চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাঙালি দর্শকের মুখে আবারও হাসি ছড়াবেন তারা

বিচ্ছিন্নতা বা অভিমান ছিলো না। দীর্ঘদিন পর আবারও সঙ্গে তারা…

শনিবার রাতে চঞ্চল চৌধুরী একটি ছবি শেয়ার করেছেন তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছবিতে আছেন নাট্যকার বৃন্দাবন দাস, নির্মাতা সালাহউদ্দিন লাভলু, শাহনাজ খুশী, আ খ ম হাসান ও চঞ্চল চৌধুরী। ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন- ‘এই হাসিগুলোই আবার আপনাদের মাঝে ছড়াতে আসছি আমরা, শুধুই আপনাদের জন্য… শুধুই বাংলা নাটকের জন্য।’

বোঝাই যাচ্ছে, নতুন কোনো কাজের উদ্যোগ! কিন্তু কী সেটা? ঘরকুটুম কিংবা সাকিন সারিসুরির মতো কালজয়ী কোনো নাটক? সে বিষয়টি জানতেই যোগাযোগ করা হয় নির্মাতা সালাহউদ্দিন লাভলুর সঙ্গে। তিনি যা জানালেন, তা শুনলে নিশ্চয় প্রিয় এই তারকা মুখদের ভক্ত অনুরাগীরা আহ্লাদে আটখানা হবেন!

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

হ্যাঁ, সত্যি সত্যিই আবার একসঙ্গে দেখা যাবে ‘সাকিন সারিসুরি’র নাট্যকার, নির্মাতা ও অভিনয় কলাকুশলীদের। এবং সেটাও একটি মেগাধারাবাহিক! যা নির্মাণের উদ্যোগ ইতিমধ্যে সম্পন্ন। ঘরকুটুম কিংবা সাকিন সারিসুরির মতো নতুন এই মেগাধারাবাহিকটিও দেখা যাবে চ্যানেল আইয়ে।

কথা প্রসঙ্গে চ্যানেল আই অনলাইনকে নির্মাতা সালাহউদ্দিন লাভলু জানালেন, নতুন এই মেগাধারাবাহিকটির প্রাথমিক আলাপআলোচনা চলছে। ১২০ থেকে ১২৫ পর্বের ধারাবাহিক হতে যাচ্ছে এটি।

এরআগে এই নির্মাতা চ্যানেল আইয়ের জন্য কাজ করেছেন ‘দ্য ডিরেক্টর’ নামের আরো একটি ধারাবাহিকের। যার পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। নির্মাতা জানালেন, এরপর জানুয়ারি থেকে চ্যানেল আইয়ের আরো একটি মেগাধারাহিকের শুটিং করতে যাচ্ছেন তিনি। নাম ঠিক না হওয়া সেই মেগাধারাবাহিকটির লেখক কাজী শহীদুল ইসলাম। এটির শুটিং শেষ হলেই বৃন্দাবনের লেখা মেগা ধারাবাহিকটির শুটিংয়ে যাবেন তিনি।

এদিকে বৃন্দাবন-লাভলু জুটির বহুল প্রতীক্ষিত নির্মিতব্য মেগাধারাবাহিকটির নাম ঠিক না হলেও এটি নিয়ে ব্যাপক আশাবাদী অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। এ নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে কথা বলেছেন তিনিও।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন পর ঘরকুটুম, সাকিন সারিসুরির পাত্রপাত্রীদের একসঙ্গে দেখা যাবে। কেমন লাগছে?
যারা আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি, আমিসহ বৃন্দাবন দা, লাভলু ভাই, মোশাররফ করিম, আখম হাসান, শাহনাজ খুশী, শামীম জামান- এরা প্রত্যেকেই কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চল থেকে এসেছেন। কাজের সূত্রেই আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠে, যুথবদ্ধতা তৈরী হয়। বিভিন্ন সময় দর্শক বা মানুষের মুখে কিংবা সংবাদে শোনা গেছে যে আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি, মনমালিন্য থাকায় একসঙ্গে আর কাজ করা হয়নি। ব্যাপারটা মোটেও তা নয়। আমাদের টিম কিন্তু ভাঙেনি। এটা আসলে সময়ের চাহিদা। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করেছি এটা সত্য; আবার এটাও সত্য যে- প্রত্যেকের নিজস্ব দর্শন বা পরিকল্পনা থাকবে। হয়তো সে কারণেই একসঙ্গে এতোদিন কাজ হয়নি।

