চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘ফুটবলে আর্জেন্টিনার সমর্থক তবে কট্টর নই’

‘ইউরোপের বাইরে যদি বিশ্বকাপ যায় তবে ব্রাজিলের সম্ভাবনা বেশি’

ফুটবল হচ্ছে শৈশবের প্রেম তার কাছে। সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে প্রতি শুক্রবার ছুটির দিনে ক্রিকেট এবং ফুটবল খেলেন গত দুই যুগ ধরে। এখন কিছুটা অনিয়িমিত। তিনি ‘স্বপ্নজাল’ পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম। ৮২ সাল থেকে বিশ্বকাপ ফুটবলের নিয়মিত দর্শক। ২০১৮ এর রাশিয়া বিশ্বকাপ তার দশম বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা।

চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে বিশ্বকাপ ফুটবল, দেশীয় ফুটবল, রাশিয়া বিশ্বকাপ, খেলাধুলায় রাজনীতি ও সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে কথা বলেছেন গিয়াসউদ্দিন সেলিম-

বিজ্ঞাপন

‘দশম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় ফেনী শহরে টেলিভিশনে প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল দেখি। ইতালি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। পাওলা রসির বিশ্বকাপ সেটি। ফুটবল যে কত সুন্দর হতে পারে তা তখন বুঝেছি। ইউরোপীয় ফুটবল দেখার সুযোগ তখন ছিলোনা। দেশে ছিল আবাহনী-মোহামেডান উন্মাদনা। কিন্তু দেশের বাইরের ফুটবল দেখার সুযোগই ছিল বিশ্বকাপ।’

এরপর এলো-৮৬। ম্যারাডোনা এবং আর্জেন্টিনা। তারপর থেকে আমি আর্জেন্টিনা সমর্থন করি ফুটবলে। তবে কট্টর সমর্থক নই। মানে পতাকায় বসবাস। হার মেনে নিতে না পারা। এগুলো না। আমি ভালো ফুটবলের সমর্থক। বিশেষ করে টোটাল ফুটবল। একসঙ্গে সবাই রক্ষণে যাবে আবার একসঙ্গে আক্রমণে। ছোটবেলায় ল্যাটিন ফুটবল ভালো লাগে। কারণ একক কিছু করার প্রবণতা থাকে। ড্রিবলিংয়ের আধিক্য। কিন্তু এখন টোটাল ফুটবলটাই আসল।

আবাহনী-মোহামেডান তথা দেশীয় ফুটবলের আশির দশকের উন্মাদনা এবং মান এখন ভাবাই যায়না। তবে আমার মতে স্কুল এবং ক্লাব ফুটবল অবকাঠামো ঠিক না করলে আমাদের ফুটবল আর কোমা থেকে জাগবেনা। শারীরিক সক্ষমতার একটা বিষয় প্রায় বলা হয় তা আমার কাছে ঠিক মনে হয়না। অবকাঠামো ঠিক হলে সক্ষমতাও আসবে। আমাদের মেয়েরা কিন্তু ফুটবলে দারুণ করছে। ছেলেদের ফুটবলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আগামী ২৫ বছরে সম্ভব হবে কিনা জানিনা তবে মেয়েদের ফুটবলে ভীষণ স্বপ্ন দেখি তারা বিশ্বকাপে খেলছে।’

(ঘড়ির কাঁটার দিকে) লিওনেল মেসি, নেইমার, ক্রিষ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং মেসুত ওজিল

নিজে ফরোয়ার্ডে খেলেছেন ‘স্পর্শের বাইরে’ নির্মাতা। খেলেছেন জেলা অনুর্দ্ধ ১৪ দলে। তাই পছন্দের তালিকায় ফরোয়ার্ডরাই থাকে। যার শুরুতে অবশ্যই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসির নাম। তারপর একে একে ব্রাজিলের নেইমার, পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং জার্মানির মেসুত ওজিল। রাশিয়া বিশ্বকাপে নতুন কোন তরুণ ফরোয়ার্ড বাজিমাত করবে বলে মনে করেন সেলিম। প্রথম ম্যাচে রাশিয়ার চেরিশেভ তার সে আশাবাদকে পোক্ত করেছে। লিভারপুলের সালাহ যে মিশরের ফরোয়ার্ড তার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন সেলিম।

