চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘বাংলাদেশ কোয়ালিটি ক্রিকেট খেললেই আমি খুশি’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনেক প্রথমের সঙ্গে জড়িয়ে তার নাম। দেশের হয়ে টেস্টে প্রথম একশ উইকেট শিকারি, প্রথম ওয়ানডে জয়ের নায়ক। বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে টেস্ট ও ওয়ানডেতে হাজার রান স্পর্শ করা প্রথম বাংলাদেশি। বলছি মোহাম্মদ রফিকের কথা। বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে সব দলের বিপক্ষেই ধারাবাহিক সাফল্য যাকে এনে দিয়েছে তারকাখ্যাতি। ক্রিকেট ছেড়েছেন ২০০৭ সালে। বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে কাজ করেন। বাকি সময় কাটে ব্যবসার ব্যস্ততায়।

ক্রিকেট বোর্ডের কোনো দায়িত্বে না থাকলেও বাংলাদেশের ক্রিকেট থেকে একটুও বিচ্ছিন্ন নন রফিক। ম্যাচ উপভোগ করেন টিভিতে। অবসরে টাইগার ক্রিকেটের যেমন পাগল একজন দর্শক তিনি, তেমনি কখনও কখনও কঠোর সমালোচকও।

বিজ্ঞাপন

লাল-সবুজের জার্সিতে রফিক খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপ। প্রথমটি ইংল্যান্ডে, ১৯৯৯ সালে। ২০ বছর পর আবার ইংল্যান্ডের মাটিতে বসছে বিশ্বকাপ। বড় কিছু অর্জনের আশায় বিশ্বকাপের দেশে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। আসল মিশনে নামতে খুব বেশিদিন বাকি নেই। মাশরাফীদের প্রথম ম্যাচ ২ জুন, সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে। একে একে বাকি আট দলের সঙ্গে খেলবেন সাকিব-তামিমরা।

অংশগ্রহণকারী দল কমিয়ে (১০ দল) লিগ পদ্ধতিতে প্রথম পর্ব আয়োজন করতে যাচ্ছে আইসিসি। লম্বা সময় ধরে চলবে খেলা। বিশ্বকাপের এই ফরম্যাট বাংলাদেশের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করেন রফিক। সাবেক এ ক্রিকেটার চ্যানেল আই অনলাইনকে বললেন এমন কথাই।

‘বড় দলের জন্য সুযোগ কিন্তু বেড়ে গেল। আগে যেটা হত, বড় কোনো দল হঠাৎ একটা-দুইটা ম্যাচে খারাপ করলেই গ্রুপপর্ব থেকে ছিটকে যেত এবং তাদের বিশ্বকাপই শেষ হয়ে যেত। এবার কিন্তু তেমনটা হচ্ছে না। সবার সঙ্গে সবার খেলা। ৯টা করে ম্যাচ। কেউ শুরুতে খারাপ খেলে ফেললেও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকছে। যেটি বড় দলের পক্ষেই বেশি সম্ভব।’

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ দলকে ঘিরে রফিকের প্রত্যাশা আদর্শ ক্রিকেট, ‘আমি কোয়ালিটি ক্রিকেট দেখতে চাই। বাংলাদেশ কোয়ালিটি ক্রিকেট খেললেই আমি খুশি। কোয়ালিটি ধরে রাখার চেষ্টা করে একটা একটা করে ম্যাচ এগিয়ে যাবে, এমনটাই আশা করি। ভালো খেলতে থাকলে জয় অবশ্যই আসবে। যদি বলি আমি চাই বাংলাদেশ দলকে সেমিফাইনালে বা ফাইনালে দেখতে, তাহলে সেটি বলার জন্য বলা হবে। তবে এটা ঠিক, বাংলাদেশ যেমন দল তাতে ভালো খেলতে থাকলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।’

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতে ফুরফুরে মেজাজেই বিশ্বকাপের দেশে পা রেখেছে বাংলাদেশ। লেস্টারে চলছে অনুশীলন ক্যাম্প। ইংল্যান্ডের মাটিতে ক্রিকেটের প্রতি বিশেষ মুগ্ধতার কথা জানাতে গিয়ে রফিক তুলে আনলেন কিভাবে খেললে সেখানে রান আনা সম্ভব।

‘ওখানকার মাঠে কিন্তু সোজা ব্যাটে রান করা কঠিন। খেলতে হয় সব সাইড শর্ট। থার্ডম্যান দিয়েও ছক্কা হয়। স্কয়ার অব দ্য উইকেটে খেলেই কিন্তু সবাই রান করে। বলের লেন্থও ভিন্ন। সুতরাং ইংল্যান্ডের কন্ডিশন, উইকেট বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেখানকার মাঠে যে খেলেনি সে বুঝবেই না ক্রিকেট আসলে কী! আমি নিশ্চিত বিশ্বকাপ খেলতে নামলেই ক্রিকেটারদের মাঝে অন্যরকম একটা অনুভূতি হবে।’

‘ত্রিদেশীয় সিরিজে আমরা জিতেছি, তাই বলে বিশ্বকাপ সহজ হয়ে যাবে এমন নয়। বিশ্বকাপ এমন একটা জায়গা যেখানে সর্বোচ্চ ইনটেনসিটি নিয়ে লড়তে হয়। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। সবাই সর্বোচ্চ শক্তি নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়বে। এখান থেকেই শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হবে। এখান থেকেই আগামীর তারকা বের হবে। খুব কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং একটা মঞ্চ।’ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে রফিক জানান বিশ্বকাপের ম্যাচে অপেক্ষায় থাকা চ্যালেঞ্জের কথা।

টাইগারদের বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে রফিক সন্তুষ্ট থাকলেও তার আশা ভবিষ্যতে দলের একটা পজিশনের জন্য দশজনের লড়াই চলবে। তাহলেই বাংলাদেশ ক্রিকেট যেতে পারবে পরের ধাপে।

‘বিশ্বকাপ দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই তো আগে থেকেই সেট। আমি মনে করি বড় দল হয়ে উঠতে একটি জায়গার জন্য দশজনের লড়াই করার সক্ষমতা থাকতে হবে। যেজন্য বিসিবিকে খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে। তাহলে হয়ত একদিন বিশ্বকাপ জিততে পারব। বিশ্ব ক্রিকেটে আমরা হয়ত পাঁচ-ছয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছি। এক-দুই-তিনের সঙ্গে সমান লড়াই করার পর্যায়ে আসিনি। সে জায়গায় পৌঁছাতে হলে অনেক ক্রিকেটার বের করতে হবে। সব খেলোয়াড়ের উপযুক্ত বিকল্প যেন থাকে। নিয়মিত ক্রিকেটারদের একজন-দুইজন বাইরে থাকলে যেন ভাবনায় পড়তে না হয়।’