প্রত্যেকে আলাদা আলাদা কাজ করলেও সবাই কিন্তু এখন প্রতিষ্ঠিত। আমরা একসঙ্গে কাজ না করলেও কিন্তু আমাদের কারো সঙ্গে বিচ্ছিন্ন সম্পর্ক ছিলো না। দেখা হতো, কথা হতো- পরস্পরের দেখা হলে কারো মধ্যে কোনো আন্তরিকতার অভাব ছিলো না।

এতোদিন পর কেন আবার একসঙ্গে সবাই মিলে কাজের উদ্যোগ?
গত সাত-আট বছর একসঙ্গে আমরা কাজ না করলেও ইনডিভিজ্যুয়ালি কিন্তু প্রত্যেকেই নিজেদের প্রমাণ করেছেন। লাভলু ভাই, বৃন্দাবন দা থেকে শুরু করে আমরা সবাই কিন্তু আমাদের জায়গায় এখন প্রুভড। আমাদের মনে হয়েছে, সবাই যদি এই সময়ে একসঙ্গে মিলে আবার কাজ করি, তাহলে আগের চেয়ে ভালো কিছু উপহার দিতে পারবো।

বাংলা নাটকের করুণ অবস্থা এখন। নিম্ন মানের কাজ দিতে দিতে টেলিভিশনগুলোর অবস্থাও নাজেহাল। সেই অবস্থায় কেউ যদি ব্লেম করে যে, ‘কই, নাটকের অবস্থা খারাপ হয়েছে, তোমরাতো একসঙ্গে কাজ করে সেই জায়গা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করো নাই?’- সেই ভাবনা থেকেই আমাদের এই নতুন প্রজেক্টের উদ্যোগ।

দর্শক আগের মতো মেগাধারাবাহিকটি দেখবে তো?
আমরা ভাঁড়ামো করে হাসানোর চেষ্টা করিনি। আমাদের নাটকে কমেডি থাকতো, কিন্তু সেটা সিরিয়াস কমেডি। পরিচ্ছন্ন একটা গল্প থাকতো। লোকে নাটক দেখে হাসতো, কাঁদতো- ইমোশন থাকতো, এখনের মতো আরোপিত ইমোশন না কিন্তু। সর্বোপরি দর্শক একটা মেসেজও পেতেন। এই ছিলো আমাদের বাংলা নাটকের ধারা। সেই ধারাটির অপব্যবহার হতে হতে এখন হাসির নাটককে ভাঁড়ামোর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গল্পের পরিচ্ছন্নতা নষ্ট করা হয়েছে। বিভিন্ন আজেবাজে বিষয়কে জোর করে নাটকের গল্পে আরোপের চেষ্টা হচ্ছে। অযোগ্য নির্মাতা, অভিনয় জানেন না এমন লোকজনকে দিয়ে অল্প পয়সা বা বিনা পয়সায় অভিনয় করিয়ে নিচ্ছেন। সর্বোপরি এই করুণ অবস্থা আমরা বিগত কয়েক বছর ধরেই লক্ষ করছি। সেই জায়গা থেকে বৃন্দাবন দা, লাভলু ভাইসহ আমরা সবাই মিলে ভাবছিলাম, এই সময়ে আমরা একটা চ্যালেঞ্জ নিতে পারি।

ঘরকুটুম কিংবা সাকিন সারিসুরিতে যারা ছিলেন, সবাইকে কি আবার একই নাটকে দেখতে পাওয়া যাবে?
এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ সেই সময়ে যারা আমরা কাজ করেছিলাম, সবাই এখন ইনডিভিজ্যুয়ালি প্রতিষ্ঠিত। তবুও আমরা আশা করছি, সবাইকে এই মেগাধারাবাহিকটিতে পাবো। কারণ আমাদেরও তো কিছু দায়বদ্ধতা আছে। ফিরিয়ে আনতে চাই টেলিভিশন নাটকের হারানো জনপ্রিয়তা। অন্তত এই সময়ে দাঁড়িয়ে সেই ফাইটটা দিতে চাই সবাই একসঙ্গে মিলে।  নতুন শিল্পীরাও যোগ দিবেন। বৃন্দাবন দা ১০ পর্বের মতো ইতোমধ্যে লিখেছেন। আমরা একটি ভালো কাজের জন্য অগ্রসর হচ্ছি, এবং সেটা বাংলা নাটকের স্বার্থে, বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের স্বার্থে- দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধ হয়ে।

বিজ্ঞাপন