শিশুর সুস্থতা ও দ্রুত বেড়ে ওঠায় বাবার নিয়মিত সঙ্গদানের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পিডিয়াট্রিকস প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
এছাড়াও বলা হয়েছে, আমেরিকান বাবারা আগেকার যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন ছেলেমেয়েদের সঙ্গে অনেক বেশি সময় কাটান। সব সমাজেই, বাবারা সন্তানদের সঙ্গে যত বেশি সময় কাটাবেন, ততই ভালো, জানান প্রতিবেদনটির সহরচয়িতা এবং অ্যাকাডেমির শিশু ও পারিবারিক স্বাস্থ্যের মনোসামাজিক প্রেক্ষাপট বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ড. মাইকেল ইয়োগম্যান।
ইয়োগম্যান বলেন, ‘এটা শিশুদের জন্য খুবই উপকারি। শিশু লালনপালনে বাবারা ‘অতিরিক্ত’ কেউ নন। মায়েরা যা যা করেন, বাবাদেরও সেগুলো করা দরকার।’
এই গবেষণাসহ সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি গবেষণায় দেখা যায়, একটু বড় বাচ্চাদের সঙ্গে বাবারা নিয়মিত বেশি সময় কাটালে সেই বাচ্চাদের মধ্যে হতাশা ও আচরণগত সমস্যা তুলনামূলকভাবে কম দেখা দেয়। এছাড়াও এ ধরণের মেয়ে সন্তানদের মধ্যে কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের প্রবণতা কম থাকে।
ছোট বাচ্চাদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন বাবা। গবেষণাটিতে দেখা গেছে, বাবারা তাদের ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলার সময় নতুন নতুন শব্দ বেশি ব্যবহার করেন।
শুধু তাই নয়, বাবাদের খেলার ধরণও ভিন্ন। ইয়োগম্যান বলেন, ‘প্রচলিত ধারণা হলেও সত্যি, বাবারা তুলনামূলক রুক্ষ ধরণের খেলা খেলে থাকেন সন্তানদের সঙ্গে। তারা ছেলেমেয়েদের নতুন জিনিস করতে ও শিখতে এবং ঝুঁকি নিতে প্রেরণা দেন। যেখানে মায়েরা স্থিরতা এবং নিরাপত্তার অনুভূতি ও শিক্ষা দেন। শিশুর জীবনে দু’টোরই প্রয়োজন রয়েছে।’
তবে গবেষণায় ‘বাবা’ বলতে শুধু জন্মদাতা পিতাকেই নির্দেশ করা হয়নি। ইয়োগম্যান জানান, এখানে ‘বাবা’ বলতে বৃহৎ অর্থে সেই সব সম্পর্ককেই বোঝানো হয়েছে, যারা সত্যি সত্যিই শিশুর বাবা অথবা তার জীবনে বাবার জায়গা নিয়ে সেই ভূমিকাগুলো পালনের সুযোগ রাখেন। তিনি হতে পারেন শিশুর দাদা, নানা, চাচা, মামা, বড় ভাই বা এমন কেউও, যিনি শিশুর সঙ্গে একসঙ্গে বসবাস করেন না।








