চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাংলাদেশী শিল্পীদের নেপালে বিভীষিকার সেই মুহূর্তগুলো

ভেবেছিলেন এই হয়তো শেষ। দেশে থাকা প্রিয় মুখগুলোকে হয়তো আর দেখতে পাবেন না। ভক্তদের সামনে হয়তো আর দাঁড়াতে পারবেন না কোনোদিন। নেপালে ভূমিকম্পের সময় মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে এসেছেন বাংলাদেশের কয়েকজন অভিনয় শিল্পী।

বিজ্ঞাপন

নেপাল থেকে দেশে ফিরে চ্যানেল আই অনলাইনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দিলেন রুনা খান, কল্যান কোরাইয়া এবং নোমিরা।

গত ২৫ এপ্রিল নেপালে ভূমিকম্পের সময় শুটিংয়ের জন্য সেখানে অবস্থান করছিলেন তারা। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের একটি নাটকের শুটিংয়ের জন্য পাঁচদিন আগে শাহরিয়ার নাজিম জয়সহ নেপালে যান এই তিন শিল্পী। ইউনিটের সদস্য ছিলেন আরো কয়েকজন কলাকুশলী। নাটকটির পরিচালক শাহরিয়ার নাজিম জয়।

২৫ এপ্রিল শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন সবাই। ক্যামেরার সামনে তখন ছিলেন রুনা খান। শুটিং স্পট ছিলো নেপালের নাগরকোটের এক পাহাড়ের চূড়া।  হঠাৎ করেই কেঁপে উঠে পাহাড়টি। ভূমিকম্প হচ্ছে বুঝতে পেরে ভয় পেয়ে একেকজন ছুটে যান একেক দিকে। যে পাহাড়ের চূড়ায় তাদের শুটিং চলছিলো তা ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক উপরে। রুনা খান এক পর্যায়ে ওই পাহাড় থেকে পাশেই আরেকটি নিচু পাহাড়ের চূড়ায় নেমে যান। সেই পাহাড়ও ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিনশ’ মিটারের উপরে। এর মধ্যেই রুনার হাত-পা কেটে গেছে।

প্রথম দফা ভূমিকম্প থামার পর ইউনিটের সবাই এক হয়ে হোটেলে ফিরে আসেন। হোটেলে ফিরেই কোনোরকমে নিজেদের ব্যাগ আর পাসপোর্ট নিয়ে বের হয়ে পড়েন তারা। কিন্তু রাস্তায় উঠে দেখতে পান চারদিকে শুধুই ধ্বংসস্তুপ। যে টুরিস্ট স্পটগুলো সকালেও ছিলো মানুষের ভিড়ে পূর্ণ, ততোক্ষণে সেগুলো শুধুই ইট-বালুতে একাকার।

কোনোভাবে ৩০ কিলোমিটার দূরের নাগরকোট থেকে কাঠমান্ডু ফিরে আসেন তারা। পা ভেঙ্গে যাওয়ায় রুনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে বিদ্যুৎ না থাকায় এক্সরেই করা যায়নি। সেই অবস্থায়ই থাকতে হয়েছে তাকে।

রুনা বলেন, ওই হাসপাতালে তখন যেনো মৃত্যুর মিছিল। একের পর এক আহতদের নিয়ে আসা হতে থাকে। অন্য আহতদের আঘাত দেখে নিজেকে সুস্থই মনে হচ্ছিলো তার।

এর মধ্যে সারাটা দিন কোনো খাবার নেই, পানিও ছিলো না। একদিকে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ, অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় অচল সবকিছু। কারো সাথে তাই যোগাযোগও করতে পারছিলেন না তারা।

রুনার প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে তারা বাংলাদেশ দূতাবাসে যান। পরে সেখান থেকে নিজেদের পরিজনদের কোনোরকমে জানিয়ে দেন যে তারা বেঁচে আছেন।

বিমানবন্দরের পথে যখন রওনা হন তখনই আরেক দফা ভূমিকম্প। তাদের গাড়ি যেন ঢেউ তোলা নৌকার মত দুলছিলো। নোমিরা তখন দেশে থাকা মা-বাবার সঙ্গে কথা বলছিলেন। ভয়ে কথা বন্ধ হয়ে যায় তার। ভেবেছিলেন এই বুঝি সব শেষ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত  দেশে ফিরেছেন তারকারা।

বিজ্ঞাপন