রাবাড়ী যাব। কিন্ত বাসের দেখা নেই, কি কারণে বাস পাচ্ছিনা তাও জানিনা।’ কথাগুলো বিরক্তি নিয়ে বলছিলেন মিরপুরের লিয়াকত আলী। শুধু লিয়াকত নয় এমন প্রশ্ন ছিল বাসে যাতায়াত করা রাজধানীর অধিকাংশ যাত্রীর। যদিওবা দু’একটি বাস আসছিল তাও ছিল যাত্রীতে পরিপূর্ণ।

এর কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, সিটি করপোরেশন নিবার্চন উপলক্ষে রাজধানীতে মোটরসাইকেল ও ছোট যানবহন চালানো নিষেধাজ্ঞা থাকায় যাত্রীবাহী বাসের ওপর চাপ বাড়ে। এছাড়াও নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশের জন্য গত কয়েকদিনে হাজার হাজার গণপরিবহন রিকুইজিশন করা হয়েছে। আবার রিকুইজিশনের অতঙ্কে রাস্তায় বাস নামাননি অনেক মালিক। এসব করণে সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী প্রায় গণপরিবহন শূন্য হয়ে পড়ে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা শাখার যুগ্ন কমিশনার মনিরুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমরা সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য কিছু গাড়ি রিকুইজিশন করেছি। কারণ পুলিশের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত বাস নেই।

তবে যাত্রীরা বাস না পাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি মালিকদের দায়ী করে বলেন, অনেকেই রিকুইজিশনের ভয়ে রাস্তায় বাস নামাননি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিখর পরিবহনের নামে চলাচল করা পরিবহন সংস্থার ৪২ টি বাস রয়েছে। এরমধ্যে গত কয়েকদিনে ৮টি বাস রিকুইজিশন করা হয়েছে। এছাড়াও বিহঙ্গ পরিবহনের ৬০ টির মধ্যে ৬টি,  ইউনাইটেড পরিবহনের ৬০ টি বাসের মধ্যে ৮টি বাস রিকুইজিশন করেছে পুলিশ।

Advertisement

ইউনাইটেড পরিবহনের নিবার্হী পরিচালক মো. সামাদ বলেন, অনেক বাস রিকুইজিশন করা হয়েছে। তবে অনেকেই রিকুইজিশনের ভয়ে গাড়ি নষ্টের অজুহাত দিয়ে গ্যারেজে রেখে দিয়েছেন।

সরকারের কাজে কেনো রিকুইজিশনে গাড়ি দেন না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জেনে শুনে কি কেউ আর্থিক ক্ষতি করতে চায়? প্রতিদিন বাসের স্টাফদের যে টাকা দিতে হয় পুলিশ সেখানে দেয় মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকা। অনেক সময় তাও দেয়না।

রোববার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত সব ধরণের যান চলাচলের উপর  নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের নির্দেশে ঢাকা জেলা মেজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ১৯৮৩ সালের মোটর ভেহিক্যালস আধ্যাদেশের ৮৮ ধারায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

একই নিষেধাজ্ঞায় ২৫ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে ২৯ এপ্রিল বেলা তিনটা পর্যন্ত মোটর সাইকেল চলাচলের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।