খেলাধুলায় রাজনীতির প্রসঙ্গ উঠে আসে টেলিফোন আলোচনায়। এপার থেকে ওপারের চিন্তার গভীরতা অনুভব করা যায়। গিয়াসউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘রাজনীতির বাইরে কিছুই নেই। আর বিশ্বকাপ ফুটবল আমার কাছে পুরোটাই জাতীয়তাবাদী আয়োজন। এর প্রেক্ষাপটও বড়। রাশিয়াতেই দেখুন। সারা বিশ্ব থেকে কোটি মানুষ আসছে সমর্থনের পেটরা নিয়ে নিজের দেশের প্রতিনিধি হয়ে। আপাদমস্তকে। এর চাইতে বড় জাতীয়তাবাদী উন্মাদনা আর হয়না। যতই ভালো খেলার সমর্থক হোননা কেন নিজ দলের জয় পরাজয়ে হাসি-কান্নাতো অবধারিত, তাইনা! ধরুন আপনি ব্রাজিলের সমর্থক। সুন্দর খেলে জিতল আর্জেন্টিনা। যতই সুন্দর সমর্থক হোননা কেন আপনি ব্রাজিলের পরাজয়ে কাঁদবেন।’

রাশিয়া বিশ্বকাপের উদ্বোধনী সাংস্কৃতিক পর্ব

রাশিয়া বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় নিয়ে অনেকের অনুযোগ রয়েছে। কিন্তু গিয়াসউদ্দিন সেলিম মনে করেন, ‘এটিই ঠিক হয়েছে। আমরা ফুটবল দেখতে চাই। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নয়। এবার যে সংক্ষিপ্ত আয়োজন তা আমার ভালো লেগেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন কিংবা ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্তিন্নো অথবা সাংস্কৃতিক পরিবেশনার যে সংক্ষিপ্ততা তা আমার কাছে ঠিক মনে হয়েছে।’

রাশিয়া বিশ্বকাপ শিরোপা ইউরোপে থেকে যাবে মনে করেন সেলিম। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে এবারের শিরোপাও ইউরোপে থাকবে কিন্তু ল্যাটিনে যদি বিশ্বকাপ যায় তবে ব্রাজিলের সম্ভাবনা বেশি। যদিও আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। কিন্তু ব্রাজিলের এবারের ডিফেন্স দারুণ শক্তিশালী মনে হয়েছে আমার। বাছাই পর্বে ওরা ৫টির বেশি গোল খায়নি।’

রাশিয়া বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ভাষণ দিচ্ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

এ নিয়ে এটি দশমবারের মত বিশ্বকাপ ফুটবল দেখা গিয়াসউদ্দিন সেলিমের। রাত জেগে খেলা না দেখলে সেই খেলা দেখার মজা নেই বলে জানান তিনি। এবারও সব খেলা দেখবেন বলে জানান মনপুরা নির্মাতা। খেলাধুলা নিয়ে বিশেষ করে ফুটবল নিয়ে অনেক ভালো সিনেমা রয়েছে। আমাদের ফুটবলেরও ব্যক্তিগত বর্ণাঢ্য চরিত্র রয়েছে কিংবা স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল-এর মত বিষয় রয়েছে। নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম ফুটবল নিয়ে কোন সিনেমা করবেন কি না প্রশ্নে বলেন, আপাতত এরকম চিন্তা মাথায় নেই। ‘অপারশেন জ্যাকপট’ শেষে ভাবব।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নৌযুদ্ধের গৌরবময় অধ্যায় ‘অপারেশ জ্যাকপট’ নিয়ে সিনেমা করছেন গিয়াসউদ্দিন সেলিম। ১৬ আগস্ট মহরত এর মাধ্যমে শুরু হবে সিনেমার শুটিং পর্ব।

Bellow Post-Green View