চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ভিয়েতনামে রক্তদান কর্মসূচি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস এবং মুজিব বর্ষ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস হ্যানয়।

রোববার ভিয়েতনামের হ্যানয়ের বাংলাদেশ দূতাবাসের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ দূতাবাস হ্যানয়, ভিয়েতনামে ১০ জানুয়ারি ২০২১ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যমে মুজিব বর্ষ তথা বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। রাষ্ট্রদূত-সহ বাংলাদেশী ও ভিয়েতনামী বন্ধুগন অসহায় ও পীড়িতদের সাহায্যার্থে রক্তদান করেন।

এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ চ্যান্সারি ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটির সূচনা করেন।

দিনটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী অনুষ্ঠানে পাঠ করে শোনানো হয়। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যগণ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয় ।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রদূত দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতির পিতা পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বাঙালী জাতির মুক্তির জন্য দীর্ঘ ২৪ বছর সংগ্রাম করেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম সকল ক্ষেত্রেই তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসুরি তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গত বার বছরে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ এবং ইতোমধ্যে যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে, রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে আলোকপাত করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল। ২০৩০ সালের মধ্যে ’টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসটি স্মরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে তার অবিস্মরণীয় আত্মত্যাগকে স্মরণ করে বিশেষ এক মহতি ব্রত উপলক্ষ্যে ভিয়েতনাম কেন্দ্রীয় আর্মি হাসপাতালে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে এবং ভিয়েতনাম সরকারের সহায়তায় সেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রদূত নিজে রক্তদানের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা করেন।

দূতাবাসের কর্মচারি ও ভিয়েতনামের বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্গ স্বেচ্ছায় এই রক্তদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উল্লেখ্য বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম চেম্বার-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব চং দো।

রাষ্ট্রদূত-কে ভিয়েতনামের মিলিটারি হাসপাতাল-এর উপ-পরিচালক বিশেষ ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, রক্তদান একটি মহৎ মানবিক কাজ, এ কাজে এগিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যেমন আরো গভীর হবে, তেমনি স্বেচ্ছায় সংগৃহীত রক্ত অনেক পীড়িত ও অসহায় মানুষকে সহায়তা করবে।

রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে বলেন, এই কর্মসূচি বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি নিদর্শন হিসেবেও উল্লেখ্য। রক্তদান কর্মসূচি সমাপান্তে দূতাবাস-এর পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে মুজিববর্ষের লোগো সম্বলিত স্যুভেনির মগ উপহার দেয়া হয় এবং আপ্যায়ন করা হয়।