চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাংলা সিনেমায় ইতিহাসের দিন

প্রাযুক্তিক পৃথিবীতে ‘থ্রিডি’ শব্দটি এখন আর কারো কাছে অপরিচিত নয়। থ্রিডি মুভি, অ্যানিমেশন কিংবা গেমসের সুবাদে সবার কাছেই অতিপরিচিত এই শব্দ। হলিউডের অসংখ্য থ্রিডি সিনেমা হয়তো রাজধানীর কোনো সিনেপ্লেক্সে বসে অনেকেই দেখে থাকবেন। তাদের কাছে হয়তো এই প্রযুক্তি এখন খুব সাদামাটাই। কিন্তু বাংলা ভাষায় কোনো সিনেমা কি এরআগে থ্রিডি প্রযুক্তিতে দেখেছেন কোনো দর্শক?

সরাসরি এর উত্তর ‘না’। কারণ বাংলা ভাষায় প্রথম থ্রিডি সিনেমা ‘অলাতচক্র’ যে মুক্তি পেল শুক্রবার (১৯ মার্চ)! সিনেমা নিয়ে আলোচনা থাকবে, থাকবে সমালোচনাও- তবে বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে প্রযুক্তির নতুন এই সংযোজনের কারণে এই দিনটি যে আলাদা করে উচ্চারিত হবে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই!

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

প্রখ্যাত সাহিত্যিক আহমদ ছফার আলোচিত উপন্যাস ‘অলাতচক্র’ অবলম্বনে একই নামে ছবিটি নির্মাণ করেছেন তরুণ নির্মাতা হাবীবুর রহমান।

যারা এতোদিন থ্রিডিতে অ্যাভেঞ্জার্স, অ্যাভাটর কিংবা জোরাসিক পার্কের মতো ছবি দেখেছেন- একইভাবে তারা ত্রিমাত্রিক চশমা পরে (থ্রিডি প্রযুক্তি নির্ভর হল) দেখছেন বাংলা ভাষায় নির্মিত অলাতচক্র! এটিকে এই সময়ে বাংলাদেশের সিনেমার মাইলফলক বলছেন কেউ কেউ।

উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে আগত অতিথিদের একাংশ

বিরল এই ইতিহাসের সাক্ষ হতেই বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে উপস্থিত হয়েছিলেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের গুণী কিছু ব্যক্তিত্ব। তরুণ নির্মাতার আমন্ত্রণে উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে উপস্থিত হয়েছিলেন পরিচালক জাহিদুর রহিম অঞ্জন, কবি সাজ্জাদ শরিফ, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, আকরাম খান, এন রাশেদ চৌধুরী, সিনে-আলোচক মইনুদ্দীন খালেদ, জোনায়েদ সাকি প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র আহমেদ রুবেল, জয়া আহসান, গাজী মাহতাব হাসান, শিল্পী সরকার অপু, নুসরাত জেরীসহ অন্যান্য কলাকুশলীরা।

উদ্বোধনী প্রদর্শনীর আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলেছেন ছবির নির্মাতা ও অভিনয় শিল্পীরা। এরমধ্যে আহমেদ রুবেল ও জয়া আহসান জানিয়েছেন, কেন এই সময়ে এসে ‘অলাতচক্র’ ছবিটি গুরুত্বপূর্ণ।

জয়া তার মন্তব্যে বলেন, যারা আহমদ ছফাকে পড়েছেন, এবং যারা তার সাহিত্য পড়তে ভালোবাসেন- তাদের এই ছবিটা অবশ্যই দেখা জরুরী। বাংলা ভাষাভাষি মানুষের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

বিজ্ঞাপন

নির্মাতা অমিতাভ রেজার সাথে ‘অলাতচক্র’ নির্মাতা হাবীবুর রহমান

জয়া বলেন, প্রথাবিরোধী একজন লেখক আহমদ ছফা, তার ব্যক্তিগত জীবনের অ্যাডাপটেশন এই ‘অলাতচক্র’ সিনেমাটি। তাছাড়া এটি দেশের প্রথম থ্রিডি সিনেমা। এরকম অনেকগুলো পয়েন্ট আছে ‘অলাতচক্র’ সিনেমাটি দেখবার।

সবাইকে ছবিটি দেখার অনুরোধ জানিয়ে জয়া বলেন, সবাই মিলে কষ্ট করে এই ছবিটি আমরা তৈরী করেছি, আমি অভিনয় করেছি, একজন নতুন নির্মাতার জন্ম হলো এবং যারা একটু অন্য ধরনের কাজ পছন্দ করেন- তারা প্লিজ হলে এসে অলাতচক্র ছবিটি দেখুন।

জয়ার সুরে কথা বললেন আহমেদ রুবেল ও। যাকে কোনো জনসমাগমে কখনো খুব একটা পাওয়া যায় না। তবে নিজের ছবিটি দেখতে বৃহস্পতিবার বিকেলে উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে এসে অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন তিনি। জয়ার মতো তাকেও পড়তে হয়েছে ছবি শিকারিদের পাল্লায়!

শুক্রবার (১৯ মার্চ) অলাতচক্র ছবিটি দেশের ১৭টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলো। রাজধানী ঢাকার মধ্যে বসুন্ধরায় অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্স, সীমান্ত সম্ভার, এস কে এস টাওয়ার, যমুনা ব্লক বাস্টার, শ্যামলী সিনেমা হলের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রেক্ষাগৃহগুলোতে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি।

এছাড়া ঢাকার বাইরে অলাতচক্র মুক্তি পেয়েছে নারয়াণগঞ্জের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিনেস্কোপ,  চট্টগ্রামের সুগন্ধা ও সিলভার স্ক্রীন, খুলনার সঙ্গীতা,  কক্সবাজারের স্কাই ভিউ, ময়মনসিংহের পূরবী, দিনাজপুরের মডার্ন, বরিশালের অভিরুচি, রংপুরের শাপলা, সাভারের সেনা অডিটোরিয়াম, জয়দেবপুরের বর্ষা এবং শ্রীপুরের চন্দ্রিমা সিনেমা হলে।

আহমেদ ও ক্যানসারে আক্রান্ত তায়েবার মধ্যকার অস্ফুট ভালোবাসা ও মানসিক টানাপোড়েনের গল্পই সিনেমাতে উচ্চকিত। ছুঁয়ে গেছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন কলকাতায় শরণার্থী শিবিরের প্রেক্ষাপটও।

মিজ অঁ সিনের এই নিবেদনে ছবিটি সরকারি অনুদানে নির্মিত।